somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফতেপুর উদিতি ক্লাবের ইতিকথা

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৯:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাটহাজারী উপজেলোর প্রবীনতম ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম, অনন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ফতেপুর উদিতি ক্লাব।হাটহাজারীর ঝঞ্জাবহ ইতিহাসের স্বর্ণাভ পাতায় ফতেপুর উদিতি ক্লাব এক উজ্জ্বল উপমা। হাটহাজারীর ক্রীড়াঙ্গনে এর মধ্যে অনেক ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান অপ্রতিরোধ্য হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। তারপর হয়তো কালের আবর্তে সকলের অগোচরে ইতিহাসের মিশকালো আঁধারে বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু ফতেপুর উদিতি ক্লাব তার চলার গতিতে ছিল দুর্বার। বার বার তার অস্তিত্বের ওপর আঘাত এসেছে, কিন্তু ক্লাব সম্পৃক্ত সকলেই একাত্মা একমন চেতনায় অশান্ত সমুদ্র মন্থন করেছেন। আজ থেকে একুশ বছর পূর্বে ১৯৯২ সালের ১লা আগষ্ট ফতেপুর ইউনিয়নের কিছুসংখ্যক ক্রীড়াপাগল সংগঠকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ফতেপুরের দুলাইরপাড়ায় উদিতি ক্লাবের গোড়া পত্তন হয়। গোড়া পত্তনরে সময় এই ক্লাবের নাম ছিল "উদিতি ক্রীড়া গোষ্ঠী"।প্রায় এক যুগ "উদিতি ক্রীড়া গোষ্ঠী" নাম নিয়েই ক্লাব তার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।২০০৪ সালে হাটহাজারী উপজেলা সমাজসেবা আফিসে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয় এবং নিবন্ধন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতায় ক্লাবের তৎকলীন কমিটি ক্লাবের নাম পরির্বতন করে নাম রাখে ফতেপুর উদিতি ক্লাব।
শুরুতে কিন্তু উদিতি ক্লাবকে যথেষ্ট প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তখন ক্লাবের নিজস্ব কোন কার্যালয় ছিল না। কখনও দুলাইরপাড়ার জিগ্‌গাপুকুর পাড়, কখনও মসজিদের উঠান অথবা তালতলার মাঠে অনুষ্ঠিত হতো ক্লাবের মিটিং, খোলা আকাশের নীচের এসব অস্থায়ী কার্যালয় থেকেই উদিতি ক্লাব পরিচালনা কবে ফতেপুর ইউ.পি. ফুটবল টুর্নামেন্ট, ভাষাশহীদ স্মৃতি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট,খয়রাতি মিয়া বলী স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, বদিউল আলম স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টসহ আরও আনেক বড় বড় টুর্নামেন্ট। অল্প সময়ের মধ্যেই উদিতি ক্লাব বিভিন্ন টুর্নামেন্ট এর সফল আয়োজক হিসেবে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ২০০৪ সালে উদিতি ক্লাবের এক যুগ পুর্তি উদযাপন করা হয় এক জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে, ফতেপুরের ইতিহাসে প্রথম বারের মত দেয়া হয় গুণীজন সংর্বধনা,প্রকাশিত হয় উদিতি স্মারক, রাতে হয় সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠান, সে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ।২০০৪ সালেই ফতেপুর উদিতি ক্লাব সমাজসেবা অধিদপ্তরে অধীনে নিবদ্ধিত হয়। নিবন্ধনের সময় উদিতি ক্লাবের ঠিকানা ছিল দুলাইরপাড়া মসজিদের পশ্চিমে ভাড়া করা একটি আস্থায়ী কার্যালয়।
২০০০ সালে ক্লাব কমিটি স্হায়ী কার্যালয় নির্মাণের উপযুক্ত জমি আনুমন্ধান করে। ক্লাব কমিটি মদনহাট জামতলাস্থ স্বাস্থ্য কমপ্রেক্স এর সামনে অব্যবহৃত ভূমিতে কার্যালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় । উক্ত জমিতে কার্যালয় নির্মাণের জন্য যথারীতি প্রশাসনের প্রয়োজনীয় অনুমোদনও নেওয়া হয়।কিন্তু একটি বিশেষ মহল উক্ত জমিতে কার্যালয় নির্মাণের বিরোধিতা করে । তবুও তৎকালীন কমিটির দৃঢ়চেতা মনোভাব, সাহসিকতা আর সদস্য শুভাকাক্ষীদের অনুদান ও সাহায্যে শত প্রতিকূলতা অতিক্রম করে মদনহাট জামতলাস্থ স্বাস্থ্য কমপ্রেক্স এর সামনে অব্যবহৃত ভূমিতেই উদিতি ক্লাবের স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণ করা হয়। কার্যালয় নির্মাণ সংক্রান্ত জটিলটায় বেশ কয়েক বছর ঘরোয়া আয়োজনে সীমাবদ্ধ থাকে ফতেপুর উদিতি ক্লাবের কার্যক্রম।
