somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কষ্টের দোকানদার

২২ শে মে, ২০১৪ দুপুর ১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কষ্টের দোকানদার পসড়া করে ফিরে হাজারও কষ্ট, আপনার পছন্দের কষ্ট কিনেনিতে পারেন আপনার কষ্টকে কমানোর জন্যে । রমিজ মিয়া কষ্টের আরেক নাম, বাহারি কষ্ট নিয়ে ঘুরে ফিরেন; ক্রেতারা নিজ নিজ কষ্টের এক ধাপ উপরের কষ্ট কিনে নিয়ে যায় নিজের কষ্টটাকে কমাতে । ১৯৬৮ সালে জন্ম নেন রমিজ মায়ের ঘরে; বাবাকে জানেনা, মায়ের ঘর বলতে রেললাইনের পাশের ঝুপড়ি ঘর । মন্মের পড়থেকে আরকিছু বুঝে উঠার আগেই আধপেটা খেয়ে নির্ঘুম রাতকাটানোর অভিজ্ঞতা লব্ধকরেছে সে । কিশোর বয়সে মিরাজ দেখেছে মায়ের শ্লিলতাহানীর দৃশ্য, ৭১ এ রেলের পাশে ফিরিঙ্গিদের অস্ত্রের মূখে মায়ের বিবস্ত্র চিত্কার, লাগাতার সাত নরপশুর কাম খোড়াকের পর দেখেছে মায়ের রক্তাক্ত শরীর আর সারা রাত ধরে যন্ত্রনার কাতরানো ; রমিজ বড় হতে হতে দেখেছে ফতোয়ার কবলে কিভাবে মাকে ভন্ড হুজুরের সেবাদাসি হয়ে রাত কাটাতে হয়েছে । কৈশর বয়েসে দেখেছে মায়ের নিস্তেজ দেহ গাছে ঝুলে থাকতে, মায়ের আদর থেকে মা তাকে বঞ্চিত করে চলেগেছেন নিজের অপমান আর সইতে নাপেরে । রমিজ বাচার তাগিদে কতকিইনা করতে হয়েছে, গেঠুগানের দলে গিয়ে তাকে বহু রাত ব্যাথায় কাতরাতে হয়েছে; জীবনে এসেছিল সুখের বাতাস হয়ে রুপা । যে বস্তিতে থাকতো রমিজ তারি পাশের ব্যাবসায়ী বাপের আদুরে কন্যা । রমিজের নাচ,গান আর সহজ জীবনের প্রতি মূগ্ধ হয়েই রুপা রমিজের হাত ধরে । সে বাতাস বেশিদিন বয়নি রমিজের জীবনে, সুখের বাতাস কেড়েনিল রমিজের বাম পায়ের কব্জি অবদি । রুপার সহজ প্রেমের প্রতিদান সরুপ ব্যাবসায়ী বাবা কেড়ে নিল রমিজের পা । এলাকা ছাড়া হয়ে রমিজ এক পায়ে কিছুদিন ভিক্ষে করে রেলগাড়ি করে । রমিজের কোন অভিযোগ নেই কারো প্রতি, কারো করুনা নিয়ে বাচারও তার কোন প্রত্যাশা নেই; কিছুদিনের মধ্যেই রমিজ ছোট্ট একটা পানের দোন দেয় ইস্টিশনে, প্রতি সন্ধায় পুলিশের চাদা আর স্থানীয় প্রভাবশালীদের বখড়া দিতে দিতে আর চালাতে পারেনি । একপায়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে জীবন চালাতে বড়ই কষ্ট হচ্ছে রমিজের, রমিজ আর ভিক্ষে করে জীবন চালাতে চায়না, কাজ নিল একটা সাইবার ক্যাফের ওয়াচ ম্যান হিসেবে; ক্রেতারা নিয়মিত আসে ইন্টারনেটে কাজ করে, রমিজ তাদের সময় সংরক্ষন করে এবং সময় অনুপাতে ভাড়া বুঝে নেয় । রমিজ শিক্ষিত না হলেও যোগ বিয়োগ আর গুনেনর কাজটুকু পারে ভালই । পঙ্গু জীবনে সে একটা কাজ ভাল করতে পারে, যা কিছুই দেখুক খুবই অল্প সময়ে রপ্ত করে নেয়ার ক্ষমতাটা তার অসাধারন; রমিজ এই কাজের ফাকে ফাকে মেক্যানিকের কাজ শিখে, কিভাবে বসে বসে কোন একটা ইলেক্ট্রিক জিনিস নষ্ট হয়েগেলে তা ঠিক করতে হয় । বছর তিনেক পর রমিজের জীবনে একটি সুযোগ এল দেশের বাইরে যাওয়ার, নিয়মিত সাইবার ক্যাফে আসা এক ভদ্রলোক সুযোগ করে দিল অল্প খরচে বিদেশে তার পরিচিত এক জনের দোকানে কাজ পাইয়ে দেয়ার । রমিজ চলে যায় কানাডায়, ঘরে বসে বসে সে সারাদিন কাজ করে, বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই, বাইরের জগতে সে কিছুই বুঝেনা ও বলতেও পারেনা । রমিজ বছর দুই পরে একটা বিকল্প পা লাগিয়ে নেয়, এখন সে অনেক সুখি একটা মানুষ । ৫ বছর পর রমিজ দেশে ফিরে একটা বিয়ে করে, নিজে একটা ব্যাবসা দেয়, ভালই চলছিল রমিজের যতদিন না সে তার স্ত্রীর কিছু কিছু বিষয় চোখে ধরা না পরছিল । রমিজের ৩ বছরের সুখের সংসার এক পলকেই ধূলোয় মিশে গেল, প্রতিদিনের মত রমিজ তার নিজের ব্যাবসায় যায় রমিজ, শরীরটা ভাল লাগছিলনা বিধায় ঘন্টা ২ পর বাসায় ফিরে কলিং বেল বাজাতে্ থাকে কিন্তু ঘরের দরজা খুলছিলনা ওপাশ থেকে, বেশ কিছুক্ষন যাওয়ার পর দরজা খুলে অবাক দৃষ্টিতে তাকায় রমিজের স্ত্রী- তুমি ! রমিজ বুঝতে পারেনা কথাটার অর্থ, শরীর ভালনা বলে ঘরের ভিতরে যেতেচাইলে বলে কি হয়েছে তুমার ড্রয়িং রুমে বস । শরীরটা ভালনা বলে বেড রুমে ঢুকেই রমিজ বুঝতে পারল কেন প্রতি দিন ঘন্টায় ঘন্টায় খবর নিত তার স্ত্রী কখন ঘরে ফিরবে । রমিজ কিছুই না বলে বেরহয়ে গেল; রাতে ঘরে ফিরে দেখে কেউ নেই ঘরে; পরেরদিন ব্যাংক থেকে টাকা উঠাতে গিয়ে দেখে ব্যাংকের একাউন্টে কোন টাকা নেই, বিশ্বাস করে চেকে সই করে রেখেছিল রমিজ যেন কোথাও গেলে তার স্ত্রীর টাকার কোন সমস্যা না হয়, সে সুযোগটা আজ তার ভিকিরীর কারন হয়ে দাড়াল । ৭ দিন পর রমিজের বাসায় একটা চিঠি এল রেজিস্টার করা, পড়তে পারেনা রমিজ তাই পাশের বাসার লোক মারফত জানতে পারল তার বিরোদ্ধে নারী ও শিশু সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে; মূকদ্দমা শেষ করতে করতে ৩ মাস জেল খেটে সব বিক্রি করে আজ সে নিশ্ব, আজ আবার সে রাস্তায় রাস্তায় ফেরি করে ফেরিওয়ালা । আজ রমিজ ফেরিকরে বিক্রি করে কষ্ট । আজ সে কষ্টের ফেরিওয়ালা । যাদের কোন কষ্ট নেই তারাও কিনে কষ্ট, যাদের আছে কষ্ট তারা কিনে অধিকতর কষ্ট । কষ্ট নিকে কষ্ট, আমার কাছে হরেক রকম কষ্ট আছে, কষ্ট নিবে কষ্ট, রমিজ আলীর নষ্ট হয়া জীবনের কষ্ট ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×