somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কৃষ্ণকলি-নতুন পথের হাতছানি- ২য় পর্ব

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/Rafiqvai/30284445#nogo|কৃষ্ণকলি-[সহজ সরল এক গ্রাম্য বালিকা]]
{ দ্বিতীয় পর্ব}
যৌথ পরিবারে সাধারণত কর্তা কেন্দ্রিক হয়ে থাকে।তাই পরিবারের ছোট বড় সকল কিছুর সিদ্ধান্তই এক কর্তার নির্দেশে আসে তাই এখানে ওই একজন ছাড়া বাকীদের মতামত এর গুরুত্ব কম থাকে।আমাদের পরিবারে কর্তা আমার দাদাজান । তিনি অবশ্য আমায় খুব ভালো বাসে দাদাজান যদি না থাকতো তবে আমরা মা ও মেয়ে এ বাড়িতে থাকতে পারতাম কিনা সন্দেহ আছে ।

দাদাজানের ভয়ে আমাদের কেউ তেমন কিছু না বললেও এটুকু বোঝা যায় দাদাজানের অবর্তমানে আমাদের মা মেয়ে এখানে থাকা হবে না।সেজন্য মা যে চিন্তা করেন তা আমি বুঝি।ইদানিং তিনি আমার বিয়ে নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছেন ।আমার বয়স এখন পনেরো গ্রামে আমার বয়সী অনেক মেয়ের বিবাহ সম্পন্ন হয়ে গেছে। ছোট বেলা থেকে আমার খুব শখ আমি অনেক ক্লাস পর্যন্ত পড়বো। কলেজ যাবো।

আজ সকাল সকাল লাবু ঘটক দাদাজানের সাথে দরদালানে আলোচনা করছেন।লাবু ঘটকের দর্শনে আমার মনটা একটু ভারি হয়ে এলো।আমি ঠিক বুঝে গেছি সে কি জন্য এসেছে ।তাকে আমার মতলববাজ বলে মনে হয়।

শত কাজের ভিড়ে মা এসে বলল, কলি ভালো করে সাবান মেখে গোসলটা সেরে ফেল।আর মুখে একটু ক্রিম মাখিস।তোর বয়সী মেয়েরা দেখিস না কত সেজেগুজে থাকে। আর তোকে দেখলে তো ভুত ও পালাবে।গোসলের আগে মুখটা একটু ভালো করে ঘষে নিবি,
বুঝেছিস।
এতো সকাল সকাল কেউ গোসল করে?
তুমি বড্ড মুখেমুখে উত্তর করা শিখেছো, এরকম চালিয়ো পরের বাড়িতে ! সোজা ঘাড় ধরে বের করে দেবে।
কে যাচ্ছে তোমার পরের বাড়ি?
না তোমাকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবো? হুশ আছে তোমার দাদাজান চোখ বুজলে আর পায়ের তলায় মাঠি থাকবে?টিকতে পারবে এ বাড়ি?সময় থাকতে পথ দেখ।পরে আফসোসের কুল থাকবেনা।
আমি লেখাপড়া শিখতে চাই মা।
সে যদি তোমার শ্বশুরবাড়ির লোক চায় তো হবে।আমার অতো সাধ্যি নেই আর সাহস ও নেই । অনেক জ্বালায় জ্বলছি আর জ্বালিয়ো না।
এর মধ্যে আবার শ্বশুর বাড়ির কি হলো্?
যাও সকাল সকাল গোসল সেরে এই কাপড় বের করে রেখেছি ।তৈরি হয়ে নাও বৈঠকখানায় লোক এসেছে যুথি তোমার সাথে যাবে তুমি দেখা করে আসো।আর হ্যাঁ খবরদার চ্যাটাং চ্যাট্ং করে কথার উত্তর দেবেনা । যা জিজ্ঞেস করে নম্র ভদ্র হয়ে গলা নামিয়ে কথা উত্তর দিবে।তোমার মেজাজ তো আমি চিনি।
তুমি সব সময় জেদ ধরোমা।আমার অচেনা অজানা লোকের সামনে রঙ মেখে সং সেজে যেতে ইচ্ছা করে না।
যা করি তোমার ভালোর জন্য করি।তোর দাদাজান চোখ বুজলে।তোমার চাচারা দাফন কাফন সেরে এসেই সবাই মিলে আমাদের দুজনকে লাথি মেরে তাড়াবে। কথাটা মনে রেখো।আমি এর বেশী কিছু বলতে চাই না।

আমি এইটুকু বয়সে খেয়াল করে দেখেছি মেয়ে হয়ে পৃথিবীতে জন্মানোটাই পাপ। তার যেন কোন নিজ্বস্বতা বলে কিছু থাকতে নেই।তার কোন স্বাধীনতা নেই সব কাজে পদে পদে বাধা । এ করা যাবেনা ,ও করা যাবেনা ,ওখানে যেও না, ওর সঙ্গে মিশোনা । শুধু না না আর না।
মাঝে মাঝে দম বন্ধ হয়ে আসে ।কখনো কখনো নিজেকে মনে হয় খাঁচায় পোষা পাখি।কয়েকদিন হলো রেবা আপু এসেছে। আমার রড় চাচার বড় মেয়ে ।ও ঢাকায় থাকে। আমায় খুব ভালোবাসে প্রতিবার ঢাকা থেকে এলেই আমার জন্য নানা রকম বই নিয়ে আসে ।ও এলে আমার অন্য রকম আনন্দ হয়।
রেবা আপু হৈ হৈ করে ঘরে ঢুকলো,আরে কলি তোর নাকি বিয়ে?
হঠাৎ করে এমন কথা শুনে লজ্জায় আমার মুখটা লাল হয়ে গেলো।আমি অস্ফুষ্ট স্বরে বললাম, কি যে বলো না আপু।
নে নে তাড়াতাড়ি গুছিয়ে নে দাদাজান ডাকছে।
আমি রেবা আপুর হাত জড়িয়ে ধরলাম আপু আমি এখন বিয়ে করতে চাই না।
ওমা তা কেন?
আমার ভয় করে?তাছাড়া আমি পড়াশোনা করতে চাই্।
রেবা আপু খানিক কি যেন ভাবলেন তারপর বললেন আরে দেখতে এসেছে ।তো কি হয়েছে ? বিয়ে কি এতোই সহজ?তুই তৈরি হয়ে নে অনেকদিন মনের মতো সাজুগুজু করিনা । এই সুযোগে আজ আবার সাজবো।......আর তোকে ও সাজাবো পেত্নীর মতো করে .হিহিহি।

চলবে..।


#মানুষের ভাগ্য লিখন বিধাতার হাতে,
কখন কি হয় কেউ পারেনা জানতে।

সত্যি ই কি তাই? কে জানে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ২:৪৫
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গত ৪৮ ঘণ্টায় সামু'র সর্বোচ্চ পঠিত ২ ব্লগার হচ্ছেন - অপলক এবং সৈয়দ কুতুব

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১৭

গতকাল রাত ৮টা ১২ মিনিট থেকে এখন রাত ৯ টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত সামুতে পোস্ট এসেছে মোট ১৬টি, আমার এই পোস্টটি ছাড়া।
এই পোস্টগুলোতে উত্তর ও প্রতিউত্তর মিলিয়ে কমেন্টেসের সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×