২০১১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় সামাজিক দায়বদ্ধতা উপলদ্ধি করে ফতেপুর ইউনিয়নের সকল চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থীদের নিয়ে ফতেপুর উদিতি ক্লাব আয়োজন করে "জনতার মুখোমুখি ২০১১" অনুষ্ঠান ।এই অনুষ্ঠানে ফতেপুর ইউনিয়নের সকল চেয়ারম্যান প্রার্থী ফতেপুরের সহস্রাধীক ভোটারের মুখোমুখি হয়। বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও জাতীয় প্রত্রিকা এই অনুষ্ঠান কভারেজ করে।
২০১২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ফতেপুর উদিতি ক্লাবের উদ্যোগে প্রথম বারের মত ফতেপুররের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংর্বধনা (২০১১ সালে অনুষ্ঠিত PSC,JSC,JDC,SSC ও HSC পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রী) প্রদান করে। মেধাবীদের উৎসাহিত করার এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসিত হয়। সংর্বধনা পরবর্তী হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠান ।
ক্রীড়াভিত্তিক উদিতি ক্লাব এসব আয়োজনের মাধ্যমে সমাজ সেবায়ও রাখে অসামান্য অবদান।
"ক্রীড়ায় রচিত হোক সেতুবন্ধন" এই স্লোগান নিয়ে ফতেপুর উদিতি ক্লাব পরিচালনা করে "উদিতি গোল্ডকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০১২","উদিতি গোল্ডকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০১৩","আন্তঃফতেপুর ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট ২০১৩" "লাল মিয়া কোম্পানি স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০১৩" । এসব সফল টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে ফতেপুর উদিতি ক্লাব খেলোয়াড় তৈরি ও খেলার সার্বিক মান উন্নয়নে বিশেষ দাযিত্ব পালন করেছে।
"দুলাইরপাড়া ফুটবল প্রিমিয়ার লীগ" উদিতি ক্লাবের একটি ঘরোয়া আয়োজন।প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে "দুলাইরপাড়া ফুটবল প্রিমিয়ার লীগ" অনুষ্ঠিত হয়। উদিতি ক্লাবের সদস্যরা ছয়টি দলে বিভক্ত হয়ে এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহন করে। এই টুর্নামেন্টে সিনিয়র-জুনিয়র ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব নিয়ে উদিতি পরিবারের সদস্যরা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।এর মধ্য দিয়েই উদিতি পরিবারে সাম্য,মৈত্রী ও সৌভ্রাতৃত্বের জয়গান ধ্বনিত হয়।
ক্লাবের সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদি এবং বার্ষিক বনভোজন অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য।
এভাবেই খেলাধুলার বিভিন্ন শাখায় খেলোয়াড় তৈরি থেকে শুরু করে হাটহাজারীর ক্রীড়ার উন্নতিকল্পে ফতেপুর উদিতি ক্লাবের ভূমিকা সমুজ্জ্বল। ফতেপুর উদিতি ক্লাবের এই অনন্য অবদানের পিছনে আছে নিবেদিত সংগঠকদের অফুরন্ত প্রচেষ্টা, খেলোয়াড়দের ঐকান্তিক সাধনা আর অগণিত ক্রীড়া অনুরাগী সমর্থক-ভক্তের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা। এই সবকে সম্বল করে এই মহান ব্রতকে সামনে রেখে একুশ বছরের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ফতেপুর উদিতি ক্লাব এগিয়ে চলেছে আগামী শত বছরের স্বর্ণাভ প্রান্তের দিকে।

মোহাম্মদ এনামুল হক
সহ-সভাপতি,ফতেপুর উদিতি ক্লাব।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ সকাল ৮:০৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×