somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বড়দিনের ভালোবাসা

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালে মোবাইলের এলার্মে ঘুম ভাঙলো পঞ্চগড়ের এএসপি এবি ডি রোজারিওর। আজকে বড়দিন ! মেজাজ ভালো হওয়ার কারণ থাকলেও তার মেজাজ খারাপ। আজকের দিনেও তার মেজাজ খারাপ কারণ ছুটি ম্যানেজ করতে না পারা। গতবারেই বিসিএস দিয়ে পুলিশে জয়েন করেছে ... পোস্টিং হয়েছে পঞ্চগড়। সারাজীবন ঢাকাতে বড় হওয়া ছেলেকে এখন যেতে হয়েছে দেশের উত্তরবঙ্গের একেবারে সীমান্তবর্তী জেলাতে ! প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হলেও ম্যানেজ করে নিতে পেরেছে সে। কিন্তু তাই বলে বড়দিনটা তাকে এখানে একা একা কাটাতে হবে ভাবতে পারেনি। ঈদের সময় ছুটি নিয়ে গিয়েছিল ঢাকাতে। সে সময় আরেকজন এএসপি দায়িত্ব পালন করেছিল। এখন অবশ্য সে ছুটিতে গেছে তাই তার কোন উপায়ই নেই।

নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করতে করতে ফ্রেশ হয়ে নিলো সে। ইউনিফর্ম পড়েই গেলো চার্চে। প্রার্থনার সময়তে মনে মনে চাচ্ছে " ইশ্বর ! তুমি আমাকে একটা প্রকৃত ভালোবাসার সন্ধান দাও। " গত কয়েকদিন ধরে তার জন্য মেয়ে খুজছে তার মা। সেইজন্যই এমন প্রার্থনা তার।

প্রার্থনা শেষে চার্চ থেকে বের হয়েই দেখলো তার গাড়ির ড্রাইভার এক রিকশাওয়ালার সাথে ঝগড়া লাগিয়েছে ! কারণ ঠিকমত না খেয়াল করে সে ড্রাইভারের গায়ে ধাক্কা লাগিয়ে দিয়েছে। পুলিশের ড্রাইভার সে, তাই যথেষ্ট হাবভাবে থাকে সে। এক পর্যায়ে ড্রাইভারকে মারতে উদ্যত হলো সে। তখনই কোথা থেকে এক মেয়ে এসে মিষ্টি সুরে বললো, " আজকের এই পবিত্র দিনে কেন এই হানাহানি করছেন আপনি ? "

খুব নরম সুর কিন্তু কথাগুলোর মধ্যে এতটা সম্মোহনের একটা সুর ছিল যে ড্রাইভারের হাত থেমে গেলো আর এএসপি এবিও মেয়েটার দিকে নজর ফেরাতে বাধ্য হলো। ড্রাইভার বলছে মেয়েটাকে, " আরে আপা দেখেন না সে কি করেছে ? "
- ভুল তো মানুষই করে তাই না ?
- কিন্তু ......
- কি কিন্তু ? ক্ষমা করতে কি এতই কষ্ট লাগে !
- নাহ কিন্তু ...
- আবার কিন্তু !! আরে দেননা তাকে ক্ষমা করে, ইশ্বর খুশি হবেন।
- আচ্ছা ... ঠিক আছে।
অনেকটা হতচকিত হয়ে গেছে ড্রাইভার।

" ইশ্বর আপনার মঙ্গল করুন :) " চলে গেলো মেয়েটা।

মেয়েটার চেহারা মনের মধ্যে গেঁথে গেলো এএসপি এবির। খুব যে সুন্দরী তা নয়। শ্যামলা বর্ণের চেহারাতে একটা মিষ্টি মিষ্টি ভাব রয়েছে, গলার স্বরটা কোকিলের মত, খুব বেশি চিকনও না আবার মোটাও না এমন একটা গড়ন শরীরের। মোট কথা শরীরের গড়ণ আর দশটা সাধারণ বাঙালী মেয়ের মতই।

