somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জেবা ম্যাম ও তার পারিপার্শ্বিক ঘটনাবলী

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মিস জেবা যেমন দেখতে সুন্দরী তেমন তার অমায়িক ব্যবহার ।স্কুলের প্রতিটি বাচ্চার অতি প্রিয় জেবা ম্যাম ।জেবা ম্যাম কখনো কোন ছাত্র বা ছাত্রীকে বকা দেন না, মারেন না ।ক্লাসে একটা লাঠি পর্যন্ত আনেন না ।পড়া না বুঝলে দশ বার হলেও তিনি তাদের বুঝিয়ে দেন এমন শিক্ষক পাওয়া এখন সত্যি দুষ্কর ।কিন্তু কেউ যদি ফাকি দেয় তখন কিন্তু তিনি ভীষণ রেগে যান ।সবাই সেটা ভালো করেই জানে আর জানে বলেই সবাই তার কথা মতোই চলে ।ছাত্রদের মধ্যে সবার ই একটা প্রচেষ্টা থাকে জেবা ম্যামের দৃষ্টি আকর্ষণ করার । জেবা ম্যামের জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ হলো তার সাজপোষাক ও ফ্যাশন।তিনি স্কুলে সাধারণত সুতি শাড়ি পরে আসেন।নানা রঙবেরঙের শাড়ি । আর কমবেশী সবাই খেয়াল করে দেখেছে যে এক শাড়ি তিনি দ্বিতীয় বার পরেন না এবং যা ই পরেন না কেন তাকে অপরুপ লাগে । এত শাড়ি তিনি কোথায় পান সে এক রহস্য ।
মিস জেবার সাথে আদনানের ক্লাস করিডোরে দেখা হয়ে গেল ।আজ তিনি টকটকে লাল আর সবুজ মিশানো সুন্দর একটা শাড়ী পড়েছেন।খুব সুন্দর দেখাচ্ছে তাকে।
-কি আদনান কি খবর ?
-স্লামালেকুম [আস সালামু আলাই কুম]ম্যাম ।
- ওয়া আলায় কুমুস সালাম ।
-পড়াশোনা কেমন চলছে ?
- ভালো।
-ছোট বোনটার খবর কি ?
-স্কুলে গেছে ম্যাম।
-ভালো ।মনে রাখবে জীবনের যে কোন পরিস্থিতিতে পড়া লেখাটা ধরে রাখবে।ওকে।
-জ্বী ম্যাম।
-সকালে কিছু খাওয়া হয়েছে ।
-হু ।
-আবার মিথ্যা , মিথ্যা বলতে নিষেধ করেছি না । করেছি ?
আদনান মাথা নাড়ালো ।
-টিফিনে আমার সাথে দেখা করো ।
-আচ্ছা
-আচ্ছা বললেই হবে না ,দেখা করবে । আমি কাউকে মার দেয়ার পক্ষপাতি নই কিন্তু তুমি টিফিনে দেখা না করলে পিটাবো । বুঝছো ।
যাও ক্লাসে বসো । আমি আসছি ।
সপ্তম শ্রেণির এই ক্লাসে মোট বিয়াল্লিশ জন ছাত্র । আদনানের রোল বারো। প্রথম ক্লাস ইংরেজী । রোল কল শেষে মিস জেবা আজকে wh question বোঝাচ্ছেন । খুব খটমটে একটা ব্যাপার । কিন্তু কি সুন্দর যে তার বোঝাবার ভঙ্গি, মুগ্ধতা এসে যায় । আদনান পাস্ট টেনসের ডিড এর পর প্রেজেন্ট ফর্ম বসছে কেন সেটা ধরতে পারছে না ।প্রশ্ন করতে যাবে এমন সময় বেশ একটু শোরগোল উঠলো ।এর মধ্যে কে যেনো বলছে জেবা কই রে জেবা । কোন রুমে ?
হুড়মুড় করে কিছু লোক ক্লাসে ঢকে পড়ল ।একজন মাঝবয়সী বেশ মোটাসোটা ভদ্রলোক জেবা ম্যাম এর দিকে এগিয়ে এসে রুক্ষ গলায় বলল - এই তুমি জেবা ?
-হ্যাঁ আমি জেবা । বলুন।আপনাদের কি আমি চিনি?
-অত চেনা চিনির কিছু নাই ।তুই আমার পোলারে কান ধইরা উঠবোস করাইছোস ক্যান।
-কে ?বুঝতে পারলাম না ..ও...জামিলের কথা বলছেন।
-শালী ঠিকই তো চিনস ।আমার নামও শুনছোস নিশ্চয় ।তাইলে এতো সাহস পাইলি কই ।নিজেরে কি ভাবস ।
-প্লিজ আপনার ভাষা ঠিক করুণ । ভদ্র ভাবে কথা বলুন।
-দুই দিনের মাইয়া কয় কি ওর কাছে আমার ভাষা শিখতে হইবো ।ভদ্রতা শিখতে হইবো ।সাথে সাথে জামিলের বাবার সাথে আসা লোকগুলো হে হে করে হাসতে লাগলো।বিশ্রি হাসি।
এই ফাকে আদনান গিয়ে বড় ম্যাডামকে ডেকে নিয়ে এলো ।বেশ গোলমেলে অবস্থা। সেদিন অনেক ঝামেলা হলো ।অনেক......।আদনান অত বোঝে না ।তবে শুনেছে।জেবা ম্যমকে নাকি অফিস রুমে কান ধরে দাড়িয়ে থাকতে হয়েছে।জামিলের বাবাএই এলাকার এম পি র খাস লোক। যাকে বলে ডান হাত।তাকে ঘাটিয়ে এই এলাকায় স্কুল চালানো মুশকিল।সেদিন স্কুলের ক্লাস গুলো ঠিক মতো হলো না ।এই প্রথম জেবা ম্যামকে সে কাঁদতে দেখলো। টিফিনের সময় জেবা ম্যামের ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না দেখে তার বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠলো।কেউ কেউ বলতে লাগলো জেবা ম্যাম নাকি চাকরি ছেড়ে দেবেন।আদনানের বুকটা হঠাৎ খাঁখাঁ করে উঠলো।সে স্কুল থেকে বেরিয়ে এলো ।রোদ বেশ চড়েছে ।আদনান রাস্তার এক ধার ধরে ছোট ছোট পা ফেলে হাটতে লাগলো ।
শরতের আকাশে বিভিন্ন আকৃতির অনেকগুলো মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে।আদনান আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো ।তার চোখ আদ্র হয়ে উঠেছে। সে অনেক কষ্টে কান্না চাপলো ।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৪:৪৭
৮টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রুশদেশের চিরায়ত শিশুসাহিত্য

