somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিহত ফরহাদ খাঁ দম্পতির সুষ্ঠু বিচারে বাধা কোথায়?

০৮ ই জুলাই, ২০১১ রাত ৯:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনার অন্তরালে অসৎ ক্ষমতাশীলদের চিহ্নিত করা কী এতোই কঠিন?
নিহত ফরহাদ খাঁ দম্পতির সুষ্ঠু বিচারে বাধা কোথায়?

সমাজের দপর্ণ হচ্ছে সংবাদপত্র। সংবাদকর্মীরা তাদের নিজেদের প্রাণ বাজি রেখে এই পেশায় কাজ করেন। অধিকাংশ সংবাদপত্রেই সংবাদকর্মীদের পারিশ্রমিক অনিয়মিত এবং পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক কম। সাংবাদিকরা ক্রমেই নানানভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সাংবাদিকদের প্রতি কেন এই বৈরী আচরোণ? সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় যারা নিবেদিত, তাদের এই বেহাল দশা কোন রাষ্ট্রর জন্য কী কল্যাণকর? বিগত কয়েক বছরে সত্য সংবাদ প্রকাশের রোষানলে খুন হতে হয়েছে বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে। তাদের হত্যার সুষ্ঠু বিচার হওয়া তো দূরে থাক, নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানসিকতা আছে ক’জনের? পরিস্থিতি বিশ্লষণে একটি কথা নিশ্চতভাবে প্রতীয়মান, যারা সমাজের একটি অতি গুরুর্তপূর্ণ কাজের সাথে জড়িত, তারাই প্রতি পদে পদে বিড়ম্বিত। সত্য সংবাদ লেখার অপরাধে হুমকী-ধামকী সাংবাদিকদের এখন নিত্য সঙ্গী। আর নিহত সাংবাদিকদের হত্যার বিচার না হওয়ার ফলে একটি মহলের কাছে সাংবাদিক নির্যাতন করার বিষয়টি এখন সহজ পক্রিয়ায় উপনীত হয়েছে। যদি এই অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে সংবাদ মাধ্যমের কী অবস্থা হতে পারে সেটা সহজেই অনুনেয়। যেই রাষ্ট্রের সরকার তার জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, সেই রাষ্টের সরকারকে যদি ‘ব্যর্থ’ বলা হয়, তাহলে কী খুব বেশি ভুল বলা হবে? গত ১০ বছরে খুন হওয়া কোন সাংবাদিকের হত্যার সুষ্ঠু বিচার বাংলাদেশে হয়নি। কেন হয়নি, সেটা একটা বড় রহস্য। এই রহস্যের অনুসন্ধান করতে চেষ্টা করেছেন সাংবাদিক শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ। ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথমেই থাকছে সম্প্রতি স্ব-স্ত্রীক নিহত হওয়া সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ হত্যাকাণ্ডের বর্তমান অবস্থা।
২০১১ সালের জানুয়ারি মাসের শেষার্ধে একটি হত্যাকাণ্ড সংবাদপত্র মহলে আরো একটি কালো অধ্যায়ের সূচনা করে। সেটি হচ্ছে সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ দম্পতির আকস্মিক খুন। গত ২৮ জানুয়ারি এই ঘটনা ঘটে। হত্যার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ড এখনও এক বড় রহস্য। কেন এই হত্যা, সে সম্পর্কেও স্বচ্ছ কোন ধারণা দিতে পারছে না পুলিশ। উল্লেখ্য সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ প্রত্যক্ষভাবে সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িত ছিলেন না। তিনি কোন পত্রিকায় রিপোর্টার ছিলেন না। সুতরাং রিপোর্ট লিখে তাকে সন্ত্রাসীদের রোষানলে পড়তে হবে, এমন ধারণা করা যায় না। প্রকৃত অর্থে তিনি ছিলেন একজন সমবায় কর্মী। ২০০৮ সালে ফরহাদ খাঁ সমবার অধিদপ্তর থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর