somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয়তমার জন্য একটি চিঠি

২৩ শে মার্চ, ২০১৫ সকাল ১১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয়তমা,

প্রতিটা মানুষের জীবনে একটা লক্ষ্য থাকে ... নির্দিষ্ট একটা লক্ষ্য ... কারো ডাক্তার, কারো ইঞ্জিনিয়ার, কারো ব্যবসায়ী কেউ বা বিজ্ঞানী ... কিন্তু জানো আমার না এরকম কোন লক্ষ্যই ছিল না ... মনে মনে ভাবতাম এমন একটা চাকরী করবো যেটায় খাটুনি কম ... মোটামুটি বেতন ... কোনরকমে যেন খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে পারি ... !

কিন্তু জানো কি যেদিন থেকে তুমি আমার জীবনে এসেছো সেদিন থেকেই না আমার সব লক্ষ্য বদলে গেছে ... ?
আমার এখন সব লক্ষ্য তোমাকে কেন্দ্র করে ... !

যদি তুমি আমার পাশে থাকো তাহলে .........
তাহলে বোধহয় পৃথিবীর এমন কোন কাজ নেই যেটা আমি পারবো না ... !

যদি তুমি আমার পাশে থাকো তাহলে .........
তাহলে বোধহয় পৃথিবীর অভিধান থেকে অসাধ্য শব্দটি হারিয়ে যেতে বাধ্য ...!

জানো,
আমি প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখি,
আমি শুয়ে আছি আর তুমি ...
তুমি আমার মাথার পাশে বসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছ পরম মমতায় ...
আমি ঘুমিয়ে যাবো ... এমন ঘুম ... যে ঘুম থেকে কোনদিন উঠতে ইচ্ছা করবে না ...

আমি প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখি,
প্রতি সকালে আমি ঘুমিয়ে থাকবো মড়ার মত আর তুমি ...
তুমি আমার কানের পাশে মুখ রেখে বলবে, " শুভ সকাল ! "
তোমার ওই কোকিল সুরো কণ্ঠে আমার সব ঘুম দূর হয়ে যাবে ...

আমি প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখি,
কোন এক দুপুরে আমি অফিস থেকে হটাতই এসে হাজির হবো প্রচণ্ড ক্ষুধা নিয়ে আর তুমি ...
তুমি পরম মমতায় আমাকে বেড়ে খাওয়াবে আর আমি অদ্ভুত এক তৃপ্তি নিয়ে খেয়ে বলবো, " চমৎকার রান্না! " আর তুমি সলজ্জ হাসিতে দৌড়ে পালাবে।

আমি প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখি,
প্রতি বিকালে চায়ের কাপ হাতে আমরা দুজন বারান্দাটায় দাঁড়িয়ে পড়ন্ত বিকেলের রূপসী পরিবেশটা উপভোগ করবো
তুমি গুনগুন করে গান গাইবে ... আর আমি ...
আমি মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনে যাবো ...

আমি প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখি,
প্রতি সন্ধ্যায় আমি আর তুমি কাড়াকাড়ি করবো টিভির রিমোট নিয়ে
আমার সাথে তুমি শক্তিতে পারবে না
এরপরে তুমি অভিমানী চোখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকবে
আর আমি তোমার কাঙ্ক্ষিত চ্যানেলটাই এনে দেখতে থাকবো
তুমি অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকবে আমার দিকে আর আমি ...
আমি কেবল তোমাকে দেখবো ... !

আমি প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখি,
প্রতি রাতে তুমি আমার পাশে শুয়ে থাকবে
আমি তোমার সাথে সারাদিনের গল্পগুলো বলবো ...
মাথার উপর পাহাড় হয়ে থাকা সমস্যা গুলো বলবো
আর তুমি ...
তুমি অসম্ভব বিচক্ষণতায় সেগুলোর সমাধান দিবে ... !

আমি প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখি,
তোমাকে হটাত একদিন একটা পায়েল এনে চমকে দিবো ...
তুমি আনন্দিত হয়ে উঠবে কারণ পায়েল যে তোমার অনেক পছন্দের ...
আমি নিজ হাতে তোমাকে সেটা পড়িয়ে দিবো ... আর তুমি ...
তুমি খিলখিল করে হাসবে ... !
যে হাসির শব্দে আমার সারাজীবনের ক্লান্তিগুলো দৌড়ে চলে যাবে ...

আমি প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখি,
এক ছুটির দিনে আমি আর তুমি বেড়িয়ে পরবো আমার বাইকটা নিয়ে
তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরে রাখবে আর তোমার লম্বা চুলগুলো উড়ে আমার মুখে এসে পড়বে
আমি একটু পর পর গতি বাড়াবো কেবল তোমার মিষ্টি বকা শোনার জন্য ...!

তুমি জানো, তোমাকে যে আমার প্রতিদিন কত কথা বলার থাকে ?
অনুভূতির কথাগুলো লিখে রাখি কিন্তু তোমাকে আর পাঠানো হয় না
মনের কথাগুলো মনে মনে সাজিয়ে নেই কিন্তু তোমাকে আর বলা হয় না
সব কথা কেন যেন গলায় এসে আটকে যায় !

কি করবো বলো ?
আমি যে অনেক ভীতু ... জানো আমি এখনো রাতে একলা ঘুমাতে পারি না ...

কি হাসছো নাকি ?
হাসো হাসো ... একটু হেসে নাও ...

এতই ভীতু আমি যে কি বলবো !
কিন্তু তারপরেও আমি কেবল মাথার পাশে তোমার হাতটাই চাই ...
অন্য কারো হাত নয় ...
যদি সৃষ্টিকর্তা আমাকে ওই সুযোগ না দেয় তাহলে তার নামে শপথ করে বলছি ...
" আমি অন্য কারো হাত সেখানে রাখতে দিবো না "

আমি যে কেবল তোমাকেই ভালোবাসি ...
হয়তো ভয় পাবো একা থাকতে
আম্মার অবস্থা খুব একটা ভালো না ...
উনি চলে গেলে আমি একদম একা হয়ে যাবো !

কিন্তু তাও আমি তোমার জায়গা, তোমার স্থান অন্য কারো হতে দিতে পারি না ...
কারণ আমি যে তোমাকে ভালোবাসি ... অনেক বেশি ভালোবাসি ... !
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে থাকাই পরম বিস্ময়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩


পথেঘাটে ঘুরিফিরি, যেকোনো সময়
পটল তুলতে পারি গাড়ির ধাক্কায়।
মাঝেমধ্যে থাকি এমনও আশঙ্কায়,
নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে
মাথা ফেটে রক্তক্ষরণে প্রাণটা যায়!
এমন পরিণতিতে লোকে দুঃখ করে।
গাড়ি, ট্রেন, প্লেন, হয়তোবা ইস্টিমার
দুর্ঘটনায় প্রাণটা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা'কে লেখা প্রীতিলতার শেষ চিঠি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৯




আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব  না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা! 

আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×