somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাউল আবদুর রহমান

২৭ শে মার্চ, ২০১৪ দুপুর ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাওড়-বাওড়, নদী-নালা, খাল-বিলের দেশ ভাটি বাংলা। এখানকার বিস্তীর্ণ জলরাশি, বিশাল আকাশ, ধুধু প্রন্তর আর গা জুড়ানো লিলুয়া বাতাস যে কোন মানুষকে উদাস করে। এখানে পানির কল কল ধ্বনিতে এবং পাখির কূজনে প্রতিদিন সূর্যোদয় হয়। সোনালী আলো বিশাল জলরাশির উপর পড়ে চিকচিক করে সারাটিক্ষণ।এখানকার হিজল, জারুল, বরুণ ঢোলকলমির সঙ্গে বেড়ে উঠে সুরের ঝংকার। কচুঘেচু, শাপলা, পদ্মা, মাখনা, সিংড়া প্রভৃতি জলজ উদ্ভিদের মতো বেড়ে উঠে অগণিত শিল্পী। যাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় বাঙ্গালির হাজার বছরের কথা। এই বিশাল ভাটি অঞ্চলের (নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ) উদাস আকাশের নিচে লিলুয়া বাতাসে জন্ম হয় একেকজন রাধা রমণ, হাছন রাজা, জালাল খাঁ, রশিদ উদ্দিন, উকিল মুন্সি, আব্দুস সাত্তার, খোরেশদ মিয়া, শাহ আবদুল করিম, আবদুর রহমান। যুগ যুগ ধরে যেসব বাউলশিল্পীরা বাঙ্গালি চিন্তা-চেতনা, দর্শন শিল্পের সঙ্গে সময়ের যোগ ঘটিয়েছেন তাঁদের মধ্যে আবদুর রহমান একজন। সাম্প্রতিক সময়ে বাউল জগতের এক বিশিষ্ট নাম। জন্ম হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রামে ১৩৬৩ বাংলার চৈত্র মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার। শৈশবেই ভাটির অপরূপ যৌবন দেখে প্রেমে পড়েন। সুর জাগে তাঁর মনে। ঢেউ ওঠে পুরো শরীরে। শৈশবের ঘোর লাগা ভাব যৌবনে পরিণত বয়সে প্রকাশ পায়। শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের কাছে। ৩৪ বছর শাহ আবদুল করিমের সঙ্গে সঙ্গী হয়ে চষে বেড়িয়েছেন বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে। আবদুর রহমান হয়ে ওঠেন নেশায়-পেশায় পুরোদস্তর এক বাউল। বাংলদেশ টেলিভিশন, বেতারের একজন তালিকাভুক্ত গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী তিনি। প্রায় পাঁচ শতাধিক গান রচনা করার পাশাপাশি সুরও করেছেন। স্ত্রী, দুই মেয়ে, চার ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার। বর্তমানে সময়ে অনেক বাউলশিল্পী যখন দর্শক মাতানোর জন্য সস্তা জনপ্রিয় হওয়ার জন্য গানকে রিমিক্স করেন সেখানে আবদুর রহমান ব্যতিক্রম। ঝাঁকড়া বাবরি চুলের দীর্ঘাকৃতি এ বাউলের কণ্ঠের মায়াবী জাদুতে বিমোহিত হন সকলেই। আবদুর রহমানের সৃষ্টিকর্ম বর্তমান বাউল সাহিত্যের এক ভিন্নতর সংযোজন যা আমাদের চিন্তা ও চেতনার খোরাক জোগাবে এই প্রত্যাশা করি।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×