যোগ দেন দৈনিক জনতায়। সেখানে তাঁর কাজ ছিলো রিপোর্টিং ক্ষেত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে এই হত্যাকে পারিবারিক কলহের কারণ হিসেবে অবহিত করা পুলিশের জন্য সহজ ছিলো। সুযোগের সৎ ব্যবহার করে পুলিশ সেই কাজটি-ই করেছে। কিন্তু যে কোন হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ ও সুষ্ঠু তদন্ত না হলে, হত্যা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না। এই ক্ষেত্রে পুলিশের তদন্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ময়কর বিষয় হলো হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন খোদ তদন্ত কর্মকর্তারা-এমন গর্হিত অভিযোগ উঠে এসেছে। ফরহাদ খাঁ ও তার স্ত্রী খুনের বিচারের দাবিতে তাদের কন্যা লিখিত একটি বক্তব্য পত্র-পত্রিকায় ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠিয়েছে। সেই বক্তব্যটিও অজ্ঞাত কারণে কোন মিডিয়ায় পূণাঙ্গভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফরহাদ খাঁ’র কন্যা আইরিন পারভীন এর লিখিত বক্তব্যটি এখানে হুবুহু তুলে ধরা হলোঃ

‘সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ ও রাহিমা খানম হত্যা মামলার বর্তমান অবস্থা’
২৮ এ জানুয়ারী শুক্রবার, সাংবাদিক ফরহাদ খাঁর নয়া পলটনের ভারা বাসার ডবল তালা ভেঙ্গে সস্ত্রীক গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নৃশংস বর্বরোচিত ভাবে আততায়ীরা হত্যা করে, মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। প্রাথমিক তথ্য বিবরনিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিটা বাহিনীই বলে, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, পরিবারের ঘনিষ্ঠ জনরাই অথিতি বেশে রাত্রিযাপনের উসিলায় হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। আরও জানা যায় অথিতিরা ভি আই পি,যাদের জন্য অসহায় দম্পত্তি তাদের নিজ বেডরুমটি পর্যন্ত ছেরে দেন। তারাই রাত্রের অন্ধকারে ভাড়াটে খুনির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়, খুনের আলামত নষ্ট করে এবং নির্বিঘ্নে ঘরে ডবল তালা মেরে পালিয়ে যায়। জোরা খুন ও সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের মত আলোচিত বিষয়টি তোলপাড় তুলে সর্ব মহলে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের নেতৃত্তে ঘটনার ৩ দিনের মাথায় ধরা পরে খুনিরা। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি রফিকুল ইসলামের নেতৃত্তে একটি দল মিরপুর আহমদ নগর পাইকপারা হতে গ্রেফতার করে সাংবাদিক ফরহাদ খাঁর ভাগ্নে রাজুকে। পুলিশের দলটিকে নিয়ে যায় মিরপুর মাজার রোডের তার খালাতো ভাই ইয়নের বাসায়। ইয়ন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রক্তভেজা প্যান্ট, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার বের করে দেয়। সে সাথে দলটিকে নিয়ে যায় পেশাদার ভাড়াটে খুনি ওশানের বাসায়। একই রাতে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে সাংবাদিক ফরহাদ খাঁর ২ ভাগ্নে রাজু ও ইয়ন সহ পেশাদার ভাড়াটে খুনি ওশানকে। নাটকীয়টা শুরু হয় আসামিদের ধরার পরেই। কাকপক্ষীতে টের পাওয়ার আগেই, ছাড়া পেয়ে যায় ভাগ্নে রাজু। সাংবাদিক