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ১৮ ই মে, ২০২৬ রাত ৩:১৭


ঊনবিংশ শতাব্দীর মহান লেখক চেখভ , তুর্গেনেভ , দস্তয়েভ্‌স্কি , তলস্তয়ের নাম বিশ্ববাসীর কাছে সুপরিচিত। এই লেখকেরা - রাশিয়ার জাতীয় গৌরব । ঊনবিংশ শতাব্দীর রুশ লেখকদের মধ্যে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের স্পষ্ট বার্তা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:১৭



কারিনা ইস্যুতে যা ঘটেছে, তা শুধু একটি পরিবারের আত্মপক্ষ সমর্থন না- এটা জনমতের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। যদি শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই হেটস্পিচ আসতো, তাহলে কারিনার মা জানাজার পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রক্তের দাগে ধুয়ে যাওয়া আভিজাত্য: কারিনা কায়সারের বিদায় এবং আমাদের কিছু নির্মম শিক্ষা

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১৮ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯



​বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত নিয়মে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ সব বৈরিতা ভুলে যায়। জানাজার খাটিয়া সামনে রেখে স্বজনরা কেবল ক্ষমা চান, চিরবিদায়ের প্রার্থনা করেন। কিন্তু গতকাল আমরা এক অভূতপূর্ব ও হাহাকারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইউনুস শুধুমাত্র বাই বর্ন বাংলাদেশী!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


আমেরিকার সাথে চুক্তির কথাটি আসলেই ইউনুসের উপদেষ্টাসহ তার লোকজন বলে বিএনপি ও জামাতের সাথে আলোচনা করেই চুক্তিটি হয়েছে!
বিএনপি ও জামায়েতের সাথে আলোচনা করলেই কি এই চুক্তি সঠিক হয়ে যায়?

আপনাদের বিএনপি-... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজেকে জানুন, নিজেকে গড়ুন

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৭

"নিজেকে জানুন, নিজেকে গড়ুন — নীরবতা হোক আপনার শক্তির সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র।"
সব সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আপনার একার না। আপনি যদি বারবার বোঝান, কিন্তু কেউ বুঝতে না চায় — তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×