মাঝে মাঝে নিজেকে খুব ক্ষুদ্র মনে হয়।
মনে হয় লাইফে হয়তো আজও তেমন কিছুই পাইনি।আমার ওর মত এইটা নেই,ঐটা নেই।ওর বেশি কিন্তু আমার কম।
ইশশ!! আমি যদি ওর মত হতে পারতাম।ইশশ!আমি যদি আরেকটু ভালো পজিশনে থাকতে পারতাম।এরকম শত শত নাই নাই হাহাকারে সাতরে হাবুডুবু খাই প্রায়ই।
আচ্ছা, লাইফ তো একটাই, নাকি? মানুষের লাইফতো আর কিং অব ফাইটারস গেমের কিমের লাইফ না যে একটা লাইফ শেষ হলে কয়েন ঢুকালেই নতুন লাইফ পাব।মানুষের লাইফ একটাই।মাঝে মাঝে এটাও চিন্তা করি ওয়ার্ল্ডের যত বড় বড় সেলিব্রেটি আছেন তাদের জীবনটা কত স্বার্থক।
কিন্তু আমি!!
লাইফে তো অনেক খোয়ালাম, কিন্তু এ পর্যন্ত কি এমন করতে পেরেছি?? কজন মানুষই বা আমাকে চেনে।বাকি যতটুক লাইফ বাকি আছে তাতেও আহামরি তেমন কিছু করার খুব সম্ভাবনা নেই।
সুতরাং আমারলাইফ ব্যর্থ।আমি ব্যর্থ! এইসব ভেবে ভেবে হতাশার উনুনে গা পুড়াই।
কিন্তু আমি যখন বাসার নিচে ময়লা-ওয়ালা কে দেখি দাত কেলিয়ে বাঁশি বাজায়;বাইরে গেলে কাঠপোড়া রোদে দেখি দিনমজুরদের খোশগল্প;রিকশার প্যাডেলে দেখি খেটে খাওয়া মানুষের ঘর্মাক্ত পাদুকা;রাস্তার পাশে গড়িয়ে চলা ভিক্ষুক;মার্সিডিজ বেঞ্জের কালো গ্লাসে ভেসে ওঠা ফুল বিক্রির আশায় ছুটে আসা শিশুটার নিষ্পাপ হাসি;যখন দেখি টং দোকানদার মামার মুখে এক গাল পান আর চালু হাতে নাড়িয়ে চলা চা;যখন দেখি অন্ধ নামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধির ছড়ি হাতে পথচলা তখন সব ভুলে যাই।
সত্যি নিজেকে তখন অনেক বড় মনে হয়।
কি পেয়েছি জীবনে!এর পরিবর্তে স্থান পায়
কি পাইনি জীবনে?খুব হ্যাপি,খুব সন্তুষ্ট মনে হয় নিজের জীবন নিয়ে।
আসলেই তো!শহরের হাজার লোকের ভুয়া হাসির ভিড়ে এইসব পিওর হাসি আর হ্যাপিনেসগুলো আমরা কেউ কখনোই খুঁজি না।
খুঁজতে চাই না।কারণ আমাদের ছোটবেলা থেকেই এভারেস্ট সমান উচ্চতা দেখিয়ে দেয়া হয়।হাফপ্যান্ট কাল থেকেই রেজাল্ট খারাপ হলে বাবা মার মুখে পাশের বাসার ছেলের সাথে নিজের তুলনা শুনে বড় হয়েছি আমরা।আমাদের চোখে কি আর এইসব ছোটলোকের
হাসি খোঁজার টাইম আছে!!
যাই হোক,লাইফ নিয়ে হতাশা মাথা চাপলে আমি উপরের দিকে না তাকিয়ে নিচের দিকে তাকাই।এতে হতাশার চাপ কমে যায় অনেকখানি।নিজেকে অনেক হ্যাপি মনে হয় তখন।
আসলেই আমার আর কিছু না পেলেও চলবে,আমি আমার লাইফ নিয়ে অনেক
হ্যাপি।
সিরিয়াসলি........

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



