somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টাটকা একটা কৌতুক শুনে দিনের কাজ শুরু করুন (৫)

২৫ শে মার্চ, ২০১৪ সকাল ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উইল
ক এবং খ দুজন খুব ঘনিস্ট বন্ধু। তাদের বয়স আনুমানিক ২৫/২৬ বছর হবে। উইকএন্ডে তারা লং ড্রাইভে বের হয়েছিল। এখন ফিরছে। রাত ১০টার মত বাজে। রাস্তা প্রায় ফাঁকা। আয়েশি গতিতে গাড়ি চলছে। টুকটাক বাতচিত হচ্ছে। সময়টা তাদের বড়ই আনন্দে কেটেছে। এজন্য দুজনই খুব খুশি ছিল। তার উপর জ্যোত্স্নালোকিত রাতের স্বপ্নময় পরিবেশ তাদের মনকে আরও মোহময় করে তুলেছে।

কিন্তু বিধিবাম। তাদের এই আনন্দ বেশীক্ষণ স্থায়ী হলো না। বিশ্রী একটা শব্দ করে গাড়ির গতি আচমকা কমে আসতে লাগলো। কোনরকমে গাড়ি থামিয়ে এক্সিডেন্ট এড়ানো গেল। খুবই বিরক্তি নিয়ে তারা গাড়ি থেকে নামলো। দু’বন্ধু ঠেলেঠুলে গাড়িটাকে রাস্তার একপাশে দাঁড় করে ইঞ্জিন পরীক্ষা করে তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেল। কারণ এটি একেবারে বিকল হয়ে গেছে। রিপেয়ার ছাড়া এটা অচল। এখন কি করা যায়! তারা খুবই দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়লো। এই রাতে জনমানবহীন জায়গায় অচল গাড়ি নিয়ে কি করবে? তারা এদিক সেদিক তাকাতে লাগলো। তাদের চোখে পড়লো বেশ দূর থেকে একটা আবছা আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে। এখানে থাকা বিপদ হতে পারে ভেবে তারা রাতটা কাছাকাছি কোন গ্রামে কাটানোর সিদ্ধান্ত নিল। সে মোতাবেক ওই আলোর উদ্দেশ্যে তারা হাঁটা দিল।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা ওখানে পৌঁছে গেল। তারা দেখলো বেশ বিচ্ছিন্ন এলাকায় একটা ছোট্র বাড়ি। তারা বেশ অবাক হল। আবার একটা আশ্রয় হবে ভেবে খুশিও হলো। অগত্যা বাড়ির গেটে গিয়ে হাঁক দিল, “বাড়িতে কেউ আছেন?” কোন শব্দ নেই। তারা আবারো ডাকলো। কিছুক্ষণ পরে খুটখাট শব্দ হলো। কেউ আসছে ভেবে তারা অপেক্ষায় থাকলো। পরে ভেতর থেকে একজন মহিলা কণ্ঠের আওয়াজ আসলো, “কে”?
তারা সমস্বরে বলে উঠলো, “আমরা খুব বিপদে পরেছি, সাহায্য চাই”। খুব সংক্ষেপে নিজেদের দুর্গতির কথা বর্ণনা করে তারা রাতটা থাকতে দেয়ার আবেদন করলো।
মহিলা কন্ঠ আবার আওয়াজ দিল, “আপনাদের বিপদের কথা বুঝতে পারছি। কিন্তু আমি অপারগ। কারণ আমি এই বাড়িতে একে ত একলা থাকি। তার উপর ঘর মাত্র একটাই। আপনারা অন্য কোথাও দেখেন”।

দু’বন্ধু এবার অধিক কাতর স্বরে কাকুতি-মিনতি জানাতে লাগলো। বলতে লাগলো, “আপনার ভয়ের কোন কারণ নেই। আমরা কোনমতে রাতটা কাটিয়েই চলে যাব। আমাদের জন্য বারান্দাই যথেস্ট। দয়া করে একটু সদয় হোন”।
মহিলাদের মন নরম। কাজেই কাকুতি-মিনতির জয় হলো। দু’বন্ধু থাকার একটা জায়গা পেল। তারা খুশি মনে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলো।
গল্পের প্রথম পর্ব শেষ।

দ্বিতীয় পর্বঃ
এরমধ্যে বহুদিন পেরিয়ে গেছে। সময়ের বহমানতায় দু’বন্ধু সেই লং ড্রাইভে যাওয়ার স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছে। হঠাৎ ‘খ’ এর নামে একটা রেজিস্ট্রি করা বড় সাইজের একটা খাম এসে পৌঁছালো। খামটি খুলে সে দেখতে পেল দলিল দস্তাবেজ জাতীয় কিছু কাগজ-পত্র। ভাল করে দেখে তার চক্ষু ছানাভরা! ‘উইল পত্র’। তার নামে!! সে যুগপৎ বিস্ময় ও আনন্দে দিশেহারা হয়ে গেল। প্রেরকের নাম চিনতে না পারলেও ঠিকানা তার পরিচিত মনে হলো। একটু চিন্তা করে সে নিশ্চিত হলো, এটা সেই লং ড্রাইভের রাত্রিযাপনের ঠিকানা। কিন্তু তবু তার বিস্ময় কাটলো না। কারণ ওই মহিলা ত তার নাম জানে না। তাহলে কিভাবে এটা তার নামে এলো। কোন কূলকিনারা করতে না পেরে সে তার বন্ধু ‘ক’ এর কাছে গেল। তাদের আলাপন শুনুনঃ

খঃ দোস্ত, সেই লং ড্রাইভের কথা মনে আছে? ঐ যে রাস্তায় গাড়িটা নস্ট হয়ে গেল...।
কঃ হুম, মনে পড়েছে। ঐ যে এক মহিলার বাড়িতে আমরা আশ্রয় পেয়েছিলাম। আহ! বড়ই বিপদে পরেছিলাম আমরা। তা, এতদিন পরে ওকথা কেন?
খঃ বলছি। তার আগে বল, তুই কি রাতে ঐ মহিলার ঘরে ঢুকেছিলি?
কঃ (অপরাধীর ভঙ্গিতে আমতা আমতা করে) না, মানে হুমম, আমি খুবই দুঃখিত দোস্ত। ... নিষেধ সত্তেও রাতে আমি উনার ঘরে ঢুকেছিলাম...।
খঃ আচ্ছা, তুই কি ঐ মহিলার কাছে আমার কথা বলেছিলি?
কঃ আমি আবারো খুব দুঃখিত দোস্ত। মহিলা যখন আমার নাম, ঠিকানা জানতে চাইল তখন আমি চালাকি করে নিজেকে তোর নামে পরিচয় দিয়েছি। আমি তোর কাছে মাফ চাইছি। এটা আমার উচিত হয়নি। কিন্তু তুই এসব জানলি কিভাবে?
কঃ ঐ মহিলা কিছুদিন আগে মারা গেছেন। মারা যাবার আগে উনার সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আমার নামে উইল করে দিয়ে গেছেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০১৪ সকাল ১০:৩১
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×