somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্ষণ বনাম ভালোবাসার অধিকার

২৫ শে মার্চ, ২০১৪ রাত ৮:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছু দিন আগে একটা ভারতীয় বাংলা ছবি দেখেছিলাম, ছবির এড করতেছিনা, কিন্তু ছবিটি থেকে এদেশের জনগণ এবং নীতি নির্ধারকদের কিছু ব্যাপার বুঝার আছে, সেটা তুলে ধরতেই প্রাসঙ্গিকভাবে ছবিটির কথা বলছি-

ছবিতে দেখলাম একটি মেয়েকে তার অফিসের বস জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে, তাই মেয়েটি বসের চাকরি ছেড়ে দিয়ে আরেকটি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যোগ দিয়েছে, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মেয়েটির দুর্দিনে মেয়েটিকে চাকরি দিয়ে সাহায্য করেছিল। এর পরিচালক মেয়েটির সাথে ছলে বলে কৌশলে ভালোবাসার ভাব জমায় আর সেই অধিকার নিয়ে মেয়েটিকে প্রতিদিনই ধর্ষণ করতো, কিন্তু মেয়েটির সেটাকে তখন ধর্ষণ মনে করতো না, সেটা ছিলো ভালবাসার অধিকার্। আগের অফিসের বস আর বর্তমান পরিচালক দুইজনই কিন্তু মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে, কিন্তু দুইজনের মধ্যে পার্থক্য হলো- আগের বস ধর্ষণ করেছে জোরপূর্বক গায়ের জোর খাটিয়ে, আর বর্তমান পরিচালক করতেছে ভালবাসার অভিনয় করে মনের জোর খাটিয়ে, কিন্তু মেয়েটি বুঝতেই পারছিল না যে বর্তমান পরিচালক যে তাকে ভালবাসার কথা বলে প্রতিদিনই ধর্ষণ করে যাচ্ছিলো। অবশেষে মেয়েটি যখন বুঝলো যে পরিচালক ভালবাসার কথা বলে তাকে মূলত প্রতিদিন ধর্ষণই করে গেছে তখন মেয়েটির আর কিছুই করার ছিলো না, সব হারিয়ে মেয়েটিকে তখন আত্মহত্যার পথই বেছে নিতে হয়েছে।

প্রথমবার অফিসের বস মেয়েটিকে যখন ধর্ষণ করেছিল এরপরও কিন্তু মেয়েটির সমাজে মাথা তুলে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস ছিলো যে কারণে মেয়েটি আবারো বেঁচে থাকার এবং জীবনকে নতুনভাবে গড়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু দ্বিতীয়বার যখন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক তার বন্ধু সেজেই তাকে প্রতিদিন ধর্ষণ করে গেছে আর যখনই মেয়েটি তা বুঝতে পেরেছে তখন কিন্তু আর বেঁচে থাকার মত সাহস আর মনোবলও মেয়েটির অবশিষ্ট রইলো না।

যে কারণে কথাটি বলা তা হলো- ছবিটির কাহিনীর সাথে আমি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির একটা মিল খুঁজে পাই। পাকিস্তান বাংলাদেশকে ১৯৭১ সালে শোষিত ও বঞ্চিত করেছে, আর তাই দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে এদেশের মানুষ তাদের থেকে স্বাধীন হয়েছে। বাংলাদেশের দূর্দিনে ভারত তাদের নিজেদের স্বার্থেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল, আর সেই সূত্রে বন্ধুত্বের অধিকার নিয়ে ভারত এখন তাদের রক্ষিতা (অঙ্গরাজ্য- বাংলাস্থান) মনে করে নিয়মিতই ধর্ষণ করে যাচ্ছে বাংলাদেশকে, আর বাংলাদেশের নীতি নির্ধারকরাও এটাকে ভারতের বন্ধুত্বের অধিকার মনে করে মেনে নিচ্ছে হাসিমুখে। সেখানে হয়তো লেন্দুপ দর্জির মতো বাংলাদেশের নীতি নির্ধারকদেরও কিছু স্বার্থ আছে। কিন্তু যেদিন বাংলাদেশ বুঝতে পারবে যে বন্ধুত্বের অধিকার নিয়ে ভারত এতদিন মূলত পাকিস্তানের মতোই বাংলাদেশকে ধর্ষণই করে গেছে, পার্থক্য শুধু এটুকু পাকিস্তান ধর্ষণ করেছে সরাসরি গায়ের জোর খাটিয়ে আর ভারত ধর্ষণ করেছে বন্ধুত্বের অভিনয় করে মনের জোর খাটিয়ে, সেদিন হয়তো ভারতের অঙ্গরাজ্য সিকিমের মতো (ছবির মেয়েটির মতো) বাংলাদেশেরও আর কিছু করার থাকবেনা।

১৯৭১ সালে পাকিস্তান তাদের সবটুকু গায়ের জোর খাটিয়ে এদেশের মানুষের উপর নানা অত্যাচার নির্যাতন করে গেলেও এদেশের মানুষের সাহস আর মনোবলকে ভেঙ্গে দিতে পারেনি, কিন্তু ভারত বর্তমানে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে এদেশের মানুষের মন থেকে জাতীয়তার চেতনাটাই মুচে ফেলতে চাইতেছে, আর সেই পথে তারা অনেকটা সফলও হয়েছে বলতে হবে। পাকিস্তান ১৯৫২ সালে এদেশের মানুষের উপর উর্দু ভাষাকে চাপিয়ে দিতে চেয়েও পারেনি, গুলি করে শহীদ করেছে সালাম, রফিক, জব্বারদেরকে। অথচ ভারত আজ অত্যন্ত সুকৌশলে বাঙালি জাতির উপর চাপিয়ে দিয়েছে তাদের হিন্দি ভাষার গান ও চলচ্চিত্র সমূহ।

আর তাই এখন ভাষা দিবসে বাঙালি জাতিকে দেিখ মনের সুখে হিন্দি ভাষার গান শুনতে অথবা হিন্দি ভাষায় ফ্যাশন করে উর্দু ভাষার কৌসুলিদের গালি দিতে। বাংলাদেশের কনসার্ট গুলোতে এখন দেখি আয়্যুব বাচ্চু, কুমার বিশ্বজিতের মতো বাঙালি শিল্পীরা বাংলা ভাষায় গান গেয়ে তালি পায়না, আর হিন্দি ভাষায় ভালবাসার রোমাঞ্চকর কথা বলে কিংবা বাঙালি বধুকে কিস করে মঞ্চ মাতিয়ে তোলেন বলিউড অভিনেতারা। আড়ালে থেকে এসব দেখে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে সালাম, রফিক, জব্বারের বিদেহী আত্মারা আর হাততালি দিয়ে বলতে থাকে- বাহ! আমাদের অনুপস্থিতিতে তো দেখছি বাঙালি জাতির দারুণ উন্নতি হয়েছে।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×