somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ঔপন্যাসিক জিল্লুর রহমান
চোখের সামনে যেকোন অসঙ্গতি মনের মধ্যে দাগ কাটতো, কিশোর মন প্রতিবাদী হয়ে উঠতো। তার বহিঃপ্রকাশ ঘটতো কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে। ক্ষুধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে, নির্যাতন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কবিতা। তারপর গল্প, উপন্যাস। এ যাবত প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা-২১ টি।

রূপার বিয়ে-০৬

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লজ্জা, ঘৃণা আর অপমানে মুহিত যেন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। সে দিনের বেলা বাসায় থাকলে সবসময় কারো না কারো সঙ্গে কথা বলে, অনেক রাত পর্যন্ত ইয়াসমিনের সঙ্গে বলে কিন্তু আজ তার মুখে কোনো কথা নেই। উত্তরা থেকে ফিরে ইয়াসমিনের কাছ থেকে সবকিছু শুনে তার মুখের ওপর একটা গভীর কালো মেঘের ছায়া পড়েছে। এখন রাত বারোটা বাজে। সাধারণত এত রাত পর্যন্ত মুহিত জেগে থাকে না, আজ তার চোখে ঘুম নেই। ইয়াসমিন সেই যে সন্ধ্যা থেকে কাকে কাকে ফোন করছে তার কোনো শেষ নেই এখন সেও অনেকটা ক্লান্ত। কিন্তু ঘুম আসছে না, বিছানায় সেও ছটফট করছে।
মুহিত জিজ্ঞেস করলো, কী হলো?
কই কিছু তো হলো না, কাল ওকে নিয়ে ক্লিনিকে যেতে হবে। আগে এম.আর করা দরকার, তারপর যা হয় হবে।
কোন সমস্যা হবে না তো?
কী সমস্যা হবে?
ছোট মেয়ে এম.আর করতে গিয়ে যদি কোনো সমস্যা হয়?
আমি সে চিন্তা করছি না।
তো?
আমি ভাবছি হারুর কথা।
হারুর কথা বলতেই মুহিত চমকে উঠলো, ও তোমাকে তো একটা কথা বলতে ভুলেই গেছিলাম।
কী কথা?
হারু কাল ফোন করেছিলো।
ইয়াসমিন জিজ্ঞেস করলো, কী বললো?
বললো রূপার বিয়ে এক সপ্তাহ পিছিয়েছে।
ইয়াসমিন যেন প্রাণ ফিরে পেল, এমন একটা খবর তুমি আমাকে বলতে ভুরে গেলে? যাক বাঁচা গেলো।
কেনো?
এই এক সপ্তাহের মধ্যে রূপাকে সুস' করে তুলতে হবে। আল্লাহর অশেষ রহমত, রূপার বিয়েটা না পেছালে আরো কী যে হতো।
কী করবে এখন?
সবার আগে রূপাকে পাপ মুক্ত করতে হবে। পাপ মুক্ত!
মুহিত বিছানা থেকে উঠলো। ইয়াসমিনের মুখের দিকে তাকালো। আজ একদিনেই ইয়াসমিনের চেহারায় যেন বয়সের ছাপ পড়ে গেছে। দুশ্চিন্তাগ্রস্থ মুখ শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। মুহিত ইয়াসমিনের কপালে একটা হাত রাখলো। ইয়াসমিনও বিছানা থেকে উঠে বসলো। মুহিত কথাটা উপস্থাপন করতে গিয়ে একটা ঢোক গিললো, ইয়াসমিন তোমাকে একটা কথা বলতে চাচ্ছি?
আচ্ছা রূপা তো আমাদের সঙ্গে অনেক বছর থেকে আছে।
হ্যাঁ।
তুমি কি মেয়েটার কোনো খারাপ কিছু দেখেছো?
ইয়াসমিনের চোখের সামনে ফুটে উঠলো রূপার সুন্দর জ্বলজ্বলে, নিষ্পাপ একটা মুখ। এই মুখ ইয়াসমিন সাত-আট বছর থেকে দেখে আসছে। এই দীর্ঘ সময়ে রূপা কোনোদিন একটা মিথ্যা কথা বলেনি, যেকোনো বিষয়ে এতটুকু চালাকি করেনি। কোনোদিন খাবার পাতিল থেকে একটা দানা পর্যন্ত না বলে খায়নি, এই নিষ্পাপ মেয়েটিকে সে দোষারোপ করবে কীভাবে? আর তমাল? যাকে সে নিজের পেটে দশ মাস দশ দিন ধারণ করেছে, শৈশব থেকে তিল তিল করে লালন-পালন করেছে। নিজের আদর্শ দিয়ে মানুষ করেছে সে তার আদর্শকে এমনভাবে জলাঞ্জলি দিলো? তার মান-সম্মান এমনভাবে মিশিয়ে দিলো। এই ঘটনা যদি ফাঁস হয়ে যায় তবে তাদের সম্মান থাকবে কোথায়? আত্মীয়-স্বজন, মিডিয়া, নারী অধিকার সংগঠনগুলোকে তাদের বিরুদ্ধে উঠে-পড়ে লাগবে। এতো গেলো আইন আর সমাজের কথা। আর বিবেক? নিজের বিবেকের কাছে সে কী জবাব দিবে?
ইয়াসমিন না সূচক মাথা নাড়লো।
মুহিত সাহেব ইয়াসমিনকে কী যেন বলতে গিয়ে একটা ঢোক গিলে প্রসঙ্গ পাল্টালো, এত অল্প বয়সে মেয়েটা এতোবড় একটা ধকল সইতে পারবে?
তাছাড়া আর কী করার আছে?
মানে আমি বলছিলাম রূপা তো সুন্দর একটা মেয়ে আমরা যদি তমালের সঙ্গে ওর...
মুহিত কথাটা শেষ করার আগেই ইয়াসমিন রাগান্বিত চোখে মুহিতের দিকে তাকাতেই সে একটা ঢোক গিললো।

