বৃত্তহীন (১ম পর্ব)
বৃত্তহীন (২য় পর্ব)
বৃত্তহীন (৩য় পর্ব)
মুগ্ধ চোখে দেব্-এর চিঠি দেখছে আনীলা । মনে হলো গোলাপী খামের ভেতর শুভ্র-সাদা অপসেট কাগজে পরম যত্নে ভাঁজ করা চিঠি । প্রতিটি ভাঁজে দেব্-এর স্পর্শ । কিছুটা উত্তেজনা আর প্রচন্ড ভাল লাগা কাজ করছে তার মধ্যে । সারাদিনের অপেক্ষার কষ্ট নিমিষেই চলে গেল । খুব ধীরে ধীরে মনে মনে দেব্-এর তৃতীয় চিঠির ভাঁজ খুলে পড়তে শুরু করল । দেব্ লিখেছে...
ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল যাচ্ছিলাম জয়ন্তী ট্রেইনে ।
শেষ বিকেল...
জানলা দিয়ে দেখছিলাম ধানক্ষেত , গ্রাম , কাকতাড়ুয়া...
হঠাৎ ট্রেইন থামল একটা অচেনা স্টেশনে
থামার কথা ছিল না
অখ্যাত স্টেশন...
তারপরও থামল অজানা কারণে ।
আমার কি মনে হলো...কে জানে
নেমে পড়লাম................
দরিয়ানগর
ইট-সুরকির রাস্তায় হাঁটছিলাম
সত্যিকথা কি, তোমার কথা মনে পড়ল !
তুমি কোন চিঠি লিখেছ কিনা দেখতে পারছি না
ল্যাপটপে চার্জ নেই ।
হাঁটতে হাঁটতে একটা বাড়ির আঙিনায় দাঁড়ালাম । এক বৃদ্ধলোক বেরিয়ে এলেন , জানতে চাইলেন আমি কে...
কি বলব ? একটু অপ্রস্তুত আমি । বানিয়ে মিথ্যে বললাম-'' আচ্ছা নীলদের বাড়ি কোন দিকে বলতে পারেন প্লিজ ? অনেক আগে একবার এসেছিলাম । এদিকেই মনে হচ্ছে...ঠিক খেয়াল করতে পারছিনা । ''
বললেন, '' কোন নীল ?''
'' নীল...আমার বন্ধু নীল । বিবিএ তে পড়ে । দেখতে খুব সুন্দর...''
চেনেন না বলে ভেতরে চলে গেলেন ।
অন্যপথে হাটলাম...
সন্ধ্যার পর একটা দোকানে লাল বড় জিলিপি ভাজচ্ছিল, চারটা খেলাম সাথে দু'টো পরোটা ।
তারপর আবার স্টেশনে ফিরে এলাম । মাঝবয়সী স্টেশন-মাস্টার খোয়াবনামা পড়ছিলেন । ট্রেইনের খোঁজ নিলাম ।
নাহঃ নেই...
পরদিন একটা লোকাল ট্রেইন আছে সকাল সোঁয়া ন'টার দিকে ।
সব শুনে স্টেশনের একটা বিশ ফিট বাই আঠার ফিট ওয়েটিং রুমে রাতে থাকতে দিলেন । স্টেশন-মাস্টারের রুমে ল্যাপটপটা ঘন্টাখানিক চার্জ দিয়ে নিলাম । ফেইসবুক খুলতেই দেখি তোমার চিঠি । তোমার চিঠির শেষ কথাগুলোর উত্তরে বলছি- না নীল... আমরা অতিত নই ।
আবার বর্তমানও নই ।...
মশার কামড়, ভ্যাবসা গন্ধ , উটকো ঝামেলার ভয়...ঘুম আসবে বলে মনে হচ্ছে না ।
তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে !
আমাদের দেখা হবে কবে নীল ?
আহাঃ আমরাতো ইচ্ছে করলেই-
দিগন্তের দিকে চলে যাওয়া পথে হাঁটতে পারি
ভাগ করে নিতে পারি আনন্দ-বেদনা ।
কাল সকালে ঠিক সময়ে ট্রেইন এলে ঢাকায় ফিরব
তোমার কাছে...
দেব্ কি সত্যিই শ্রীমঙ্গল গিয়েছে ? এই শীতের মধ্যে অচেনা জায়গায় যাওয়ার মানে কি ? এত রাতে ওরকম জায়গায় বিপদ হতে পারে ! খুব চিন্তা হলো আনীলার । ভাবল, সেল নাম্বার থাকলে আচ্ছা করে বকুনি দিত । অচেনা গাঁয়ে দেব্ তার বাড়ি খুঁজেছে ভেবে আবার তার হাসিও পাচ্ছে । দেব্-এর জন্য এত দুঃচিন্তা করছে ভেবে নিজের কাছেই খুব অবাক লাগল । সে কি কাব্য-খেলা খেলতে গিয়ে সত্যি সত্যি প্রেমে পড়ে গেল ? প্রেম হয়ে গেলে কি হবে এর পরিণতি ? কারণ তার থেকে দেব্ বয়সে অনেক বড় । নাম থেকে বোঝা যায় দেব্ অমুসিম । ধর্মের ব্যাপারে দেব্-এর ফেইসবুক প্রোফাইলে লেখা সিকিওলারিস্ট । ভালোবাসার ক্ষেত্রে ধর্ম কে বাঁধা মনে করে না আনীলা । তা না হলে অনূপ কে ভালোবাসতে পারত না সে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই অসম ধর্মই তাদের দু'জনের ছাড়াছাড়ির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল । সেসব দিনের কথা মনে পড়লে এখনো বুকের মধ্যে কান্নার ঝড় বয়ে যায় ! দেব্ কে চিঠি লিখতে হবে এসব পুরোনো কথা কেন ভাবছি আমি ? মনে মনে নিজেকে শুধালো আনীলা ।
সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে দেব্ কে চিঠি লিখতে বসল-
অচেনা গাঁয়ে আমার বাড়ি খোঁজা...
খুব হাসি পাচ্ছে কথাগুলো পড়ে ।
তুমি এক-একটা কিযে কান্ড কর.....
আমিও তোমার চিঠির আশায় ছিলাম । বার বার ইনবক্স চেক করে যখন পাচ্ছিলাম না তখন খুব ভয় হচ্ছিল
আবার না তুমি হারিয়ে যাও!
আচ্ছা দেব্
এমন যদি হত , দরিয়ানগরের ওই বৃদ্ধ আমার বাড়ি তোমাকে চিনিয়ে দিল আর তুমি মেঠো পথে হাটতে হাটতে আমার উঠনে এসে দাঁড়ালে...
সূর্য তখন ডুবি ডুবি
সন্ধ্যার ব্যস্ততা সেরে ঘরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালাম
আর অমনি আবছা আলোয় তোমাকে দেখে কতটা চমকে উঠতাম...ভেবে দেখ!
ভুত দেখার মত অনড়-স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি আমি...
ধীরে ধীরে দুরত্ব কমে এলো
তুমি ঠিক আমার সামনে
হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে ফেলব...
এইতো তুমি!
আমার দেব্...আমার সামনে দাঁড়িয়ে !
আবছা আলোয় সেই মুখ সেই চোখ...
আমি কাঁপছি....
আমি কাঁপছি দেব্......!
কেন যে ওখানে আমার বাড়ি হল না !
কতদিন পর আমাদের দেখা হয়ে যেত...
আমাদের দেখা না হওয়া সময়গুলো
আমাদের দেখে উপহাস করে !
উদ্দশ্যহীন পথ চলতে চলতে
অচেনা ঘরে নিজেদের কে খোঁজার চেষ্টা করি ।
আমরা কত ভাবে যে নিজেদের কে ঠকাচ্ছি...
আর কতদিন ?
শোন, এভাবে আর কখনো অচেনা জায়গায় নামবে না ।
এখনো যদি খামখেয়ালিপনায় চল তাহলে কেমন হবে !
নিজের প্রতি যত্ন নাও প্লিজ...!
এত যে মশা কামড়ালো
ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া হলে তখন কি করবে শুনি ?
আর এমন করবে না কথা দাও
ঢাকায় ফিরে আমাকে জানাবে...
আলোচিত ব্লগ
ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজকের ডায়েরী- ১৮৭

