somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

শয়তান বুড়ো হলেও শয়তানই থেকে যায়—বরং বাড়তে থাকে ধূর্ততা

১০ ই জুন, ২০২৫ সকাল ৯:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
শয়তান বুড়ো হলেও শয়তানই থেকে যায়—বরং বাড়তে থাকে ধূর্ততা

মধ্যপ্রাচ্যের শয়তানির নাটের গুরু বুড়ো শয়তান নেতানিয়াহুর এই ছবিটি এআই এর সহায়তায় তৈরি।

শয়তান বুড়ো হলেও শয়তানই থেকে যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ধূর্ততা আরও বাড়ে, ফন্দি ফিকির আরও গভীর হয়। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সে আরও পাকনা হয়ে ওঠে। মানুষকে বিপথে চালিত করার জন্য নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নেয়। সে শুধু ছায়ার মত দূরে থেকে নয়, বরং অনেক সময় মানুষের বেশ ধরে—বন্ধু, আত্মীয়, কিংবা শুভাকাঙ্ক্ষীর মুখোশ পরে মানুষের খুব কাছাকাছি এসে ধোঁকা দেয়। একসময়ে যাকে আপনজন ভেবে বিশ্বাস করা হয়, দেখা যায় সেই মানুষটাই শয়তানের আজ্ঞাবহ দোসর।

এইসব ছদ্মবেশী শয়তানেরা প্রথমে মানুষের ঈমান ও চরিত্রে আঘাত হানে। তারা সন্দেহের বীজ বপন করে, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে। ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠা ধীরে ধীরে দুর্বল করে ফেলে। তারা কখনো আধুনিকতার নামে, কখনো যুক্তিবাদের মোড়কে, আবার কখনো মানবিকতার ভুয়া জিগির তুলে মানুষকে ধর্ম থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করে।

আজকের দুনিয়ায় শয়তানের অন্যতম বড় অপকর্ম হচ্ছে ধর্মবিদ্বেষী একশ্রেণির চ্যালা-চামুন্ডা তৈরি করা। এই চক্রকে সে ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারে নিয়োজিত করেছে। তারা ধর্মীয় শিক্ষা, ইসলামী প্রতীক, মুসলমানদের রীতি-নীতি—সব কিছুর বিরুদ্ধাচরণ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলাম নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে, নবী করিম (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করে, ধর্মীয় বিধানকে মধ্যযুগীয়, বেদুইনদের গালগল্প ও বর্বর আখ্যা দেয়। মূলত এরা নিজেরা যেমন বিভ্রান্ত, তেমনি অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করার কাজে নিয়োজিত।

শয়তান কখনো একরূপে আসে না। সে নানা রঙে, নানা মুখোশে, নানা নামে হাজির হয়। কখনো সে বিজ্ঞানের নামে ধর্মকে অবজ্ঞা করে, কখনো আবার সংস্কৃতির নামে ধর্মকে পেছনে ফেলে দিতে চায়। মানুষের মধ্যে নফসকে উসকে দিয়ে সে পাপকে স্বাভাবিক করে তোলে, গোনাহকে সৌন্দর্যের মোড়কে উপস্থাপন করে। ধর্মের নামে বাড়াবাড়িতে লিপ্ত করেও শয়তান কিছু মানুষকে ধোঁকা দেয়। এরা ধর্মের নামে শিরক, বিদআত থেকে শুরু করে নানা কুসংস্কারে লিপ্ত হয়ে পথভ্রষ্ট হয়।

শয়তান আজ আর কেবল একজন অদৃশ্য প্রতিপক্ষ নয়। সে কখনো বন্ধুর মুখোশ পরে আসে, কখনো আত্মীয়ের স্নেহ-ভাষায় কথা বলে। কেউ আপনার পাশে দাঁড়িয়ে আপনাকে "স্বাধীনতার" নামে ধর্ম থেকে সরিয়ে দেয়, আবার কেউ "ভালোবাসা"র নামে পাপের পথে টেনে নেয়। কুরআনেও উল্লেখ আছে—"নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু, অতএব তোমরাও তাকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ করো।” — সূরা ফাতির, আয়াত ৬

এই প্রকাশ্য শত্রু অনেক সময় অপ্রকাশ্য থাকে মানুষের চোখে, কিন্তু তার কাজ হয় প্রবল—বিশ্বাসের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো।

তাই আজকের বাস্তবতায় শয়তানের ছলনায় না পড়ে, আত্মরক্ষার জন্য সচেতন থাকা জরুরি। শয়তানের মুখোশ চিনে তাকে প্রতিহত করাই ঈমানদারের দায়িত্ব। কারণ, সে যতই অভিজ্ঞ আর পাকনা হোক না কেন, আল্লাহর নিকট শরণাপন্ন হলে তার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবেই।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০২৫ সকাল ১১:৫১
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একাত্তরের ইতিহাস অন্য কিছুর সঙ্গে মিলবে না, সত্যিই?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৮


স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একাত্তর কখনো অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাধীনতা বলতে আপনি কি বুঝেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৩


২০২৩ সালের কথা। আমরা কয়েকজন মিলে অনলাইনে একজন ইংরেজি স্যারের কাছে কোর্সে ভর্তি হয়েছিলাম। একদিন ক্লাস চলছে, স্যার হঠাৎ বই থেকে মুখ তুলে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ছোটবেলায় যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৪



বিশেষ দিন গুলো শাহেদ জামালের জন্য কষ্টকর।
যেমন ইদের দিন শাহেদ কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? তার তো কেউ নেই। এমনকি বন্ধুবান্ধবও নেই। তার এমন'ই পোড়া কপাল মেসেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×