দম্পত্তির কাছে এই ভাগ্নেটি ছিল বিশ্বস্ত। নিয়মিত আসা যাওয়া ছিল। ঘটনার আগের দিনও ভাগ্নেকে নিয়েই আমিন জুয়েলার্স হতে গোল্ডের অর্ডার দেন রাহিমা খানম। ভদ্রবেশী চতুর ভাগ্নে রাজুকে কেন ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেও ছেরে দিল টা এক রহস্য। জানা যায় এই খালাতো ভাই সহই সসিক্রিত খুনি ইয়ন আলমারি হতে নেয়া মোবাইল সেটটির লক খুলতে মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে যায়। আরও অবাক হবার মত বিষয় পেশাদার ভাড়াটে খুনি ওসানকে একই রাত্রে ফরহাদ খাঁর ২ ভাগ্নে সহ গ্রেফতার করা হলেও প্রেস মিডিয়ার সামনে তাকে উপস্থিত করা হয় ২৬ দিন পর। কেন ? পরবর্তীতে ভাড়াটে খুনি একপর্যায়ে জানায়, একই রাত্রে গ্রেফতার করা হলেও, ডিবি অফিস হতে টয়লেটে যাবার নাম করে পালিয়ে যায়! কি করে সম্ভব ডিবি অফিস হতে জোরা খুনের আসামির পালিয়ে যাওয়া! এ এক বড় রহস্য। মূল আসামি ইয়নকে ধরার পর বলা হয়, একটি ছুরি খাবার ঘরের টেবিলে ও একটি ছুরি রান্নাঘর হতে নিয়ে তারা হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়। যতটুকু জানা যায় ফরহাদ খাঁ একজন সাংবাদিক ছিলেন, কসাইনা। এরকম ধারালো ছুরি তাদের বাসায় ছিলনা বলে জানাএ তাদের বাসাএ নিয়মিত আসা যাওয়া করা মানুষগুলো। পরবর্তীতে ভাড়াটে খুনিও জানায় হত্যাকাণ্ড ঘতানর জন্যই তাকে মাঝরাতরে ঘরে প্রবেশ করানো হয় আর মূল খুনি ইয়ন ধারালো অস্ত্র ও হাতমোজার বেবস্থা করে। তবে কেন কি সেই রহস্য যে তদন্তকারী সংস্থাটি মিথ্যা বিবৃতি দিল হত্যাকাণ্ডে বেবহিত অস্ত্র সম্পর্কে ?
রহস্যময় কারনে পেশাদার ভাড়াটে খুনির নাম হয়ে যায় রাজু আহমেদ রাজু, অরফে ওসান। এ কিসের ষড়যন্ত্র ? ভাগ্নে রাজুকে বাঁচানোর ছলচাতুরে নয়তো ? কারা অবস্থান নিএয়েছিল সে রাত্রে সাংবাদিক ফরহাদ খাঁর বাসায় ? জানা যায় খুনি ইয়ন গ্রাম থেকে চাউল নিয়ে এসেছিল ২৬ এ জানুয়ারী, মঙ্গলবার। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফা ঢাকায় ইস্তেমা শেষ হলেই, অর্থাৎ পরবর্তী রবিবার, ৩০ ে জানুয়ারী ফরহাদ খাঁ দম্পত্তির গ্রামে যাবার কথা ছিল। তবে কেন তরিঘরি করে ২৬ জানুয়ারী গ্রাম থেকে চাউল পাঠানো হল । কেন খুনির মা খুনিকে দিয়ে এই সমায় চাউল পাঠাল ? সে তো ভালো করেই জানত তার ছেলের বাসায় যাওয়া নিষেধ। চাউল পাঠানোর ভাহানা কিসের উদ্দেশ্য ? চাউল নিয়ে সরাসরি সে চলে যায় মিরপুর, আহমেদ নগর তার খালার বাসায়। সেখান থেকেই বৃহস্পতিবারে তারা চাউলের দেওয়ার উসিলায় তারা ফরহাদ খাঁর বাসায় আসে। কি উদ্দেশ্য ছিল চাউল দিয়ে সরাসরি ফরহাদ খাঁর বাসায় না এসে তার খালার বাসায় যাওয়া ? কি পরামর্শ হয় সেখানে ? ভাগ্নে ইয়ন ফরহাদ খাঁ দম্পত্তির কাছে বিশ্বস্ত ছিলনা। স্পষ্ট নিষিদ্ধ ছিল তার বাসায় আসা। কারা সে বিশ্বস্ত স্বজন, যাদের উসিলায় নিষিদ্ধ ভাগ্নে ইয়ন ঘরে রাত্রি যাপনের সুযোগ পায়। ভদ্রবেশী বিশ্বস্ত ভাগ্নে রাজু নয় কি ? কারা তারা ভি আই পি অথিতি, যাদের জন্য নিজেদের সবার ঘরটিও ছেরে দিয়েছিল সাংবাদিক দম্পত্তি ? পরেরদিন দাওয়াত ছিল রাজুর পরিবারের। এমন ঘটেনিতো যে রান্নার কাজে বয়স্ক দম্পত্তিকে সাহায্যের উসিলায় রাজুর মা আগের রাত্রেই চলে আসে ? স্থান নেয় মূল বেডরুমটিতে,ভিয়াইপি অথিতির !!
