somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাব্বির আহমেদ সাকিল
আমার ব্লগে ঘুরতে আসায় আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি । আশা করছি আমার লেখালেখি, ফটোগ্রাফি আপনার ভালো লাগবে । ফেসবুকে আমার সাথে যুক্ত হতে পারেন— https://www.facebook.com/SA.Sabbir666

ভালোবাসাগুলো চিরজীবন পাশে থাকার মতো কেন যে হয়না!

১১ ই ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েকদিন আগে তাহসানের নতুন একটা গান রিলিজ হয়েছে । গানটার নাম ‘বিয়োগাত্নক’ । এই তাহসান-ই তাঁর ‘প্রেমাটাল’ গানে গেয়েছিলেন‚ ‘প্রেম নিয়ে কত কবি কত কাব্য করলো‚ বৃথায় জীবনটা কাঁদা মাখামাখি করে অশ্রু ঘুম পারালো’ । এই প্রেমাটাল গানটি যখন তিনি করেছিলেন তখন তাঁর হৃদয়ে গভীর প্রেম ছিলো‚ না পাওয়া বা হারানোর কোনো ব্যথা ছিলোনা । কারণ তাঁর ভালোবাসার মানুষটি পাশে ছিলো । তিনি ভালোবাসার মানুষটিকে পাওয়ার পর হয়তো ভেবেছিলেন ব্যথা‚ বেদনা সম্ভবত নিছক-ই ভণ্ডামি কিংবা মিথ্যা । তাই বোধহয় এরকম শব্দ বেছে নিয়েছিলেন ।

তাহসান-মিথিলার ডিভোর্সের পর তাহসান প্রেম-ভালোবাসার গানের বদলে করেছেন বিষাদের গান‚ অভিমানের গান‚ প্রত্যাবর্তনের গান ।

এটা স্বাভাবিক । মানুষের হৃদয়ে যখন প্রেম থাকে‚ ভালোবাসার সেই প্রিয় মানুষটি পাশে থাকে তখন জাগতিক সব ভাবনাকে তুচ্ছ মনেহয় । অন্যের বেদনা‚ বিষাদ কোনোকিছুরই কোনো মূল্য থাকেনা ।

বিচ্ছেদের পর তাহসানের সব গানের ভিতরেই একই ধারা । এই মানুষটি নাটকে মিথ্যা অভিনয় করুক‚ কিন্তু বাস্তবে জীবনে তিনিও আমাদের মতোই রক্তে-মাংসে গড়া একজন মানুষ । তাঁরও ভাবনা আছে‚ কল্পনা আছে‚ সুখ-দুঃখ আছে । মানুষ তাঁর কথা‚ গান‚ কবিতা‚ উপন্যাস কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও কিংবা ছবি দিয়ে তাকে এক্সপ্রেস করে ।

মানুষ চায় যাকে নিয়ে এত ভাবনা‚ কথা সেই মানুষটা তাকে বুঝুক । সেটা কবিতা হোক‚ গান হোক কিংবা লেখা; সেটা তাঁর প্রিয় মানুষটির কাছে পৌঁছাক ।

তেমনি আরেকজন মানুষ হলেন হৃদয় খান । একটা সাক্ষাৎকারে সুজানা জাফর বলেছিলেন‚ হৃদয় খান তাঁর সাথে প্রেম করার জন্য অনেককিছু করেছেন‚ তাঁর বাড়ির সামনে ঝুম বৃষ্টিতে ভিজেছেনসহ অনেক পাগলামি করেছেন ।

দু’জন ব্যক্তিই তাঁদের ভালোবাসার মানুষটিকে পেয়েছিলেন একটাসময় । আবার দু’জনেই হারিয়েও ফেলেছেন । ধরে রাখার চেষ্টা করেও পারেননি । হৃদয় খান গেয়েছিলেন‚ ‘আহা এ কি ছোঁয়া নিশিদিন শিহরণে কাটে বেলা’ । মানুষের হৃদয়ে কতটা প্রেম থাকলে এরকম স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বাক্যগুলো বলা যায়!

প্রেম-ভালোবাসা হয়ে বিয়েও হয়ে গেলেও চিরদিন ভালোবাসাগুলো কখনোই একরকম যে থাকেনা তাঁর বাস্তব প্রমাণ মিডিয়া জগতের এই দু’টি মানুষ ।

ভালোবাসার সম্পর্কগুলো একটা ব্যালেন্স করে চলে । এই ব্যালেন্সে(ভাবনায়) গরমিল ঘটলেই সম্পর্কগুলো ভেঙ্গে যায় । যদিও এটা নিশ্চিত করে বলা যাবেনা যে মানুষটা আপনার জন্য এত পাগল সে মানুষটা সারাজীবন এরকম পাগল থাকবে কি-না‚ তাঁর আত্নার সাথে অপরজনের আত্নার মিল[যেটা প্রাকৃতিক] সেটার কোনো তারতম্য ঘটবে কি-না ।

