somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বন্ধু বেলাল

০৭ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাবিতে আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিল বেলাল হোসেন। ছিল অসাধারন প্রতিভাদর এবং বুদ্ধিমান। ছিল বলছি, কারণ পড়াশুনার পাঠ কিছুদিন আগে চুকিয়ে ফেলেছি। তো যাই হোক, সে ছিল অলসের ঢেঁকি। ক্লাস না থাকলে ঘুম থেকে উঠত বাদ যোহর। সকালের নাস্তা যে কবে করছিলো আল্লাহ্‌ই মালুম। বেশীরভাগ সময় ক্লাস এ যেত আধ ঘণ্টা পর। কিন্তু কি আশ্চর্য!! কখনই স্যাররা তাকে বকাঝকা করতো না। ক্লাসের সবাই তাকে বলতো "লেইট লতিফ"। ক্লাসে বসেই তার মনোযোগ চলে যেত স্যারের লেকচারের মধ্যে। একবছর আগে বা তারও আগে কোন এক স্যার ক্লাসে কি বলেছিল তা সে অনর্গল বলে যেতে পারতো। আর আমরা বা বিশেষ করে আমি যদি না মনে করতে পারতাম তাহলে আমি বা আমরা হয়ে যেতাম বুদ্ধু, যদিও এটা সে মুখে বলতো না কিন্তু বোঝা যেত তার আচরণে। পরীক্ষার হলে তার প্রধান সম্বল ছিল ক্লাসে বলা স্যারের লেকচারগুলো। আগেই বলেছি, সে লেকচারগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনত এবং তাই লিখে আসতো। টার্ম পরীক্ষাগুলোতে আগের রাতে পড়তো। যদিও আমি তার চেয়েও কম পড়তাম। যাই হোক, পরীক্ষার ফলাফলে ওর বড়বড় নম্বর দেখে আমি অবাক হতাম। সবচেয়ে বেশি অবাক হতাম ওর অ্যাসাইনমেন্‌ট এর নম্বর দেখে। গ্রুপ অ্যাসাইনমেন্‌ট গুলো বেশীরভাগ সময়ে আমি অথবা অন্য গ্রুপ মেম্বাররা করতো। সে বলতে গেলে কিছুই করতো না। কিন্তু, সে আমার চেয়ে বেশি নম্বর পেত। কিন্তু, অ্যাসাইনমেন্‌ট গুলোতে একটু ভুল হলেই চলতো আমার উপর স্টিম রোলার। আমি নীরবেই মেনে নিতাম। এতো গেল একাডেমীক ব্যাপার সেপার। ওর হলে কখনই ফ্লেক্সিলোড থাকতো না। আমাকে ফোন করে বলতো ওর জন্য একটু যেন ফ্লেক্সি করি। পাঁচতলা থেকে নামতাম, আমার হলে ফ্লেক্সি না থাকলে পাশের হলে যেতাম, কখনও কখনও ফ্লেক্সি না পেলে কার্ড কিনে তার পিন নম্বর তা ওকে মেসেজ করতাম। কতদিন ভিসি চত্বরে ও আমাকে আসবে বলে আসতো অনেক পরে। ওর অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আমাকে করে দিতে হতো। অন্য বন্ধুরাও অনেক সাহায্য করতো। কিন্তু এতে একটু ভুল হলেই ও ভীষণ বকাঝকা করতো। কতদিন কত লোককে যে ও কতটা অপেক্ষায় রেখেছে আল্লাহ্‌ মালুম। ভাগ্যদেবী ওর দিকে বারবার মুখ তুলে তাকিয়েছে। হয়তো, ও অনেক বেশি প্রতিভাদর বলে। আর সেই প্রতিভা আর আল্লাহর অশেষ রহমতের ফলে আমার এই বন্ধুটি বিদেশ বিভুইএ পাড়ি দিচ্ছে। হয়তো আর আমাকে জ্বালাতন করবে না। হয়তো আর বকাঝকা করবে না। কিন্তু আমি তো তার এসব জ্বালাতন করা মিস করবো। যাই হোক, তুই ভালো থাক যেখানেই যাস না কেন। আমি হতভাগা রামছাগল এর চেয়ে আর কিই বলতে পারি। তোর সুস্বাস্থ্য সর্বদা কামনা করি।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ সুবহানার বীরত্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:১০




সুবহানা খুব ছোট্ট হলেও, দারুণ মিষ্টি দেখতে,
চটপটে, বেজায় সাহসী , কেউ পারে না রুখতে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন দুপুরবেলা
অনাথ দুটি শিশু বসে করছিল কি এক খেলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×