বাংলা নববর্ষ উৎযাপন উপলক্ষ্যে বছরের অন্যান্য দিনে যে ছেলেটি বা মেয়েটি ফাস্ট ফুডে মজে থাকে সেদিন তারা পান্তা খাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামে। তাও আবার গরম ভাতে পানি ঢালা পান্তা। ওয়েস্টার্ন পোষাকে আগ্রহী যুবকরা পাজামা পাঞ্জাবী পরে আর যুবারা লাল সাদা বাসন্তী রঙ্গের শাড়ী পরে খোঁপায় ফুল গেঁথে পরিবেশটাকে রাঙিয়ে তোলে। সর্বত্রই একটা সাঝ সাঝ রব, উৎসবের আমেজ। পহেলা বৈশাখ এলেই আমরা একদিনের জন্য বাঙ্গালী সাজার চেষ্টা করি। অথচ সারা বছর ভীনদেশী সংস্কৃতি আর অনুষ্ঠান নিয়ে মত্ত থেকে নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, আর সংস্কৃতিকে ভুলে থাকি। আর এখন বৈশাখের নামে যা করি তা হাজার বছরের ঐতিহ্য বলে চালিয়ে দেই। অথচ যে পান্তা, ইলিশ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে মাতামাতি তা কখনই বৈশাখের আয়োজনে ছিলনা। কিছু মুক্তমনা প্রগতিশীলরা সুকৌশলে আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে এগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছে। আর হাজার বছরের ঐতিহ্য হালখাতা, গ্রাম্য মেলা, মিষ্টি খাওয়া ইত্যাদি হারিয়ে গেছে। মঙ্গল শোভাযাত্রা, পান্তাইলিশ বাঙালি সংস্কৃতিতে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে ৯০ দশকের পরে। এই বৈশাখ উপলক্ষে ফ্যাশনহাউজ গুলোর ব্যবসা হয়েছে প্রায় ৩,০০০ হাজার কোটি টাকা। আর ইলিশের পিছনে কত খরছ হয়েছে তা নাই বললাম। এগুলো এখন নাকি আমাদের সংস্কৃতির অংশ ! বাঙ্গালী তার বাঙ্গালিয়ানা জাহির করবে এটা গর্বের ও গৌরবের।তবে একদিনের লোক দোখানো বাঙ্গালী না হয়ে, মনে প্রাণে সারা জীবনের তরে বাঙ্গালী হয়ে ধারক ও বাহক হব বাঙ্গালীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির। পরিহার করা উচিত আত্মঘাতি সংস্কৃতির চর্চা। এই পহেলা বৈশাখে আমাদের শপথ হোক শুধু মাত্র একদিনের বাঙ্গালী সাজার চেষ্টা না করে বরং আমরা সারা বছরই বাঙ্গালী থাকবো। বাংলা সংস্কৃতির চর্চা করবো। তাতে যেমন বাঁচবে আমাদের সংস্কৃতি তেমনি বাঁচবে বেচারা ইলিশ !!
সবাইকে শুভ নববর্ষ ১৪২৪।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১০:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