সম্পর্কের বিচ্ছেদের পর দু’জনেই মিডিয়ার কাছে কিছু প্রকাশ করেনি । তাঁরা কাঁদা ছোড়াছুঁড়ি করেননি । কেউ কাউকে দোষারোপ করেননি । চুপ থেকে গেছেন । কিন্তু তাহসান কি আর মিথিলা ব্যতিত কিংবা হৃদয় খান সুজানা ব্যতিত অন্য কারোর জন্য এরকম পাগলামি করবেন‚ জীবনের শেষ সূর্যাস্ত দেখার পণ করবেন‚ বৃষ্টিতে ভেজার প্রত্যয় ব্যক্ত করবেন‚ ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের আয়োজন করবেন; একবাক্যে উত্তর হবে ‘না’ ।

সম্পর্কের ইতি ঘটার পর আপনি যতবছরই বেঁচে থাকবেন তত বছরই আপনার কাছে না পাওয়ার‚ যাতনার‚ তীব্র মনোকষ্টের । জীবন নামের যে পাথর সেই পাথরটা বয়ে নিয়ে যেতে অন্যকেউ আর সাহায্য করতে পারবেনা ।

পিংক ফ্লয়েডের দ্যা ওয়াল অ্যালবামের ‘হেই ইউ’ গানে ডেভিড গিলমোের যেমন তাঁর ভালোবাসার মানুষটিকে বলেছিলেন‚ ‘হেই ইউ‚ ক্যান ইউ হেল্প মি টু ক্যারি দ্যা স্টোন?’ ।

জীবন নামের যেই স্টোনটা গড়িয়ে নিয়ে যেতে আপনার কষ্ট হচ্ছিলো সেইসময়-ই কেউ ‘ভালোবাসা’ হয়ে এসে কষ্টটা লাঘব করে দেয় । ভালোবাসা গড়ে উঠলে দু’জনের পাথরটা একটা পাথর হয়ে যায় । আপনি তখন আনন্দ‚ উল্লাসের সুখে মেতে ওঠেন । কিন্তু এই স্টোনটা বয়ে নিয়ে যেতে কেউ যে সারাজীবন থাকবে এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্ভবতর হয়ে ওঠেনা । তাই আমরা বুঝে উঠি দুঃখ কি জিনিস‚ বেদনা কি জিনিস‚ হতাশা কি জিনিস‚ হারানোর যত্নণা কি জিনিস...

⏭ সাব্বির আহমেদ সাকিল
▶২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ‚ হেমন্তকাল | ০৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী | ১০ ডিসেম্বর ২০২১ ইং | শুক্রবার | শেরে বাংলা নগর‚ বগুড়া

#সাব্বিরসাকিল #ভালোবাসা #বিচ্ছেদ #পাথর #দুঃখ #বিষাদ #তাহসান #হৃদয়খান #বগুড়া
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ২:৩৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কালকেউটে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



তুমি ও অতিথি পাখি কী সুন্দর মিলেমিশে একাকার!
আম ও দুধের অপূর্ব সংমিশ্র!
অতিথি পাখির কিছু কিছু বিসর্জন থাকলেও-
তুমি যা কিছু অর্জন করেছো তাতে নেই একরত্তি বিসর্জন!

অর্বাচীনের মতো ভেবেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায় নেওয়ার কেউ নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫


বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকট নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে, যত টকশো হচ্ছে, যত বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন, তার কিছুই ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়ানো মানুষটার কাজে লাগছে না। তিনি জানতে চান একটাই কথা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের মানুষদের মাঝেও 'উত্তম মানুষ' আছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪৭



পবিত্র কোরআনে অসম্ভব সুন্দর একটি আয়াত আছে। মহামহিম খোদাতায়ালা পুরো বিশ্বের মানুষদের দিকে একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে পবিত্র কোরআনে জিজ্ঞাসা করেছেন - "আর ঐ ব্যক্তি থেকে কে বেশি উত্তম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুখু মিয়া

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৬



গভীর অন্ধকার রাত প্রবল গর্জন করে আকাশ ডাকছে, দুখু মিয়া আর তার মেয়ে ফুলবানু খুপড়ি মতো ছাপরা ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আকাশ দেখেন। অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না তারপরও বাপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে শহরে বৃষ্টি নেই

লিখেছেন রিয়াজ দ্বীন নূর, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৩০



শহরটা নিচে। অনেক নিচে। রিকশার টুংটাং, বাসের হর্ন, কারো হাসির শব্দ, কারো ঝগড়ার শব্দ — সব মিলিয়ে একটা জীবন্ত শহর। কিন্তু রিয়াজের কাছে এই সব শব্দ এখন অনেক দূরের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×