জন্ম আর বেড়ে উঠা দুটোই শহরকেন্দ্রিক। যদিও সেই শহরের সেনাছাউনীর খোলামেলা পরিবেশে বেড়ে উঠেছি তবুও আমার দাদাবাড়ীর সেই ছোট্ট গ্রামটিকে আমি ভীষন ভালোবাসি। আমার শৈশব আর কৈশরের সকল সৃত্মিতেই জড়িয়ে আছে শহর নামক যান্ত্রিক ঢাকা তবুও আমার দাদাবাড়ী শ্রীনগর আমার সৃত্মিতে উজ্বল। মেঠোপথের মাতালকরা সুবাস আমাকে বার বার ডাক দিয়ে গেছে। আমার দাদাবাড়ীর এলাকায় একফসলী। বছরের প্রায় অর্ধেক সময় জমিগুলো পানির নীচে ডুবে থাকে, তাই আমার কাছে আরও ভালো লাগতো। অনতিদুরেই মেঘনার কালো কুচকুচে পানি বয়ে যেত তার আপন গতিতে। বাড়ীর বাংলো ঘরের বারান্দা ফুড়ে বেড়ে উঠা পুরোনো জাম গাছটির নিচে বসত পারিবারিক ভা্ইদের আড্ডা। সেই দিনগুলো আর কখনওই ফিরে পাব না।
সেই সময়ে আমার দাদাবাড়ীতে ছিলো না বিদুৎ। হারিকেন আর বিশেষ পার্বণে ছিলো হ্যাজাক লাইটের উজ্বল আলোর ব্যবহার। তবুও কতযে ভালো লাগতো, তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।
বাড়ীর ভেতরের উঠোনে মা-চাচীদের সাথে মেয়েদের আড্ডা্ আর বাইরে বাংলোঘরের লাগোয়া উঠোন জুড়ে ভাগ হয়ে শ্রেনীভেদে বড় ছোটদের আড্ডা। হায়রে সময়। কেমন করে কেটে যেতো দিনগুলো.. সময় যেন নিয়মহীন ভাবে দৌড়ুত।
আমাদের বাড়ীটি গ্রামের অন্যসব বাড়ীথেকে একদম আলাদা। গ্রামের যেকোন প্রান্ত থেকে আমাদের বাড়ীতে কেউ আসতে হলে বর্ষায় নৌকা ছাড়া আসা যেত না। শুকনো মৌসুমের কথা আলাদা। বাড়ীটির তিন দিকে রাস্তা আর এক দিকে একটি বেশ বড় পুকুর ছিলো। শুকনো মৌসুমে আমার প্রিয় সময় কাটতো উত্তরের নদীতীরে।
শ্রীনগরের মেঠো পথের শেষে ছোট্ট একটা নদী নাম তার শীতলপাটি..এত সুন্দর নদীর নাম হয় ..আমাকে অবাক করতো নামটি..কে দিয়েছিলো এই সুন্দর নামটি..অজানাই রয়ে গেল..মনে পড়ে শুকিয়ে যাওয়া নদীর পাড় ঘেষে ধান ক্ষেতের কচি রোপা চারা গুলো..
মায়াবী সেই দিনগুলো বড়ই নজরকাড়া আর মায়াময়..
সময়: ১:২৪ মি.
ডেরা, দুবাই
চলবে..
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ১১:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