কখন হত্যা করা হল সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ এবং তার স্ত্রি রাহিমা খানমকে ? অসহায় দম্পত্তির একমাত্র মেয়ের পরিবার ইতালিতে বসবাসকারী তাদের সাথেই একত্রে জীবনের শেষ সমায়তা পার করতে চেয়েছিলেন এই দম্পত্তি। ইতিমধ্যে তারা ঘুরেও এসেছেন কয়েকবার। স্বপ্ন ছিল তাদের একটি রেস্টুরেন্ট করার। একমাত্র মেয়েকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করার কথাউ দিয়েছিলেন বাবা মা। অর্থলোভী পরিবারের একংশের কাছে বিষয় গুল হিংশার কারন হয়ে দারায়। ২০০৮ সালে সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ সমবার অধিদপ্তর হতে পেনসনে যান। পরিবারের লোভী অংশের লোলুভ দৃষ্টি তখন থেকেই ফরহাদ খাঁর গচ্ছিত টাকার প্রতি। বিভিন্ন সমায় টাকা হাতিয়ে নেওয়ার নানান ফন্দিফিকিরও করেন তারা। যেমন গ্রামের বাড়িতে নতুন ঘর করা, ভাগিনাদের বিদেশে পাঠানো, ভাগ্নি জামাইকে ব্যাবসার কাজে অর্থ ধার দেয়া, তাদের নানান আবদার, কোনটাই মিটাতে পারছিলনা তারা। উপরন্ত ফরহাদ খাঁ সিদ্ধান্ত নেন স্থায়ী ভাবে ইতালিতে চলে আসবেন। রেস্টুরেন্ট করার মাধ্যমে পারিবারিক ভাবেই পরিচালনা করবেন প্রতিষ্ঠান। রেস্টুরেন্টের স্বপ্নই জীবনের শেষ স্বপ্ন হয়ে যায় ফরহাদ খাঁ দম্পত্তির কাছে।ডিসেম্বরে রহিমা খানম ইতালি হতে দেশে যাবার পর হতেই নানান বাহানায় নিয়মিত বাসায় আসা যাওয়া শুরু করে বিস্বস্ত ভাগ্নে রাজু। অর্থলোভী সজনরা ঘরে নগদ অর্থের সন্ধান নিশ্চিত হয়েই সুপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে ২ জন নিরিহ মানুষকে।
২৮ এ জানুয়ারী ঘটে আরও অনেক নাটকীও ঘটনা। ফরহাদ খাঁর বোন ( রাজুর মা ), দুপুরে দাওয়াত খেতে আসে বড় ছেলে রিপন ও তার সদ্য বিবাহিত স্ত্রি নিয়ে। ঘরের দরজায় তালা বন্ধ দেখে অপেক্ষা করে, গাল মন্দ করে। ইতিমধ্যে ফরহাদ খাঁকে লেখক সমিতির অফিসে ও ফোনে না পেয়ে বাসায় চলে আসে তার সঙ্গিরা। ফরহাদ খাঁর বোনের মুখে কূটব্যাক্য শুনে তারা পরামর্শ দেন স্বজনদের জানাতে । কিন্তু তার বোন ছেলে ও ছেলের বৌ সহ চলে যায়।ফরহাদ খাঁর সঙ্গিদের বক্তব্য রাতের আধারে হত্যা করে দিনে দাওয়াত খওয়ার নামে লাশ বের করার বেবস্থা করলো। কে যানায় স্বজনদের, পরবর্তীতে দুই একজন আত্মীয় জানায় পুলিশ এসে ঘরের তালা ভাঙ্গার আগেই জানান হয়েছে ঘরে মেরে রেখে যাওয়া হয়েছে তাদের । শুধু তাই নয় পরবর্তীতে সাংবাদিক ও পুলিশ কে ঘিরে থাকা স্বজনদের খুনি দলটি পরিকল্পিত মিথ্যা তথ্য । সুপরিকল্পনায় কোনও খাদ ছিল না খুনিদের ।
ডিবি পুলিশের কাছে মূল খুনি ইয়ন জানায় ভাড়াটে খুনি পেশাদার বলেই তাকে সে সঙ্গে নিয়েছিল। ইতিপূর্বে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পূর্ব অভিজ্ঞতা নিশ্চিত হয়েই ফরহাদ খাঁর এই ভাগ্নেটি পেশাদার খুনিটিকে সঙ্গি করে। দুঃখের বিষয় গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই বর্বরোচিত খুনিদের কোন পূর্ব ক্রাইম সন্ধান করতে পারেনা। কেন ? তারা কি চায়না এই খুনিদের পূর্ব কর্মকাণ্ড প্রকাশ পাক, সামনে আসুক ? তদন্তকারী সংস্থাটিতে তদন্তকারী দলটির মধ্যেও আছে সমন্বয়হিনতা।