সময়টা ২০০০ সাল। আমি আমার প্রবাস জীবন শুরু করি। আসার ইচ্ছে ছিলো না কোন কালেই। কখনো জীবিকার খোজে প্রবাসী হতে হবে, ভাবিনি। দেশে যে খুব একটা ভালো ছিলাম তা কিন্তু নয়। তবু চলে যাচ্ছিল কোন রকমে। কিন্তু আমার ছেলেটি দুনিয়াতে আসার পরে কেন যেন মনে হচ্ছিল এতটুকুতে আমার চললেও আমার সন্তানের জন্য একটু কিছু করা দরকার। সেই সুত্রেই প্রবাসী হলাম।
আপনাদের আজ বলল আমার প্রবাসী হবার ইতিবৃত্ত।
হঠাৎ করেই আমার এক আত্মীয় আমাকে জানালো একটি ফ্রি ভিসা আছে সৌদীআরবের। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, আমার বিদ্যের দৌড়তো সামান্য কিছু বাংলা আর অল্পসল্প ইংরেজী। এই দিয়ে কি কিছু করা সম্ভব। সে বলল এর চেয়েও কম বিদ্যা দিয়ে অনেকে বেশ ভালোই আছে। আমি সাহস পেলাম। বললাম ভিসা বাবদ কত দিতে হবে? সে বলল ভিসাটা যে দেবে তাকে নাকি আমি চিনি। সে বলেছে যদি আপনি রাজি হন তখন সে কথা বলবে। আমি বললাম বল তাকে।
প্রায় সাপ্তাহ দুয়েক পর আমার বাসার ল্যান্ডলাইন বেশ রাত করেই ঘ্যানর ঘ্যানর করা শুরু করল। আমি আমার রুম থেকে বিরক্ত হয়ে ড্রইং রুমে এসে ফোন ধরলাম। এবং বেশ বিরক্তির সঙ্গেই কথা শুরু করলাম। ওপাশের কন্ঠস্বর কিছুটা পরিচিত হলেও ততক্ষনে আমার বিরক্তি সে টের পেয়ে আমাকে বেশ কবার সরি বলল। আর বলল যদি এখন কথা বলতে না চাই তো পরে কাল সকালে কথা বলবে। তার কথার ধরনে আামার রাগ কিছুটা পরে গেল।
আমি বললাম বলুন। অসুবিধা নেই। সে বলল আমি এক সময় আপনাকে চিনতাম। আপনার ভিসার ব্যাপারে কথা বলতে চাই। আমি বললাম আপনার পরিচয়টা আগে শেষ হউক তার পর না হয় অন্য আলোচনা করা যাবে। সে তার পরিচয় দেবার পর আমি আবছা ভাবে তাকে চিনতে পারলাম। কোন এক সময় বেশ কবছর আগে তার এক আত্মীয়া আমার এক বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে আসে। সে সূত্রে তিনি আমায় চেনেন। আমি নাকি তখন তাকে সাহায্য না করলেও আমার কাছ থেকে তিনি যথেষ্ট ভদ্রতা পেয়েছেন।
আমি তাকে বললাম আমার তেমন কাউকে মনে পড়ছেনা। তবু যাই হোক আমি পয়সা দেব ভিসা নেব। কথা এবং কাজের মিল থাকলেই হবে। সে আমাকে সবিস্তারে জানাল শর্তাবলী। আমি বললাম একটা লিখিত হলে ভালো হয়। আর টাকার অংকটাতে আমি রাজি।
তৎকালীন সময়ে ৫হাজার রিয়াল দিতে আমি সম্মত হলাম। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম শুধু একটি। আপনি আমার আত্মীয়ের সাথে যোগাযোগ করলেন কেমন করে? তিনি আমাকে বললেন, আপনার পরিচিত ভদ্রলোক আমি অনেকদিন থেকেই চিনি। কথায় কথায় আপনার নাম বলায় আমি তাকে ভিসার কথা বলি।
