somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট গল্প: কারমিনা থ্যারাপি

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট গল্প: ♥ কারমিনা থ্যারাপি ♥

হকের মোড়ের শিপনের চায়ের দোকানে আড্ডা না দিলে আমার পেটের ভাত হজম হয়না।
রোজ বিকেলে আড্ডার আসর বসে এখানে, বরাবরের মতই প্রিয় সব বন্ধু দের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছি।

ঘুরে ফিরে বারবার আড্ডার টপিকস চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে, আমরা কখনোই সিরিয়াস হতে চাইলেও পারি না।

কথার মাঝেই মেয়ে নামক বস্তুটি ঢুকে পরত। আর এ নিয়েই শুরু হত যত সব রসালো আলাপ।

আমরা বন্ধুরা একেক জন একেক রকম হলেও এক ছিলাম বন্ধু যখন।


রাসেলের কথার ফাকে ফাকে সিগেরেটের ধোয়া সবথেকে বেশি আমি খাইতাম, যদিও আমি সিগেরেট কখনোই খাই নি।

আর শাওন তো পুরাই নির্বোধ বালকের মত, সবকিছুই না বোঝার ভান করত কিন্তু সে ছিল সবথেকে বুদ্ধিমান।

বয়সের তুলনায় শাওনকে অনেক ছোট দেখাত, বেচারা দিনে দুইবার শেভ করত তবুও তার দাড়ি উঠে না। কি আফসোস তার!!!!

মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে কিছু দাড়ি ধার দেই শাওনকে।

আর অংকুর ছিল নাম্বার ওয়ান প্রেমিক।
একটা দুটা নয় একসাথে চার পাচটাও চালাত সে।
মাঝে মাঝেই ভাবি ওর ওই কংকাল দেহ কিভাবে পারে???

তবে সে আমাদের কখনোই হতাশ করত না। যখনি কেউ সিংগেল থাকত তখনি সে কিছু একটা ম্যানেজ করে দিত।
ধলা -কালা, লম্বা -খাট এমন কিছুই বাদ নাই যা অংকুরের কাছে নাই।

এবার আসি চিরকুমার কারমানির কথায়,
বন্ধুর নামটা না হয় নাই বললাম।

কারন আমরা সবাই কারমিনা বলেই ডাকি।

বেচারা কারমিনা এত্ত ভীতু, সুন্দর বনের বাঘের থেকে বেশি ভয় পায় মেয়েদের।

সে নাকি একজনকে ভুল করে ভালবেসে ফেলেছে, কিন্তু এখন সে আর ভয়ে কিছুই বলতে পারছে না।

শেষমেশ আমরা সবাই মিলে মেয়ের কাছে প্রস্তাব দিলাম কারমিনার পক্ষ থেকে।
কিন্তু মেয়ে তো রাজি না।

পরের দিন তিন রাস্তার মোড়ে কারমিনাকে পেয়েই মেয়ে বলল তুমি নাকি আমাকে ভালবাস??

কারমিনা ভয়ে বলল কই না তো? তারপর এক দউড়ে রুম এ.........

এরপর যা হবার তাই হল। বেচারা কারমিনা ভুল করে কিংবা সজ্ঞানে আর কোনদিন প্রেমে পরেনি।
সে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে সে চিরকুমার থাকবে।

আমরা সবাই মিলে প্রেমবিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম।
সব ঘটনা শোনার পর লাভ গুরু বলল
উনার তো ক্ষুধা নেই?

আমরা তো অবাক!!
লাভ গুরু কি বলছে এসব, কারন ও যথেষ্ট খেতে পারত।

পরে অবশ্য লাভ গুরু খোলাসা করল ব্যাপারটা।

বলল উনার প্রেমের ক্ষুধা কমে গেছে আর উনার আরো একটা সমস্যা মেয়ে দেখলেই চোখে বাঘের ছবি ভেসে উঠে।

তারপর উনি একগাদা প্রেমপত্র দিল পড়ার জন্য সাথে লাভ চশমা ( যাকে দেখবে তাকেই পছন্দ হবে)
আর তিনটা প্রেমের কারমিনা সিরাপ।

সেই থেকে আমরা সবাই কারমিনা বলেই ডাকি।
কারমিনা খেয়ে কোন লাভ তো হয়েই নি উল্টা তার ভুরির সাইজটা বেড়ে গেছে।

আমাদের সনামধন্য রেলমন্ত্রীর চিরকুমার সভাপতির শুন্য পদে এবার কারমিনা ভাই নিয়োগ পেয়েছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।

সবার কথাই বলা হল, আমারটা হলই না।
অবশ্য বলার কিছুই নাই, মাস ছয়েক আগে প্রানপ্রিয়া চলে গেছে অন্যের হাত ধরে।

কারন হিসেবে বলছে কারমিনা যেন আমার বন্ধুর লিস্টে না থাকে।

এটা কি করে হয়!!!
আমি গারল্ফ্রেন্ড ছাড়তে পারি, কিন্তু বন্ধুকে ছাড়তে পারব না। কারন আমি বন্ধুদের খুব ভালবাসি।

অংকুরের কাছে আজ একটা অর্ডার দিতে হবে, এদিকে মা ও নাকি ছেলের জন্য বউ খুজতেছে।

চিন্তা করলাম সারাজীবন বাবা মাকে সাহায্য করতে পারি নি।
এবার না হয় তাদের বউমা খোজার দায়িত্বটা নিজের ঘারেই নিলাম।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভ্রমণব্লগ: আলোছায়ার ঝলকে এক অপার্থিব যাত্রা”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

মালয়েশিয়া আমার বেশ পছন্দের একটি দেশ। আমার জীবনের একটি অংশের হাজারো স্মৃতি এই দেশে। একটা সময় ছিল যখন এই দেশ ছিল আমার সেকেন্ড হোম।‌ এখন ও আমার আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোরআন-হাদিস মানতে বলার ওয়াজ একটি ভুল ওয়াজ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×