গত তিন সপ্তাহ ধরে একটি বিশেষ কাজের সাথে জড়িত থাকার সুবাদে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর কর্মধারা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তাতে যে অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে তা আমাকে রীতিমত হতাশ করেছে। একটি বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের শুধুমাত্র আমার কাছে স্মার্ট মনে হয়েছে।বাকী সবাইকে মনে হয়েছে তারা নিজেদের মস্তিস্কের ব্যবহার একেবারেই ভুলে গেছেন, অথবা তাদের মস্তিস্কের ব্যবহারের উপরে স্বীয় বাহিনী থেকে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে।একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরো পরিস্কার হবে। গত সপ্তাহে বিদেশী একটি প্রজেক্টের কাজে ঢাকা ট্রেনে দিনাজপুরে যাচ্ছি। সাথে দুই বিদেশী। ট্রেন যখন ঢাকা ছেড়ে ঘন্টা চলল , তখন আইনশৃংখলা বাহিনীর এক সদস্যের আমাদের কামরায় আগমণ ঘটল। তিনি এসেই এমনভাবে কথা বলতে শুরু করলেন যেনো সামনে বসা দুই বিদেশী কোনো মামলার আসামী।তার আচরণে আমি রীতিমত বিরক্ত ও অপ্রস্তুত হয়েছি। তিনি বিদেশী দুই নাগরিকের পাসপোর্ট দেখতে চাইলেন। দেশে তারা কোন জেলায় বাস করে তা জানতে চাইলেন।বিরক্তে আমি কিছু বলতে পারছি না। কারণ এখন তো আমার বিদেশীদের নিরাপত্তায় আইনশৃংখলা বাহিনীগুলো জান-কোরবান করে দিচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছি যখন তিনি বলছেন , ওনারা কি লাঞ্চ করবে ? আমি বললাম , না করবেন না। তিনি বললেন , যদি লাঞ্চ করে তবে যেনো তাকে জানানো হয়।সাথে তিনি আইন জারী করে গেলেন, ওনারা মানে বিদেশী দুই নাগরিকরা যেনো কোনো ধরনের বাইরের খাবার না খায়।কি হাস্যকর চিন্তা ভাবনা। আমি বুঝতে পারিনা , বৃটিশ শাসনকালেও নিশ্চিতভাবে এত উন্নত প্রজাতির প্রাকৃতিক সার সমৃদ্ধ মস্তিক নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীগুলো তাদের স্বীয় দায়িত্ব পালন করতেন না। একুশ শতকের বাংলাদেশে যা আমরা এখন অহরহ দেখতে পাচ্ছি।তবে আমার একটি বিষয় পরিস্কার মনে হয়েছে, বাহিরে যতই চাকচিক্যময় গতিময়তা মনে হোক না কেন। সার্বিকভাবে দেশের গতিপ্রবাহ স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিস্কারভাবে বললে বলা যায়। দেশ থেমে আছে।কিছুই ঠিক মতো চলছে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