এ ডি সি রফিকুল ইসলামের নেতৃতে ডি বি পুলিশের দলটি আসামিদের গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে তার পরিবরতে অন্য কর্মকর্তা আসেন । কি কারন তার।ভাগ্নে রাজুকে গ্রেফতার করেও ছেরে দেয়া আর পেসাদার ভাড়াটে খুনি ওসানের ডি বি অফিস হতে পালিয়ে যাওার সাথে কোনও সম্পর্ক আছে কি । বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন কর্মকর্তার কাছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য জানা যায়!! এক কর্মকর্তা যেখানে বলেন ইয়ন ইতিপূর্বে তার করা ক্রাইম গুলও সবি বর্ণনা করেছে, যেমন তার ঘর থেকে স্বর্ণ নিয়ে বিক্রি করে দেয়া, সেই ক্ষেত্রে মামলার তদন্তকারী (I O) জানান, ইয়নের স্বর্ণ চুরি করে বিক্রির বিসয়ে তার কোনও ধারনাই নেই।মালামাল জব্দের লিস্টও ভিন্নতা ছিল কর্মকর্তাদের বক্তবে তবে কি তারাও হত্যা করে লুট হওয়া মালামালের ভাগ পেয়েছে।পরবরতিতে মামলার তদন্তের স্বার্থে বাড়ি হতে খুনির মায়ের পাঠানো চাউল জব্দ করার বাহানায় তদন্তকারী কর্মকর্তা খুনিদের রেখে যাওয়া মালামাল লুট করে নেয় । তদন্তকারী দলটির এই অমিল কথাবার্তা গুলই প্রমান করে সাংবাদিক দম্পত্তি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তারা যথেষ্ট আন্তরিক নয়। উপরন্ত তদন্তকারী আসামি পক্ষ ধারা সরাসরি প্রভাবিত বলে শুরু হতেই অভিযোগ করছে বাদী পক্ষ। এই ক্ষেত্রে ভুল ও ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট মামলাটিকে ভিন্নখাত্রে প্রভাবিত করবে, যার ফলে সুবিচার হতে বঞ্চিত হবে অসহায় দম্পত্তির পরিবার। চতুর ভাড়াটে খুনিকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে শুরু হতেই। ভাগ্নে রাজুকে ছেরে দেবার পর, ডিবি অফিস থেকে পালিয়ে যাবার সুযোগ দেয়া হয় প্রফেশনাল ভাড়াটে খুনিকে। কীভাবে প্রভাবিত হল তদন্ত কর্মকর্তা । খুনি ইয়নের চাচা জালকাঠির কাঁঠালিয়া থানার ও সি আব্দুল খালেক মামালার আই ও আবুল খায়ের মাত্তুব্বর ও জালকাঠি র লোক শুধু তাই নয় খুনিদের ঢাকায় দুইটি জমির অংশীদার রফিকুল ইসলাম সি আই ডি তে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার পি এ হিসেবে কর্মরত । এবং তিনিও জালকাঠি অঞ্চলের মানুষ । ঘটনার শুরুতেই তারা বিষয়টিকে নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে আসে । সকাহত পরিবার যখন হারানো স্বজন আর খুনি দুর্জনদের নিয়ে সকাহত অনৈতিক মানুষগুলো প্রসাসনের সুযোগ নিয়ে খুনিদের পক্ষে কাজ করেছে।সাহায্য কারী হিসেবে তাদের দলে ভিরে সাংবাদিক ফরহাদ খাঁর আপন ছোট ভাই আবুল কালাম খান। ভিক্ টিমের ভাই আর বাদী পক্ষের লোক হয়ে ডি বি অফিসে গেলেও কাজ করেন তিনি খুনিদের হয়ে । তার সহজ সরল কথা , এক পরিবারের জন্য তো আর তিন পরিবার মারা যায় না ।ষড়যন্ত্র কারিরা দলে ভারি। বর্তমানে জোরা হত্যা মামলাটি ডিবি পুলিশের তদন্তাধিন। সেই সাথে সররাস্ত্র মন্ত্রনালয়ের চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে, মনিটরিং সেলের অন্তরভুক্ত। ইতিমধ্যেই ভাড়াটে খুনির কৌসুলিরা ( পাঁচজন উকিল নিয়োগ দেয়া হয়েছে ২ খুনির পক্ষেই )
নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন জানিয়েছে রাজু আহমেদ রাজু অরফে ওসানের। যেই খুনিটি জোরা হত্তায় অংশগ্রহন করলো ইতিপূর্বে যার হত্যাকাণ্ডের অভিজ্ঞতা রয়েছে, সর্বোপরি ডিবি অফিস হতে চতুরতার সাথে পালিয়ে গেল, কোনও ভাবে যদি তার জামিন মঞ্জুর হয়, তাহলে কি তাকে আর বিচার কার্জে পাওয়া যাবে ? শুধু তাইনয় বিশেষ পিটিশনের মাধ্যমে ইতিমধ্যে পেশাদার ভাড়াটে খুনির কৌসুলিরা আরও জানিয়েছে ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধি রাজু আহমেদ রাজু অরফে অশানের কাছ হতে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে জোর করে নিয়েছে ডিবি কর্মকর্তারা!!!
এখন পর্যন্ত মামলাটির মূল প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি। আসা করা যায় সররাস্ত্র মন্ত্রনালয়ের চাঞ্চল্যকর মামলার মনিটরিং সেলের আলোচনায় পুঙ্খনাপুঙ্খক ভাবে সার্বিক বিষয় গুল আলোচিত হয়ে সঠিক সত্য প্রকাশ পাবে। সুপরিকল্পিত পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ ও রাহিমা খানম। অর্থলোভী স্বজনরা বিশ্বস্ততার বেশেই হত্যা করে ২ জন নিরহ মানুষকে। আমরা সঠিক সত্য জানতে চাই। চাই সঠিক তদন্ত রিপোর্ট, যা কিনা পরবর্তীতে সহায়তা করবে সুবিচার পেতে। অসৎ তদন্তকারীর আসামিপক্ষ ধারা প্রভাবিত তদন্ত রিপোর্ট নয় ।

ফরহাদ খাঁ’র কন্যার অভিযোগ, তার পিতা-মাতার হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে না। এর উদাহরণও তিনি তার ভাষায় প্রকাশ করেছেন। এই ব্যাপারে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে, আইরিন পারভীনের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আবেগ প্রবন হয়ে অনেক বেশি অভিযোগ করেছেন আইরিন। তবে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে উচ্চ মহলের হাত রয়েছে। ফলে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পায় নি। তিনি আরো জানান, এই হাত এতোটাই শক্তিশালী, ইচ্ছে করলেই প্রকৃত রিপোর্ট প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে এই হত্যার সুষ্টু বিচার আশা করা যায় না।’ অপরদিকে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের দাবি, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচারের স্বার্থে সরকারের যা যা করণীয়, তাই করা হবে। এই ব্যাপারে মিডিয়ায় জানানোর মতো সময় এখনও হয়নি। ঐ সূত্রের অভিযোগ, মিডিয়ায় সরকারের প্রশাসনিক ব্যবস্থার যে দুর্বল চিত্র দেখানো হচ্ছে, তা বাস্তব সম্মত নয়। সরকারকে হেয় করার উদ্দেশ্যে একটি মহল এসব লিখছে।

বাস্তব সত্যটি হচ্ছে, দেশে অপরাধ বাড়ছে সমান্তরালে। মামলা হচ্ছে, আসামী ধরাও পড়ছে। তারপর জামিন পেয়ে পলাতক হয়ে যাচ্ছে পুলিশের দৃষ্টিতে। কে বা কাদের কালো হাতের জোরে পুলিশ তাদের কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছে না? কারা এই তথাকথিত ক্ষমতাশালী? এই প্রশ্নটি-ই বারবার আঘাত করছে আমাদের। ঘটনার অন্তরালে এসব নরপশুদের চিহ্নিত করা কী এতোই কঠিন?
শুভাশিস ব্যানার্জি শুভঃ সাংবাদিক ও কলামিষ্ট।।
[email protected]

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×