somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলা ফিল্মের জোকার শূণ্যতা পূরণ করতে পারেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান

২৫ শে জুন, ২০১৩ সকাল ১১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাবের গুলিতে পা হারানো ঝালকাঠি জেলার কলেজছাত্র লিমন হোসেনের পক্ষে-বিপক্ষে দায়ের হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহারের ব্যাপারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নেমেছেন।



গতকাল রোববার লিমন এবং তাঁর মা হেনোয়ারা বেগম ও বাবা তোফাজ্জল হোসেনকে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান তাঁর মগবাজারস্থ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বলেছেন- “র‌্যাবের সাথে যুদ্ধ করে পারা যাবে না।কারণ রাষ্ট্র তাদের পক্ষে।রাষ্ট্রের সংগে লড়াই করে টেকা যায় না।”এ সময় তিনি র‍্যাবের বিরুদ্ধে লিমনের মায়ের করা মামলা তুলে নেয়ার প্রস্তাব করেন। তা হলে লিমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা র‍্যাবের মামলাও তুলে নেয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।সম্প্রতি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানকে গত ২৩শে জুন সরকার দ্বিতীয় দফায় আরও তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছে। বলা হচ্ছে আপসকামী মানসিকতা ও বিভিন্ন বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সত্ত্বেও এই মহুর্তে নিরবতার নীতি প্রদর্শন করার পুরস্কার হিসেবে সরকার তাকে এই পুনঃনিয়োগ দিয়েছে।অথচ গত দুই বছর যাবৎ ১৭ বছরের এই কলেজছাত্রকে সরকারের প্রধান প্রতিপক্ষ বানিয়ে নিজের আখের গুছিয়েছেন এই ড. মিজান।এখন সরকারের বাড়তি বদান্যতায় মহুর্তে নিজেকে ৯০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে নিলেন।

২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুর উপেজলার সাতুরিয়া গ্রামে নিজেদের বাড়ীর পাশে দিনের বেলায় র‍্যাবের গুলিতে আহত হয় একাদশ শ্রেণীর ছাত্র লিমন।

মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় । সেখান থেকে লিমনকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকেরা লিমনের জীবন বাঁচাতে ২৭ মার্চ তাঁর বাম পা ঊরুর নিচ থেকে কেটে ফেলেন।

পঙ্গুত্ববরণ করেই লিমনের কষ্টের শেষ হয়নি। তার পড়ালেখার ব্যাঘাত ঘটে; র‍্যাবের দায়ের করা মামলায় কারাগারে যেতে হয় এবং মাসের পর মাস মিথ্যা মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে হয়।চিকিৎসা ও মামলার খরচ চালাতে তার পরিবার হয় সর্বস্বান্ত। ‌ইতোমধ্যে র‍্যাবের সোর্স বলে পরিচিতরা তার উপর হামলা করে। পরিবারটি এখন গ্রাম ছাড়া।

২০১২ সালের ১০ জুলাই কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছিলেন, ‘লিমনের সঙ্গে রাষ্ট্র ইতিমধ্যে যে আচরণ করেছে, সেটা যথেষ্ট হয়েছে। কিন্তু মনে হচ্ছে, পঙ্গু, নিরস্ত্র, অতিদরিদ্র ছেলেটির প্রতি রাষ্ট্র বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করে চলেছে। এটা কেন করা হচ্ছে, কার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে, কার অহমিকায় আঘাত করেছে—এটা বোধগম্য হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘লিমনের যে লড়াই, তা ন্যায্য ও ন্যায়সংগত। তার জয় হবেই। কিন্তু রাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা-অভিযোগপত্র দায়ের করে চলছে। আমরা বলতে চাই: “লিমন, তুমি ভয় পেয়ো না, জাতীয় মানবাধিকার তোমার পাশে ছিল, আজও আছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে।” আমরা শেষ পর্যন্ত দেখে যাব, এ দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয় কি না।’

একই বছরের এপ্রিলে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছিলেন, “এখন পর্যন্ত সরকারি কোন তদন্তেই লিমন যে সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত, এ অভিযোগের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও সাজানো দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে আমরা আশা করি নিম্ন আদালত থেকেই লিমন ন্যায়বিচার পাবে। তাকে সাজানো মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।”

ড. মিজান তার কথা রাখেননি কিংবা লিমনের পক্ষে আইনি পদক্ষেপও নেননি। ববং এখন তিনি র‍্যাবের পক্ষে অবস্থান নিয়ে লিমন ও তার পরিবারের ওপর মামলা প্রত্যাহারে চাপ দিচ্ছেন।

আমাদের বাংলা ফিল্ম জোকার সমস্যায় বহুদিন থেকে।মতি,দিলদারের অকাল প্রস্থানে এ শূণ্যতার তৈরী হয়েছে।সুসংবাদ, আমাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের মধ্যে মতি,দিলদারের শাররীক বৈশিষ্ট্য ও কারিশমা বিদ্যমান।মানবাধিকার কমিশনে না হয়ে বাংলা ফিল্ম এ প্রতিভার স্পর্শ পেলে আমাদের ফিল্ম জগৎ হারানো গৌরব অনেকাংশে ফিরে পাবে বলে আমার মনে হয়।







সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০১৩ দুপুর ১২:২৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুখে ঠোঁটে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


এই সমগ্র বাংলাদেশে- এখন
ইরি ধানে ধানে সবুজ ছুঁয়ে গেছে;
মাঠে মাঠে পাখিদের নব আনন্দে
হেসে ওঠছে লাল সবুজের প্রাণ;
ফসল পাকবে সমগ্র মাঠে মাঠে
সুখে সমৃদ্ধি হবে জীবন সংসারে
কৃষকের প্রত্যায়শা ভরে তুলবে
গোলা ভরা ধান... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাঁজা বৃতান্ত

লিখেছেন মুনতাসির, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৪

গাজা নিয়ে আমাদের মধ্যে বিশেষ অনুভূতির নাম হলো—এরা গাজাখোর। ব্যাপারটা এমন যেন বিশেষ কোনো শ্রেণি। না, আমি গাজা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি না। কিন্তু গাজা নিয়ে আমাদের দেশে যেভাবে আলোচনা, জেল-জরিমানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিয়া ও খালেদাকে নিয়ে বিষোদগার করা চুপ্পু হঠাৎ কেন তারেকের প্রশংসায় গদগদ, তারেকে মুগ্ধ!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯


২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক কালের কণ্ঠে “চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি” পরে ২৪ ফেব্র্রুয়ারি “রাষ্ট্রপতির আরো বিস্ফোরক তথ্য” শিরোনামে সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। এখানেও তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের ভূয়সী... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমযানে ২৪ ঘণ্টার আদর্শ রুটিন

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

রমযানে ২৪ ঘণ্টার আদর্শ রুটিন

ছবি সংগৃহিত

রমযান মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বরকতময় মাস। এ মাসে আল্লাহ তায়ালা সিয়ামকে ফরয করেছেন এবং কুরআন নাযিল করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন:

شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِيٓ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনুসনামা-২

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৫২



ইউনুস সরকার তাঁর আমলে যে ডিভাইড এন্ড রুলের নীতি গ্রহণ করেছিল, এর প্রভাব রাজনৈতিক অঙ্গনে যে ভয়া*বহভাবে পড়েছিল, এর চেয়ে কম ভয়া*বহ প্রভাব পড়েনি আমাদের সামাজিক অঙ্গনে। সামাজিক ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×