somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রলাপ বুলি ।

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উদাসীন পৃথিবীতে স্বপ্ন দেখার কোন মানে হয় না যেখানে জীবন নাশের ঘন্টা বাজার সময় অনির্দিষ্ট । আসলেই কি অনির্দিষ্ট ঠিক তা নয় নির্দিষ্ট তবে ক্ষণ অজানা । তাই বলে আশা করতে মানা নেই যে এক যুগ অথবা এক শতাব্দি বেঁচে থাকার । এই আশা করাটার একটা বড় গুণ আছে তা হলো যে কোন কিছু প্রাপ্তিতে তৃপ্তি মেলে । কিন্তু ভালো তৃপ্তি কিংবা খারাপ তৃপ্তি পাওয়া সম্পূর্ণ নির্ভর করে মেনে নেওয়ার উপর । তবে এইজন্য ‘জীবন’কে কোনভাবেই দোষারোপ করা যাবে না কারণ সে ঘন্টা বাজার আগ পর্যন্ত বেঁচে থাকার সুবিধা দেয় বলা যায় একটা প্যাকেজ । তাই ‘আমার জীবন এমন কেন ?’ এই প্রশ্নোবোধক উক্তি দাঁড় করানো যুক্তিহীন । আবার সময়কেও গালি দেওয়া যাবে না কারন সে নিজের কাছে নিজেই প্রতিনিয়ত হারছে ।যদিও ‘সময়ের কাজ সময়ে কর’ এইরকম উপদেশ ব্যাপকভাবে প্রচলিত । কিন্তু এরও একটা অন্যরকম ব্যাখ্যা আছে তা হলো ‘সময় যেহেতো নিজেকে নিজেই ধরে রাখতে পারে না সেখানে জীবনকে ধরে রাখার ব্যাপারটা ‘শূন্যতা’ । তাই বুঝতে হবে সময়ের অপারগতার কারণ সিদ্ধ করতেই এই উপদেশ ।

মৃত্যু । সে তো জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ যাহাকে ছাড়া জীবনের সমাপ্তি সম্ভব নয় । মৃত্যু যেকোন সময় ঘটার একটি ঘটনার নাম । আয়নায় মুখ দেখে নিজেকে নায়কের মত ভাবতেই মৃত্যু আনন্দ নৃত্য করতে পারে । আবার চুরি কিংবা ডাকাতির চিন্তা করতেই হঠাৎ মৃত্যু এসে যেতে পারে । যদিও খারাপ কাজে লিপ্ত হতে অনেকেই চায় কিন্তু খারাপ কাজের অন্তর্ভুক্তিকালে কেউই মরতে চায় না ।এমনও হতে পারে, অতি আনন্দের মুহুর্তেও যে কারো জন্য মৃত্যুর হাতছানি চলে আসতে পারে । ইদানিং সেলফি তোলার সময়ও অনেকের মৃত্যু ঘরে এসে হাজির হয়েছে মিডিয়া সাক্ষী ।আবার কেউ কেউ মৃত্যুকে আয়োজন করেও ডেকে এনেছে তার উদাহরনও কম নয় । যদিও বলা হয়ে থাকে মৃত্যু এত সহজ ব্যাপার নয় কিন্তু কাঙ্খিত, অনাকাঙ্খিত এবং নিমন্ত্রিত মৃত্যু অহরহই ঘটছে, আগে-পিঁছে সবজায়গাতেই ।তথাপি দিব্বি জীবনের গান গেয়ে যাই হয়তো মরতে ইচ্ছে করে না বলেই সান্তনা খুঁজি ।