সকালবেলা বিছানা থেকে উঠেই ইয়াসমিন রূপার কাছে গেলো। ইয়াসমিনকে দেখে রূপা চমকে উঠলো, খালাম্মা।
ইয়াসমিন রূপার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো, তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে মা।
রূপা বুঝতে পারলো না। সে জিজ্ঞেস করলো, কেনো খালাম্মা?
তোকে আমার সাথে এক জায়গায় যেতে হবে।
কোথায় খালাম্মা?
এতো কথা জানতে চাবি না রূপা। আমার ওপর তোর বিশ্বাস নেই?
রূপা কিছুটা অনুমান করতে পারলো। সে মনে করেছিলো ইয়াসমিন তাকে খোলামেলা করে বলবে। কিন্তু সে একটু সাজিয়ে গুছিয়ে বলতে শুরু করলো, তুই তো বুঝতেই পাচ্ছিস আমরা সবাই তোর ব্যাপারটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আর কিছু প্রশ্ন কর্‌বি না মা, আমি যা যা বলছি ঠিক তা তা কর্‌বি। মনে কর আমি তমাল আর তোর দুজনেরই মা।
রূপা ইয়াসমিনের মুখের দিকে তাকালো, না ইয়াসমিনের চোখে মুখে কোনো চতুরতা নেই একটা অসহায়ত্ব আছে, দুশ্চিন্তায় এই এ’কদিনেই তরতাজা মুখটা কেমন শুকিয়ে গেছে। রূপা আর কথা বাড়ালো না।
এতক্ষণ ইয়াসমিন রূপার চৌকির এক কোণায় বসে কথা বলছিলো। এবার উঠে দাঁড়ালো, তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে মা। আমি আসছি।
চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৪৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৩

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট’ একটি বহুল ব্যবহৃত পরিচয়। সামাজিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিচয়ের কদর দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×