somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সৈয়দ কুতুব
মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

ইরানের সাথে যুদ্ধে ‘জ্বিন’ ও ‘কালো যাদু’ ব্যবহার করেছে ইসরাইল!

১৭ ই জুলাই, ২০২৫ রাত ৮:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


তেহরানের সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ, সাইবার হামলা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা শুনে একটিই প্রশ্ন জাগে।এটা কি বাস্তব ইতিহাস, নাকি কোনো হরর সিনেমার স্ক্রিপ্ট? যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আজ মহাবিশ্বের দোরগোড়ায়, সেখানে এক রাষ্ট্র বলছে, আমাদের ব্যর্থতার পেছনে কাজ করেছে ইসরাইলি জ্বিন ! হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়ছেন। ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে ইরানের কিছু রাষ্ট্রীয় বুদ্ধিজীবী এখনো বিশ্বাস করেন, "জ্বিন-ফাই" প্রযুক্তি দিয়ে চালানো হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের আধিপত্যের লড়াই! হয়তো আর কিছুদিন পর তারা 5G নয়, ‘JinnG ’ চালুর ঘোষণাও দিতে পারে !

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (IRGC) এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইল অতিপ্রাকৃত শক্তি ব্যবহার করছে। তার দাবি, জ্বিন নাকি সেনাদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছে এবং ইলেকট্রনিক সিস্টেমে গায়েবি প্রভাব ফেলছে। বলেন কী! নেতানিয়াহু তাহলে কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং এক আধুনিক কাবালিস্ট ? যে সফটওয়্যারের চেয়ে শক্তিশালী কোনো আধ্যাত্মিক কোড ব্যবহার করে যুদ্ধজয় করছে! প্রশ্ন জাগে মোসাদ কি তাহলে শুধু গোয়েন্দা সংস্থা নয়, এর ভেতরে 'মৌলভি ইউনিট'ও চালু হয়েছে? যাঁরা কোডিংয়ের ফাঁকে মন্ত্র পড়েন, আর পারমাণবিক গবেষণাগারে বসে ফুঁ দিয়ে ডেটা এনক্রিপশন করেন ?

যখন একটি রাষ্ট্র নিজেরই সাইবার সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়, সেনা ছাউনিতে বিস্ফোরণ ঠেকাতে পারে না, জনগণের ক্ষোভ সামাল দিতে ব্যর্থ হয় তখন সে দায় চাপায় অদৃশ্য আত্মার ওপর। যেন জ্বিন এসে ফায়ারওয়াল ভেঙে তথ্য চুরি করেছে ! এই ধরনের ব্যাখ্যা কেবল কৌতুক নয় এটি মৌলবাদী রাষ্ট্রনীতির সেই পুরোনো ‘কৌশল’, যেখানে বাস্তব ব্যর্থতার জবাব দেওয়া হয় ধর্মীয় অপব্যাখ্যায় । আর জনগণকে বাস্তবতা থেকে সরিয়ে রাখার সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার আত্মিক ভয়।

ইরান যেন এক নতুন যুদ্ধনীতির জন্ম দিয়েছে, যার নাম হতে পারে Occult Warfare Doctrine। এখানে ড্রোন নয়, দরকার পীর সাহেবের ঝাঁটা। স্পাইস্যাটেলাইট নয়, কাজে লাগে ফুঁ দেওয়া রুমাল। ইসরাইল যখন Pegasus দিয়ে বিশ্বনেতাদের ফোন হ্যাক করে, তখন ইরানের হুজুররা সেনা অফিসারদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন "সাইবার দোয়া তাবিজ"। ম্যালওয়্যার থাকলে বলা হচ্ছে এটা কালো জাদুর ফল।" Mossad যখন জিরো-ডে এক্সপ্লয়েট নিয়ে আঘাত হানে, তখন ইরান ব্যস্ত: এই এলাকায় কোন জ্বিন সবচেয়ে সক্রিয় ছিল?

ইরানের বিপ্লব একসময় ছিল নতুন চিন্তা ও মুক্তির প্রতিশ্রুতি। কিন্তু সেই পথের শেষে এসে দাঁড়িয়েছে একটি ‘রুহানিয়াত-নির্ভর রাষ্ট্র’। আজ পারমাণবিক প্রকৌশলীরাও যদি কাশ্মীরি পীরের কাছে তালিম নেয়, আর নিরাপত্তা বিশ্লেষণ হয় জ্বিনের গতিবিধি দেখে তবে রাষ্ট্র চালায় না সরকার, চালায় আতঙ্ক ও অন্ধতা। ইরান ভুলে গেছে ইসরাইল ডেটা চুরি করে বাস্তব ডেটা সেন্টার থেকে, আর সেনা ছাউনিতে ঢুকে পড়ে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে not জ্বিন পাঠিয়ে! এই disconnect বাস্তবতা থেকে কল্পনার ব্যবধান এটাই ইরানের পরাজয়ের মূল কারণ।

ইরান এক সময় চেয়েছিল পরাশক্তি হতে। কিন্তু আজ তারা হয়ে উঠেছে নিজেদের ব্যর্থতার কল্পনানির্ভর গল্পকার। একসময় দোষ ছিল পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের, পরে হলো Zionist cabal-এর, এখন গিয়ে ঠেকেছে জ্বিনের ঘাড়ে । এটা শুধু বুদ্ধিহীনতা নয়, এটা এক ‘কৌশলগত অলসতা’ যেখানে প্রশ্নের জবাব হয় না, বরং প্রতিপক্ষকে অভিশপ্ত ঘোষণা করাই হয়ে ওঠে বীরত্ব। আত্মসমালোচনা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বাস্তবভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা ছাড়া কোনো উন্নয়ন হয় না। আর যখন রাষ্ট্র বলে বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল, কারণ জ্বিন সুইচ টিপে দিয়েছে তখন তা স্পষ্ট হয়ে যায়: রাষ্ট্রটা নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলছে।

ইরান পারলো না কারণ তারা আধুনিকতার মুখোমুখি না হয়ে পালিয়ে বাচতে চাইলো ধর্মীয় অপব্যাখ্যার আড়ালে । Mossad রিমোট কন্ট্রোলে ড্রোন চালায়, আর ইরান জ্বিনের হাজিরায় যুদ্ধে নামে। একদিকে বাস্তব অস্ত্র, অন্যদিকে তাবিজের পুঁজি। এভাবে কোনো রাষ্ট্র চলে না। এভাবে কেউ শক্তিধর হয় না। বরং এভাবে রাষ্ট্র নিজেরই ছায়া হয়ে ওঠে ভয়ে কাঁপা, কল্পনায় বিভ্রান্ত, এবং বাস্তব থেকে গা ঢাকা দেওয়া এক ব্যর্থতার মহাকাব্য।

Source : Iranian Officials Claim Israel Uses Jinns and Talismans in War -iranwire.





সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০২৫ রাত ৯:০০
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×