somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঋণের ভারে ন্যুব্জ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো ঋণের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে। নিজস্ব আয় না থাকায় বা উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে মূল্য ওঠাতে না পারায় বছরের পর বছর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চলছে এসব রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। রাষ্ট্রায়ত্ত ৩৯টি সংস্থা ও করপোরেশনের মধ্যে ২২টি সংস্থা ও করপোরেশনের ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ ২৮ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা।
বিশাল অঙ্কের ঋণের বিষয়ে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মির্জা আবদুল জলিল বলেন, করপোরেশনগুলো এ ঋণ গ্রহণ করে তাদের ব্যয়নির্বাহ কিংবা পণ্য কেনার জন্য। রাষ্ট্রায়ত্ত উৎপাদনশীল সংস্থা ও করপোরেশনগুলো ছাড়া সিংহভাগ সংস্থা তাদের মিল পরিচালনার জন্য ঋণ নেয়। মিলগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে প্রতি বছর ঋণ মঞ্জুর করে, কিন্তু বছর শেষে সে ঋণ আর পরিশোধ হয় না।
ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ঋণের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের সবচেয়ে বেশি ১০ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। সোনালী ব্যাংকে তাদের ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ ৪৮৩ কোটি টাকা, আর নন-ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৮২১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। জনতা ব্যাংকে ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ ৭৫২ কোটি টাকা, আর নন-ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংকে মোট ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। ১ হাজার কোটি টাকার কিছুটা বেশি ঋণ রয়েছে রূপালী ব্যাংকে। ঋণের এমন চিত্র সম্পর্কে বিপিসির চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান জানান, পর্যায়ক্রমে ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে। এ ঋণ বেশি দিনের নয়; মাত্র ৩ মাসের। তবে ফান্ড হাতে আসামাত্রই তা পরিশোধ করা হয়।
জানা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংস্থা ও করপোরেশনগুলোর সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৯০৯ কোটি টাকা, আর শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। জানা গেছে, এ সময় সোনালী ব্যাংকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৪৩৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আর শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। জনতা ব্যাংকের বকেয়া ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ২৩৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের বেড়েছে ১৭৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। রূপালী ব্যাংকের ৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা। আর বেসিক ব্যাংকের ৮৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
সংস্থা ও করপোরেশনগুলোর ঋণ গ্রহণের তালিকায় দেখা গেছে, উল্লিখিত ৫ ব্যাংকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ ২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা, আর শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ২০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৬১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের সোনালী ব্যাংকে ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ২১৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা। জনতা ব্যাংকে ঋণের পরিমাণ ৬৩৩ কোটি টাকা। আর বাকি তিনটি ব্যাংক মিলিয়ে এ করপোরেশনের মোট ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ৬ কোটি টাকা। বিসিআইসির ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসংক্রান্ত সংস্থা এবং করপোরেশনগুলোর ঋণের হিসাবে দেখা গেছে, এ সেক্টরের পাঁচটি সংস্থার ঋণের পরিমাণ ৭ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। এ ঋণের মধ্যে শুধু বিপিডিবি রাষ্ট্রায়ত্ত ৫ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ঋণ নিয়েছে ৭ হাজার ২২৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। যোগাযোগ সেক্টরের ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ২২৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আর বাণিজ্যিক খাতের তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ ১২৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আর নন-ফান্ডেড ঋণের পরিমাণ ১৬.৪৮ কোটি টাকা।
টিসিবির ঋণ সম্পর্কে মুখপাত্র হুমায়ন কবীর জানান, সময় সময় ব্যাংক থেকে টিসিবি নন-ফান্ডেড ঋণ গ্রহণ করে। বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য পণ্য আমদানির জন্যই মূলত এ ঋণ গ্রহণ করা হয়। বর্তমান সময়ে ঋণের পরিমাণ বাড়ার কারণ হচ্ছে, সম্প্রতি ২ হাজার টন তেল আমদানি করা হয়েছে। আমদানিকৃত পণ্য বিক্রি করেই ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা হয়। সময়মতো পণ্য বিক্রি করা না হলে সঠিক সময়ে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হয় না।

সূত্র: দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৩

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট’ একটি বহুল ব্যবহৃত পরিচয়। সামাজিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিচয়ের কদর দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×