somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বিএম বরকতউল্লাহ
পড়াশোনা করি। লেখালেখি করি। চাকরি করি। লেখালেখি করে পেয়েছি ৩টি পুরস্কার। জাতিসংঘের (ইউনিসেফ) মীনা মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড ২০১১ ও ২০১৬ প্রথম পুরস্কার। জাদুর ঘুড়ি ও আকাশ ছোঁয়ার গল্পগ্রন্থের জন্য অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০১৬।

পিঁপড়ে ও অহংকারী মাছি

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কোন এক দুরন্ত বালক বাজার থেকে একটা রসগোল্লা কিনে খেতে খেতে বাড়ি ফিরছিল। তার হাত গলে এক ফোঁটা রস পড়ে গেল রাস্তার ধারে। সেই মিষ্টি রসের গন্ধে ছুটে এলো একটা কালো পিঁপড়ে। সে মনের সুখে চেটে-চুটে খাচিছল রসটুকু। একটু খেতে না খেতেই ভন্ভ্ন্ করে উড়ে এসে জুড়ে বসল একটা মাছি। পিঁপড়েটা খুব বিরক্ত হলো। বলা নেই কওয়া নেই বেয়াড়া মাছিটা রস খাওয়া শুরু করে দিল। এ কেমন আচরণ!
পিঁপড়ে বলল, ভাই মাছি, একি করছ তুমি! রসটুকু যে খেয়ে ফেলছ, আমাকে তো কিছুই বললে না। এটা কি ঠিক হচেছ তোমার? আমি কত কষ্ট করে খুঁজে-টুজে বের করলাম এই রসফোঁটাটি।
মাছিটি তার অসংখ্য চোখ লাল করে তাচিছল্যভরে বলল, তুই কি আমাকে দাওয়াত করে এনেছিস যে তোর কাছে জিজ্ঞেস করে খেতে হবে? ভাগ এখান থেকে।
পিঁপড়ে বলল, অবাক কান্ড তো! ভদ্রতা বলতে কি কিছু নেই নাকি তোমার? আবার বলছ ভাগ এখান থেকে। বলি, তুমি ভাগবা না আমি ভাগব? গায়ের জোর দেখাও বুঝি!
মাছি বলল, গায়ের জোর দেখাব না তো কী? তোর চেয়ে আমার শক্তি অনেক বেশি। গায়ের জোর কি তুই দেখাবি, না আমি দেখাবো?

পিঁপড়ে বলল, শক্তির বড়াই করা ঠিক না। শুধু শক্তি দিয়ে সব কিছু হয় না। চলো রসটুকু দু‘জনে মিলেমিশে খাই। তুমি অর্ধেক খাও আর আমি খাই অর্ধেক। এবার হলো?
মাছিটি বলল, না, মোটেও হলো না। তোর কথায় যদি আমাকে তোর সমানই খেতে হয় তাহলে আমার আর মর্যাদা থাকে কই? জানিস না আমার যে শক্তি বেশি। তাই আমি খাব গায়ের জোরে আর তুই আমার কাছে চেয়ে-চিন্তে খাবি। দিলে খাবি আর না দিলে না খাবি, বুঝলি এবার? আমি পুরোটাই খাব। তোকে একটুও দেব না। বেশি প্যানপ্যান করবি তো পাখনা দিয়ে এমন ঝড় তুলব, যে ঝড়ের তান্ডবে তুলোর মত উড়ে যাবি তুই।
পিঁপড়ে সাহস দেখিয়ে বলল, এত গায়ের জোর দেখিও না। দেও, আমাকে অর্ধেক দেও -বলেই পিঁপড়েটি রসে চুমুক দিল।
মাছিটা পিঁপড়ের গালে গাট্টা মেরে বলল, বাঁচতে চাস তো সরে যা। নইলে এই রসের মধ্যে আস্ত পুঁতে ফেলব তোকে।
পিঁপড়ে মনের দুখে কেঁদে কেঁদে চলে গেল।

দুই
মাছিটি পাখনা দিয়ে হাত, মুখ, চোখ, পা মুছে-টুছে খুশি মনে বেশ আয়েশ করে রসে চুমুক দিল।
ব্যাপার কি? সেই কালো পিঁপড়েটি আবার ধেই ধেই করে এদিকে আসছে যে! তার পেছনে অসংখ্য পিঁপড়ের লম্বা বহর! রসের ফোঁটার চারপাশে এসে ওরা দল বেধে ঘুরতে লাগল। এই দেখে তো মাছিটি ভন্ভন্ আওয়াজ তুলে পেশিশক্তি দেখাতে লাগল। মাছিটি মল্লযোদ্ধার মত দাঁড়িয়ে চারদিকে সতর্ক চোখ ঘোরাতে লাগল।
পিঁপড়েটি মুখ বাড়িয়ে টিপ্পনি কেটে বলল, কী খবর মাছি ভাই। যুদ্ধ বাঁধাবে নাকি?
মাছিটি মুখ বাঁকিয়ে তাচ্ছিল্য করে বলল, যুদ্ধ? ছে ছে ছে! তোদের সাথে যুদ্ধ করে আমার সম্মানটুকু খোয়াব? পিঁপড়ে মেরে হাত কালা! আমার শক্ত পাখার বাড়িতে তোরা ছাইয়ের মত উড়ে যাবি। ভালোয় ভালোয় এখান থেকে চলে যা। আমাকে শান্তিতে রসটুকু খেতে দে। এই বলে মাছিটি রস খাওয়া শুরু করে দিল। এমন সময় কালো পিঁপড়েটি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে রসে চুমুক দিল। গোঁয়াড় মাছিটি পিঁপড়েটাকে ঠেঁসে ধরল রসের মধ্যে। ক্ষুদ্র পিঁপড়েটি গ্যাঁ গোঁ শুরু করে দিল। আর কোনো কথা নেই, ঐক্য, শৃঙ্খলা আর পরিশ্রমের ণিপুন কারিগর শতশত পিঁপড়ে চঞ্চল হয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলল মাছিটাকে। তারা চোখের পলকে চলবল করে মাছির হাতে পায়ে, বুকে-পিঠে, ও পাখায় চড়ে বসে কুটুস-কাটুস কামড়াতে লাগল। শুরু হয়ে গেল পিঁপড়ে মাছির জদ্দ-জিহাদ।

মাছিটি পালাতে চাইল কিন্তু পারছে না। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পিঁপড়ের কাছে নির্মম পরাজয় হলো অহংকারী মাছিটির।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ৮:২০
৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ সুবহানার বীরত্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:১০




সুবহানা খুব ছোট্ট হলেও, দারুণ মিষ্টি দেখতে,
চটপটে, বেজায় সাহসী , কেউ পারে না রুখতে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন দুপুরবেলা
অনাথ দুটি শিশু বসে করছিল কি এক খেলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×