তার পর পলওয়েলের কাছাকাছি একটি ট্রাভেলের সঙ্গে যোগাযোগ এর কথা বলে সে ফোন রাখল। আমি ৩দিন পর সেই ট্রাভেস এ গেলে তারা আমার পাসপোর্ট চাইল। আমি পাসপোর্ট দিয়ে চলে আসলাম, আর আমার ফোন নম্বরটা দিয়ে আসলাম। এর পর প্রায় একমাস পেরিয়ে গেল। আমি ভুলতেই বসেছিলাম। ফোন এল ওই ট্রাভেলস থেকে। আমাকে কাল মেডিকেল করতে হবে। আমি তাদের কথামতো গুলশানের এক মেডিকেল এ গেলাম। কিছু আবালীয় খ্যাতকে দেখলাম ডাব আর পানি গরুর মতো পান করছে। আমি আবালদের একজনকে প্রশ্ন করায় জানতে পারলাম মেডিকেল করার আগে প্রচুর পানি পান করলে আর ডাবের পানি পান করলে মেডিকেল রিপোর্ট ঝকঝকে তকতকে হয়। হায়রে বাঙ্গালী কোথায় বাস করি আমরা। যাক মেডিকেল করলাম ডাব পানি ছাড়া। এবং স্লিপ নিয়ে ফিরে আসলাম বাসায়। একটি কথা না বললেই নয়, মেডিকেলের এক পর্যায়ে আমাকে আমার প্যান্ট খুলে আমার গুপ্তাঙ্গ দেখাতে বলায় আমি ডাক্তার কে প্রশ্ন করেছিলাম এই টা দেখার মানে কি? ডাক্তার বিরক্তি নিয়ে আমার মুখের দিকে তাকাতেই আমি তাকে চিনতে পেরেছিলাম। সে বেশ কিছুটা বিশ্ময় নিয়ে আমাকে প্রশ্ন করল, আপনি এখানে। আমি তখনও বেশ বিরক্তি ভরা সুরে পূর্বের প্রশ্নই করলাম। সে বলল রুটিন চেকআপ। আমি রাগত সুরেই বললাম সেখানে কি য়ৌনতার অপার সুযোগ আছে? সে হেসে বলল না, সে সুয়োগ নেই।
আমার তাতক্ষনিক প্রশ্ন ছিলো, তাই যদি হয় তবে কি গুপ্তাঙ্গ আপনাদের জন্যই দেখা। তিনি বেশ রেগে গেলেও আগামীর কথা মনে করেই চুপ হয়ে গেলেন।
যাই হোক যেখানে ছিলাম। বাসায় আসার পর দুদিন পেরিয়ে গেল। তৃতীয় দিন আমার ফোন কল এল। ট্রাভেস থেকে একটা চেংড়া বয়সী ছেলে বেশ ধমকের সুরে আমার মেডিকেল স্লিপ কেন জমা দেই নি সেই কৈফিয়ত চাইল। আমি তাকে বেশ ভদ্র ভাবে বললামা এই কথাটি কি আরেকটু সংযত ভাবে বলা যেত কিনা। সে আমাকে বেশ কিছুটা অবাক করে উত্তর দিল যে এর চেয়ে ভালো করে বলার সময় তার নেই। যত দ্রুত পারি যেন মেডিকেল স্লিপ তার কাছে পৌছে দেই।
আমি ফোন রেখেই মনে মনে বলে ফেললাম তোমাকে সামান্য জরিমানা করা হইল। ততদিনে আমি বুঝে গেছি, মানুষ কে হাতে মারার চেয়ে অন্য পন্থায় শাস্তিদেয়া অনেক মজার। আমি কাপড় পড়ে রওনা হলাম ট্রাভেস এর উদ্দ্যেশে।
প্রায় দিন পনেরো পরে আমাকে জানানো হল আগামী ২৫ শে মে আমার যাত্রা দিবস ধ্যার্য করা হইয়াছে। কাল সকালে আমার চুক্তিমোতাবেক ২৯ হাজার টাকা তাহাদের হস্তে সমর্পন করিতে হইবে। আমি ১৯হাজার টাকা সকাল নাগাদ তাদের দরবারে নিয়া গেলাম। এবং আরজি পেশ করিলাম যে বাকি ১০ হাজার টাকা ২৫ তারিখেই পাসপোর্ট এবং টিকিট হাতে নিয়া পরিশোধ করিব। এবং এও বলিলাম যে ফ্লাইটটি যেন ট্রানজিট ফ্লাইট না হয়। তারা আমাকে ভরষা দিল, কথার নড়টড় হইবেনা।
আগামীতে শেষ করিবো..

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