সারাটা দিন বিভিন্ন কাজে কেটে গেলো এবির। তাও মাঝেমাঝেই মেয়েটার কথা মনে হয়েছে তার। এত ভালো লাগলো কেন মেয়েটাকে ! কি এমন আছে তার মধ্যে ! উত্তর খুঁজে এবি কিন্তু কোন জবাব নেই।

আসলে মানুষের ভালোলাগা যে কোন যুক্তি মানে না। কাউকে ভালো লাগার পিছনে যদি কোন কারণ থাকে তাহলে সে ভালো লাগা কারো প্রকৃত ভালোলাগা হতে পারেই না। ভালোলাগা হতে হবে সম্পূর্ণ যুক্তিহীন।

সেইদিন রাতে পুরো খ্রিষ্টান পল্লীর নিরাপত্তা দেখতে বের হয়েছে এএসপি এবি। পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিসের সামনে নীরব নিস্তব্ধ রাতের আকাশে তীক্ষ্ণ শব্দে শোনা গেলো চিৎকার ! ড্রাইভারকে গাড়ি থামাতে বললো সে। নেমে দেখে এক রিকশাকে ঘিরে রেখেছে দুটি বাইক। ছুরি আর পিস্তল বের করে জোর করে কেড়ে নিচ্ছে সব। অন্ধকারে বাইকাররা খেয়াল করেনি তাকে। তাদের চেহারাও বুঝা যাচ্ছে না কিন্তু অন্ধকারে চকচক করছে অস্ত্রগুলো।

খাপ থেকে পিস্তল বের করলো সে। নিয়ম অনুযায়ী শূন্যে গুলি করলো সে। চিৎকার করে অস্ত্র ফেলে দিয়ে আত্বসমর্পণের নির্দেশ দিল।

কিন্তু অনুমিতভাবেই তারা পাল্টা আক্রমণ চালালো। আড়ালে চলে গেল সে। ইচ্ছা হলে তাদেরকে টার্গেট করে গুলি করতে পারতো কিন্তু এতে রিকশার যাত্রীদের আহত হবার সম্ভাবনা থাকে বিধায় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লো।

ভয় পেয়ে ছিনতাইকারীরা সবাই চলে গেলো। এবার সে বের হয়ে সাবধানে গেল রিকশার কাছে। দেখে একটু চমকে গেলো। সেই মেয়েটা। ভয়ার্ত চোখে চেয়ে রয়েছে তার দিকে। পুলিশের ইউনিফর্ম দেখে একটু স্বাভাবিক হলো। কাঁপা কাঁপা স্বরে বললো, " ধন্যবাদ আপনাকে। "

নিজের চাকরিটাকে এত স্বার্থক আর কখনো মনে হয়নি এবির। সেইদিনই সে মেয়েটার পরিচয় পেলো, লতা স্ট্যানলি !

এক বছর পর ......

পঞ্চগড় চার্চে সস্ত্রীক প্রার্থনা করতে গেছে এএসপি এবি ডি রোজারিও। আজ ইশ্বরের সামনে দাঁড়িয়ে গত বছরের প্রার্থনার কথা মনে হচ্ছে এবির।

লতার সাথে তার বিয়ে হয়েছে তিন মাস। এর মাঝের ৯ মাস তাদের কেটেছে প্রণয়ে। ওইদিনের ঘটনার পরে পঞ্চগপড় মহিলা কলেজের ছাত্রী লতাকে নিজের ভালো লাগার কথা জানাতে এক মাস সময় নিয়েছিল সে। এক বাক্যে রাজি হয়ে যায় লতা। এরপরের সময়টা লতার অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার অপেক্ষায় ছিল দুজনে।

ইশ্বরের কাছে এবির এখন একটাই প্রার্থনা, " তাদের ভালোবাসা যেন টিকে থাকে আমরণ। "
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'বাবু': একটি শব্দের উদ্ভব ও এগিয়ে চলা

লিখেছেন আবু সিদ, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৮

'বাবু' আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। কয়েক শ' বছর আগেও শব্দটি ছিল। বাংলা ভাষাভাষীরা সেটা ব্যবহারও করতেন; তবে তা ভিন্ন অর্থে। 'বাবু' শব্দের উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধাপগুলো এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×