বাংলাদেশ সরকারের দুইজন নারী । একজন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরেকজন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া । খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ছিলেন ১০ বছর । এবং শেখ হাসিনাও ক্ষমতায় আছেন ১০ বছরের অধিক সময় ধরে ।
স্বাধীনতার ৪৮ বছর পেরিয়েছে যার প্রায় অর্ধেক সময় নারীরাই রাজত্ব করে আসছে । দেশকে শাসন করছে ।
যেকোনো সরকারের আঙুলের ইশারাতেই মানুষ মরে/মানুষ বাঁচে । কেউ নিঃস্ব হয় কেউবা কোটিপতি হয় । শাসনের শোষণ এভাবেই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে ।
এক নারীর দুঃখ-বেদনা‚ কষ্ট এসব অন্য নারীই ভালো বুঝবেন এটাই স্বাভাবিক । যেমনটা একজন পুরুষের কষ্ট আরেক পুরুষ বোঝে । তো নারীর মেনস্ট্রুয়েশন পর্যায়ের পেইন কেমন‚ হার্ডকোর সঙ্গমে পেইন কেমন‚ মাতৃকালীন পেইন কেমন‚ সন্তান নরমাল ডেলিভারি হওয়ার সময় পেইন কেমন‚ বাচ্চার কান্না থামানোর পেইন কেমন‚ রাতের পর রাত না ঘুমানোর পেইন কেমন‚ বাচ্চাকে প্রস্রাব-পায়খানা করানোর পেইন কেমন; এসব বিষয়াবলি কিন্তু একজন পুরুষ কখনোই বুঝবেনা । বিভিন্ন বই পড়ে‚ পিকচার দেখে‚ আর্ট দেখে‚ ভিডিও দেখে নারীর প্রতি সিম্প্যাথি তৈরি হতে পারে কিন্তু নারীর সেসব কষ্টের ভাগীদার কিন্তু পুরুষ হতে পারবেনা । নেভার-এভার!
যুগে যুগে অনেক নারীবাদী দেখলাম-দেখতাছি । নারী শাসক দেখলাম‚ পুরুষ শাসক দেখলাম ।
হোয়াটএভার‚ লেটস গেট ব্যাক টু দ্যা মেইন পয়েন্ট...
দ্যাশে এত এত নারী ধর্ষিত হচ্ছে । যার বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ধর্ষণের পরে মেরে ফেলা হচ্ছে । কিন্তু রাষ্ট্রে একটি বিচার বিভাগ থাকলেও তার কোনো উপযোগী শাস্তির নজির আজও বিরল । হায় আফসোস!
ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে দু-চারদিন সোশ্যাল মিডিয়া‚ ইলেকট্রনিক মিডিয়া‚ প্রিন্ট মিডিয়াতে খুব সোচ্চার ভঙ্গি দেখা যায় । কিন্তু তার কিছুদিন পরেই আবার একই অবস্থা । আবার এখানে ধর্ষণ ওখানে ধর্ষণ । তারপর আবার একই রীতি চলে । মাঝখানে বঙ্গজ জনগণের স্যড/অ্যাঙ্গরি রিয়্যাক্টের প্রভাবটা তুলনামূলক বেড়ে যায় । কেউবা কমেন্টে বিচারকার্য পরিচালনা করেন । কেউবা আবার দু-চারটে দেশীয় গালি ব্যবহার করে ক্ষান্ত হোন । কেউবা সরকারকে তুলোধুনো করেন ।
এখন কথা হলো; ‘হে নারী’ তোমরা কার কাছে থেকে বিচার আশা করো?...একজন ক্ষমতাসীন নারীই[দু-জনে’ই] যদি তোমার কষ্ট না বোঝে তবে তুমি কিভাবে তোমার ন্যায্য অধিকারটা আদায় করতে চাও? কিভাবে?
তবে কি তুমিও চাও একজন পুরুষ শাসক দেখতে । যে তোমাকে সুষ্ঠু বিচার উপহার দিবে । তুমি কি তবে সেরকম একজন বীর্যবান লোককেই চাও যে রাষ্ট্রের এই কালো আঁধারকে সরিয়ে দিয়ে নতুন এক দিগন্ত রচনা করবে । তুমি একজন সেই পুরুষকেই চাও সে নয় যে তোমার যোনীতে বীর্য ঢেলে শান্ত হওয়া পুরুষ বরং এমন একজন বীর্যবান পুরুষ যার তরবারির আঘাতে তোমার ইজ্জত-সভ্রম লুটে নেয়া সেই নপুংসককে এক কোপে ধড় থেকে মাথা আলাদা করে দিতে পারবে ।
...আর কত তোমার সভ্রম নিয়ে খেলা হবে । আর কত ধর্ষকরা তোমাকে নিয়ে পুতুল নাচাবে । আর কত যোনী আর কত রক্ত আর কত জীবন ।
হে নারী; ভয় শুধু তোমাদেরই নয়‚ আমাদেরও হয় । রাস্তায় মা-বোন বের হলে আমরাও সংশয়ে থাকি; প্রতিনিয়ত আপডেট নিই । নাজানি কোন বন্য শূয়োর ঝাঁপিয়ে পড়ে আমার মায়ের উপর-বোনের উপর ।
দু-লাখ ইজ্জত দিয়েও তো আজও তোমাদের দাগ মুছতে পারোনি‚ পারোনি ক্ষত শুকাতে । আর কত লক্ষ ইজ্জত দরকার? কবে থামবে এই অসহনীয় মাংসে-মাংসের খেলা?....কবে...কে জবাব দিবে এসবের!
(ফুটনোটঃ এই ধর্ষণ-টর্ষণ নিয়া লিখতে ভালো লাগেনা । আর ফেসবুকে ‘বিচার/Justice’ নামক শব্দ দেখলেই সেখানে হাহা রিয়্যাক্ট দিতে ইচ্ছে করে । ধর্ষণকে পুরোটাই দুধ-ভাত মনে হয় এখন । তবুও কেন যে লিখলাম!)
২২ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সোমবার

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



