আজ মেয়েটার বিয়ে ।
সে খুব টেনশানে আছে । তার একুশ বছরের ছোট্ট জীবনে সে কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়েনি । বাসা ভর্তি মানুষ । কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই । একটু যে বসে ভাববে সেই অবস্থাও নেই । কি সব উদ্ভট কুসংস্কার… নতুন কনেকে সবসময় চোখে চোখে রাখতে হবে । নইলে নাকি খারাপ বাতাসের নজর লাগে । অবস্থা এমন যে গোসল করতে গিয়ে একটু দেরি হলেও বাথরুমের দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায় ।
মেয়েটা বিয়ের স্টেজে বসে আছে । বসার আগে বড় আপা পই পই করে বলে দিয়েছে মাথা নিচু করে চোখ বন্ধ রাখার জন্য, বিয়ের কনের এভাবেই নাকি বসার নিয়ম । আশেপাশে নানা ধরনের মানুষের আনাগোনা, সবাই আসছে বউ দেখতে । সে তার সবই টের পাচ্ছে কিন্তু কাউকেই দেখতে পারছেনা । কি মুসিবত!
আয়নায় বর-কনের মুখ দেখার পালা । মেয়েটা টের পাচ্ছে তার পাশে বর এসে বসেছে, মিষ্টি একটা গন্ধ তার নাকে আসছে । ছোট ভাইবোনেরা বরের সাথে রসিকতা করছে, সবই সে শুনছে । কিন্তু চোখ তুলে তাকাতে পারছেনা । আয়নায় মুখ দেখার সময় মেয়েটা আর পারলোনা । এইপ্রথম মেয়েটা ছোট্ট করে চোখের পাতাটা একটু ফাঁক করলো...
তার পাশে বসে থাকা ফর্সা এই রাজপুত্রের মত ছেলেটাই কি তার বর? এই ছেলেটার সাথেই তার বাকি জীবনের সুখ-দুঃখের দিনগুলো কাটবে?? বিয়ের দিন অথচ ছেলেটা শেভ করলোনা কেন?? ইশ্, মার্চের গরমে ছেলেটা কেমন ঘেমে গিয়েছে, কপাল বেয়ে টপটপ পানি পড়ছে...
অজানা একটা কষ্টে মেয়েটার বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠলো... খুব ইচ্ছে করলো নিজের আঁচলটা দিয়ে ছেলেটার কপালটা মুছে দিতে...
মেয়েটা সেদিন পারেনি, কিন্তু পরে পেরেছিলো ।
এখনও রাতে ইলেকট্রিসিটি চলে গেলে ঘুমের মধ্যে যখন আব্বু গরমে ছটফট করে, আম্মু নিজের হাতে ঘামটুকু মুছে দেয় ।
গতকাল ছিলো আব্বু আম্মুর ছাব্বিশতম বিবাহ বার্ষিকী ।
অভিনন্দন!
আমাদের তিন ভাইবোনের যন্ত্রণায় তোমরা বুঝতেই পারোনা ছাব্বিশ বছর কিভাবে কেটে গেলো!
ছেলে হোক, মেয়ে হোক...
জ্বালানোর জন্য তিনটি শয়তানই যথেষ্ট!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