গতকাল হঠাত খুব গরম পড়লো।
ঢাকার মানুষ ঘেমে অস্থির। আমি নিজে অনুভব করলাম, চামড়া যেন পুড়ে যাচ্ছে। সকাল গেলো, দুপুর গিয়ে সন্ধ্যা এলো কিন্তু গরম কমে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিএনপি কেন “গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ” বাতিল করতে চায় ?

"গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের বিরোধিতা করলাম। এই অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত আমাদের এমন ধারণা দেয় যে বিএনপি গুমের মতো নিকৃষ্ট অপরাধের বিলোপ করতে উৎসাহী নয়। তারা কেন এটা বাতিল করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন
নিখোঁজ সংবাদ

কাজকর্ম, রোজা, ঈদ, ছুটি, গ্রামের বাড়ি - সকল কিছুর পরেও আমি মাঝে মাঝেই ব্লগ পড়ি, পড়ার মতো যা লেখা ব্লগে প্রকাশিত হচ্ছে কম বেশি পড়ি। এখন তেমন হয়তো আর... ...বাকিটুকু পড়ুন
রোগাক্রান্ত সাস্থ্য ব্যাবস্থাপনা
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কম—এটা সত্য, কিন্তু শুধু বাজেট বাড়ালেই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। বরং ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা—এই তিনটি জায়গায় শক্তিশালী সংস্কার সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে। নিচে বাস্তবভিত্তিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।