-আজই দেখা হবার ছিল?
প্রশ্নটা'র উত্তর কি দেবো বুঝে উঠতে পারছি না। উত্তর জানা না থাকলে চুপ থাকাই শ্রেয়। আমি চুপ করেই আছি।
মেয়েটি মুখ ফিরিয়ে বললো
-কি ভাবছো?
-আজকের বিকালটা অন্যরকম সুন্দর
-প্রতিদিনই পশ্চিমে সূর্যাস্ত হয়
-বনলতা
-বলো
-এখনো বৃষ্টিতে ভেজো?
-জ্বর করে খুব
-জানালা খুলে দেখো না?
-কাক ঢুকে যায় ঘরে
-বদলে যাচ্ছো
-কৈ? এখনো তো নিয়ম করে সন্ধ্যায় মাথা আঁচড়াই
-শুনেছি, ক্যান্সারে সব চুল পরে গিয়েছিল
-চিলে কান নিয়েছে
-বনলতা
-শুনছি
-একটা প্রত্যাশিত ভোর পেতে চায় মন
এতক্ষণ পর সে আমার চোখে চোখ রাখলো। গাঢ় নীল চোখ, তাকিয়ে থাকা যায় না। ছলছল চোখ আমি নামিয়ে বললাম
-অন্তত একটা সন্ধ্যা
-অন্ধকার ভীতি আমার ছোটবেলার
-কেমন আছো?
-খারাপ থাকার কারণগুলো খুঁজে পাচ্ছি না
-সোনালি চুলে মানাচ্ছে না
-মানিয়ে চলতে ইচ্ছে করে না আর
-আর কতদিন?
বনলতা একটু হাসলো। দুর্বল হাসি... চূড়ান্ত দুর্ভিক্ষের মাঝে কেউ খাবার দেয়ার সান্ত্বনা দিলে পীড়িত'রা যেভাবে হাসে, অনেকটা তেমন। সেই হাসি ঠোঁটেই মিলিয়ে গেলে বললো
-হিসাব করি না আর
-কেন?
-মৃত্যুর অপেক্ষা করতে কেই বা চায় বল?
-এতোটা নিষ্ঠুর না হলেও হতো না?
-আমাকে বাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেবে?
-চলো
-না থাক। শুধু রিকশা ঠিক করে দাও
-সাথেই যাই
-তাহলে বরং আরো কিছুক্ষণ থেকেই যাই চুপচাপ
আমি উঠে দাঁড়ালাম।
রিকশা ঠিক করে বনলতা'কে বাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিলাম।
নতুন বছরের প্রথম দিনই আমাকে কাঁদতে হলো।
সবই বিধাতার ইচ্ছা।
বেঁচে আছি এটুকুই প্রাপ্তি....
#কথোপকথন-০৩
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৪:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



