somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেন মেয়েরা ফর্সা হতে চায়?

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




প্রায় চার বছর আগে আমার লেখা যন্ত্রণায় অভিপ্রায় ব্লগে সাড়ে চুয়াত্তর ভাইয়ের মন্তব্যের প্রত্যুত্তরে লিখেছিলাম, আমাদের সমাজে গায়ের রঙ নিয়ে এখন্ও যে অপ্রীতিকর এক ধারণার প্রচলন আছে তা নিয়ে কখনও কিছু লিখবো ইনশাআল্লাহ। লিখি লিখি করে এই সেদিনই লিখলাম এ বিষয়ে নিজের কিছু কথা। আমাদের বাঙালি মেয়েদের মধ্যে কেন ফর্সা হয়ে ওঠার ধুম, সেটাই আমার মূল লেখার বিষয়বস্তু।
------------------------------------------------------------------------------------------------------------

ইদানিং দেখি আমার ঘরে রোদ আসে। পুরো ঘর আলোয় ভরা থাকে, তাই আর বাতি জ্বালাতে হয় না দিনের বেলায়। আজ এমন ভরদুপুরে ঘুম থেকে উঠে হাতমুখ ধুয়ে এসে আয়নার সামনে দাঁড়ালাম, তখন নিজের মুখের দিকে চোখ পড়লে মনে হলো- আমাদের দেশে কয়টা মেয়ে নিজের ন্যাচারাল স্কিনটোনকে ভালোবাসতে জানে? ভালোবাসা তো দূর, স্বাভাবিক মনে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পারে কয়জন? কয়জন কালো বর্ণের মেয়ে জীবনে একবার হলেও ভাবে না যে, তাকে ক্রিম মেখে ফর্সা হতে হবে?

আমি যখন ছোট ছিলাম, কেউ আমাকে কালো বললেই কান্না করতাম। বাড়িতে গেলে চাচাতো ভাই-বোনেরা এসে বলতো, দেখ, দোলা, তোমার তোন মুই বেশি ফর্সা। তুমি কালা। খুব খেপতাম আমি। তখন ছোট ছিলাম বলতে সবার কোলে কোলে ঘোরার বয়সী ছিলাম। ওইটুকু মেয়ে কালো বললেই কাঁদছে এতে সবাই মজা পেত।

কিন্তু, ভাবুন তো, একটা ৪-৫ বছর বয়সী বাচ্চা কীভাবে বুঝতে পারে যে কালো হ‌ওয়া খারাপ (!), কেউ তাকে কালো বললো মানে নিন্দা করলো, তার ভেতরে আনন্দের অনুভূতি না এসে কষ্ট হলো কেন?

কেউই জন্মের সময় শিখে আসে না কালো-ফর্সার পার্থক্য। জন্মের পর সমাজ থেকে শিখে, পরিবার থেকে শিখে, আপনার আমার কথা-কথার টোনে শিখে। আমরা অনেক সময়‌ই যেটা ভুল ভাবি তা হলো, ছোট বাচ্চারা কিছুই বুঝতে পারে না। এজন্য তাদের সামনে কথাবার্তায় সচেতন হ‌ওয়ার প্রয়োজন বোধ করি না‌। কিন্তু আসলে কিন্তু বাচ্চারা যা দেখে তাই গ্রহণ করে। বাচ্চার মানসিকতা গড়তে পরিবেশ খুব‌ই গুরুত্বপূর্ণ একটা উপাদান।

আমি যে ওইটুকু বয়সে গায়ের রং নিয়ে মন খারাপ করতাম, নিশ্চয়ই আমি তা কোথাও না কোথাও থেকে শিখেছি। হয়তো কেউ আমাকে গায়ের রঙের জন্য অসুন্দর বলেছে, কিংবা কাউকে ফর্সা-কালো বর্ণ নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করতে শুনেছি। মানে যেভাবেই হোক, আমার মাথায় এটা ঢুকে গিয়েছে যে ফর্সা মানেই সুন্দর, কালো মানেই অসুন্দর বা খারাপ কিছু। এজন্য কেউ আমাকে কালো বললেই আমার মনে হতো আমাকে খারাপ বলা হচ্ছে, তাই আমার মধ্যে নেতিবাচক অনুভূতিই কাজ করতো।

আমার এই অভিজ্ঞতা কি আসলেই শুধু আমার? আমার মতো আরো হাজার হাজার মেয়ের এক‌ই অভিজ্ঞতা। আমি নিজেই অনেককে একটু বড় হ‌ওয়ার পরে দেখেছি কৃত্রিমভাবে ফর্সা হয়ে যেতে। না, এভাবে ফর্সা হ‌ওয়ার বিরোধী আমি না, আর তাদের সমালোচনা‌ও আমি করছি না। আমি নিজেও একটা সময় ভাবতাম একদিন আমিও সুন্দর (!) হয়ে যাবো। তাই আমি জানি, মেয়েদের মধ্যে যে তথাকথিত সুন্দর হয়ে ওঠার প্রবণতা, তা সমাজের একটা প্রভাব। অনেক ক্ষেত্রে জীবনকে একটু সহজ করার অলীক প্রচেষ্টা।

আমিও যে সুন্দর, আমার নিজের গায়ের রঙের‌ও আলাদা একটা সৌন্দর্য থাকতে পারে, এগুলো আমি শিখেছি অনেক দেরিতে। নিজের গায়ের রঙকে মন থেকে মেনে নিতে আমার বহু সময় লেগেছে। আমার ১৮-২০ বছরের জীবন থেকে শেখা বিষয়গুলো "unlearned" করতে আমাকে কম ঝক্কি পোহাতে হয়নি। তবে বিষয়গুলো বুঝতে পারার পরে আমি ভাবতে শিখেছি নতুন করে। নতুন করে সৌন্দর্যের সঙ্জ্ঞা খুঁজে পেয়েছি। দেখেছি অনেক অদেখা জিনিস। কিন্তু এমন তো হ‌ওয়ার কথা ছিল না। স্রষ্টার সৃষ্টিকে সবার জীবনের শুরু থেকেই ভালোবাসতে শেখার কথা ছিল, তাই না?

বুধবার
জুন ২৫, ২০২৫
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১২:০৬
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×