নিজের বেঁচে থাকাকে গালি দেওয়ার লোকও নেহাৎ কম নয় । বিপর্যয়ে থাকলে মরতে চাওয়া আর সুখে থাকলে বাঁচতে চাওয়া এই সূত্রও প্রমানিত হয়ে আসছে বহু আগে থেকে । সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্না, এই শব্দযুগলগুলোর মধ্যে প্রথম এবং শেষ অংশগুলো একে অন্যের সমার্থক । যারা প্রথম অংশের ভেতরে থাকে তারা মনে করে বেঁচে থাকার মধ্যেই সকল অর্থ নিহিত । আবার যারা দ্বিতীয় অংশের মধ্যে থাকে তারা মনে করে বেঁচে থাকার কোন অর্থ নেই । কিন্তু এই শব্দযুগলের মধ্যে এক অবাক সৌন্দর্য্য লুকিয়ে আছে তা হল এরা একে অন্যের পরিপূরক, একে অন্যের মাপকাঠি ।যেমন সবসময় আলো থাকলে অন্ধকার কি তা বোঝা যেত না আর সেই কারনে আলোর মর্যাদাও হানি হতো । তেমনি দুঃখ নামক শব্দটি না থাকলে সুখের অনুভূতি বোঝা যেত না । আসলে নেতিবাচক সময়গুলোর সৃষ্টি ইতিবাচক সময়গুলোকে মহিমান্বিত করার জন্য । তাই খারাপ মুহূর্তগুলোও জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ আর যেগুলো ছাড়া ভালো মুহূর্তগুলো বৃথা ।


নিজের খারাপ মুহূর্তগুলোর জন্য পারিপার্শিক অবস্থাকে দায়ী করাটাও অমূলক । কারন অন্যের স্বার্থের জন্য নিজের স্বার্থের অঙ্গহানী হওয়া যেমন সত্য তেমনি নিজের স্বার্থের জন্য অন্যের স্বার্থে আঘাত হানাটাও সত্য ।তবে কেন নিজের খারাপ অবস্থানের জন্য অন্যকে দায়ী করা ? তাহলে কি এখানেও মেনে না নেওয়ার হীনমন্যতা জড়িত? তথাপি জীবনের ভেতর একটা বোঝার জিনিস উপেক্ষিত থেকে যায় আর তা হলো ‘বাঁচার নির্দিষ্ট এই সময় গন্ডির ভেতরে যা ঘটবে সবই জীবনের অংশ’ । তাই হিসেব মেলানোর সময় একমুখীতার আশ্রয় নিয়ে হিসেবে ভুল করে ফেলা হয় ।জীবনের অংশকে ব্যতিরেখে অন্য সকল কিছু সুন্দরভাবে চালানোর ক্ষেত্রে লাভ বের করার খাতিরে ক্ষতির ঘরটাকে ভালোভাবে কষা হলেও শেষ পর্যন্ত কিন্তু লাভের ঘরটাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয় ।তবে জীবনকে সুন্দরভাবে চালানোর জন্য কেন এই হিসেবে ফেলা হয় না ? কেনইবা শুধু ক্ষতির হিসেবকে শক্তভাবে কষা হয় ? তবে কি খারাপের বান ধরে থাকাতেই স্বাচ্ছন্দবোধ ?

ভূমেরুক মাথায় একটা ছোট্ট টাওয়াল ঝুলিয়ে দেয় । এমনভাবে ঝুলিয়ে দেয় যেন দু’চোখ দিয়ে সামনে একটা খোলা দরজার মত দেখা যায় । তারপর সে তার জীবনকে দরজার ওপাশটায় রেখে ভাবতে শুরু করে । সে ভাবতে ভাবতে এই পর্যন্ত এসে পৌঁছে । সে এখন দেখছে কালো কালো কিছু ছায়া দরজা দিয়ে মাথা নিচু করে বের হয়ে যাচ্ছে । ভূমেরুক স্পষ্ট বুঝতে পারে এইগুলোই তার জীবনের এক একটা হতাশার মুহূর্ত কিন্তু তারা এখন বের হয়ে যাচ্ছে । কারন ভূমেরুক তার জীবনে বেঁচে থাকার সময়টুকু পুরোটাই মেনে নিয়েছে….
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০১৬ রাত ১১:৫২
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট টেলিফোন কম্পানি হলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



গত ব্লগে টেলিফোন নিয়ে বলেছিলাম। মোবাইল থেকে টেলিফোনে কল দেওয়া বা রিসিভ করা যেতো না। শুধু টিএনটি একটিভ করা সিমে টেলিফোনে কল করা যেতো। বা টেলিফোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×