ফুটবল ও জাদুটোনা
২০ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ৭:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ফুটবল, ক্রিকেট ইত্যাদি খেলা নিয়ে আমাদের পাড়ার ছেলেদের সাথে পাশের পাড়ার ছেলেদের প্রায়ই প্রতিযোগীতা হতো। ক্রিকেটে ভাল করলে ও ফুটবলে মোটেই ওদের সাথে পেরে উঠতামনা। পরপর কয়েকবার ওদের কাছে হারার পর বিষয়টা রীতিমত আমাদের প্রেস্টিজ ইসু্য হয়ে গেল। ওই পাড়ার ছেলেগুলো আমাদের দেখলেই খোঁটা দিত। এই লজ্জা থেকে কিভাবে উদ্ধার পাওয়া যায় সেজন্য আমরা মিটিং বসালাম। আমাদের মধ্যে বয়সে সবার বড় ছিল খালেকভাই সে বলল "চল আমরা ছোক্ক বৈদ্য থেকে একটা তাবিজ নিই খেলায় জেতার জন্য"।
আমরা বললাম "এটা ও কি সম্ভব নাকি?"
সে বলল "দেখিই না কি হয়"।
মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল খালেকভাই বৈদ্যর সাথে কথা বলবে। পরদিন সে এসে জানাল "বৈদ্য বলেছে তাবিজ দিয়ে খেলায় জেতা সম্ভব। তাবিজের জন্য একুশ টাকা লাগবে"। আমরা রাজি হয়ে গেলাম। ওই পাড়ার ছেলেদের সাথে কথা বলে পরের শুক্রবারে খেলার সময় নির্ধারন করলাম। শুক্রবার দিন খেলতে যাওয়ার আগে খালেকভাই একটা শিশিতে করে বৈদ্যের কাছ থেকে কিছু পড়ানো সড়িষার তেল নিয়ে আসল। তার কথা মত আমরা সবাই তেল নিয়ে মুখে মাখলাম। তারপর খেলতে গেলাম। খেলা শুরুর পাঁচ মিনিটের মাথায় প্রথম গোলটা খেলাম। এর পর একে একে আর ও পাঁচ গোল। মনে মনে আমরা গালাগালি করে বৈদ্যের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করলাম। খালেকভাইয়ের চেহারা ও দেখলাম আমসত্বের মত হয়ে গেছে। খেলা শেষ হতে বিশ মিনিটের মত বাকি দেখলাম বৈদ্য মাঠের পাশদিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। অন্য সময় হলে হয়ত বৈদ্য কে একহাত দেখে নিতাম কিন্তু এখন কিছু বললে প্রতিপক্ষ বুঝে যাবে তাই কিছু বললাম না। পরের বিশ মিনিট যা ঘটল তা আমরা নিজেরা ও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না কিভাবে সম্ভব!!!!! একটা না দুইটা না সাতটা গোল দিয়ে ফেললাম। এবং শেষ পর্যন্ত আমরা জিতে গেলাম। আমার এখনো আবাক লাগে খেলাটা আমরা কি বৈদ্যের জাদুটোনার জন্য জিতেছিলাম নাকি শেষ বিশ মিনিট আমরা ভাল খেলেছিলাম??????
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি...
...বাকিটুকু পড়ুন
মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত...
...বাকিটুকু পড়ুন
১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু...
...বাকিটুকু পড়ুনআইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের...
...বাকিটুকু পড়ুন