somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

মানুষের অদ্ভুত জীবন; জন্ম এবং মৃত্যু।

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ রাত ১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জন্ম, মানুষ নিজের ইচ্ছায় নিতে পারে না। মানুষের জন্ম হয়ে যায় প্রাকৃতিক ভাবে। মানুষ বাবা মা পেয়ে যায় দুজন মানুষকে যা সে নিজে পছন্দ করে নিতে পারে না। নিজে জন্ম নেয়ার জন্য পরিবার, দেশ, স্থান কাল পছন্দ করার কোন সুযোগ নাই মানুষের। কেউ হয় সৌভাগ্যবান শিশু, কেউ হয় অবহেলিত জন্মের কারণে।
এই জন্ম নেয়া মানুষদের, মানতে হয় পরিবার সমাজ, ধর্ম, গোত্র, দেশ, নানা কিছুর রীতি নীতি সারা জীবন। অনেক মানুষের জন্ম হয় পরিবারবিহীন ভাবে। মানুষের আইন করে দেয়া বৈধ নিয়মের বাইরে ভালোবাসায় মিলিত হওয়া দুই প্রেমিকের সন্তান অনেক সময় পরিবার পায় না। বাবা মা অস্বীকার করে সে সন্তান। আবার জন্ম হয় মানুষের, ভালোবাসাহীন যৌন মিলনে। যাকে ধর্ষণ বলা হয়। জোড় করে অনেক পুরুষ অনেক নারীর সাথে মিলিত হয় নারীর অনিচ্ছায়। সে অবস্থায় নারী গর্ভবতি হয়ে শিশু জন্ম নিলে সে শিশুর পরিচয় সমাজে হয় অবৈধ শিশু।
এই শিশুর কোন পরিচয় সমাজ, ধর্ম পরিবার দিতে চায় না।
অনেক শিশুকে মেরে ফেলা হয়, ফেলে দেয়া হয় বা গোপনে কোন সন্তানহীন দম্পতি গ্রহণ করে ভালোবাসায় বড় করেন সে শিশুকে নিজের পরিচয়ে। অথবা শিশুটি পায় এক অনাথ জীবন। পশ্চাৎপদ দেশ সমাজে শিশুরা নিগৃহীত হয় অনেক বেশি। বৈধ জন্ম নেয়া শিশুও অবহেলা অনাদরে বড় হয় বাবা মায়ের আর্থিক অভাব অনটনের কারনে। পৃথিবীর সব দেশেই এমন ভাবনা ছিল এক সময়, বৈধ বিয়ে ছাড়া শিশু সমাজে গ্রহণ করা হয় না। ধর্মের বয়স পৃথিবীতে খুব বেশিদিনের না। ধর্ম আসার আগে শিশুর জন্ম বৈধ্ না অবৈধ কিভাবে নির্ধরিত হতো। তাদেরই সন্তান এখন একটি মানুষের জন্মের বৈধতা ধর্মের বিধানে নির্ধারন করে মানুষকে ছোট বড় নানা ভাবে সঙ্গায়িত করে। অনেক সমাজ সে অবস্থা থেকে উত্তরণ পেয়েছে। কুমারি মেয়ের শিশুকে রাষ্ট্র ভরণ পোষন করে অনেক দেশে। আবার বিভিন্ন দেশে যখন সামাজিকতার জন্য শিশুকে পরিবারে রাখতে পারে না। মানুষ হিসাবে তাদের গ্রহণ করে লালনপালন করে অনেক দেশ। অনাকাঙ্খিত শিশুকেও অনেক দেশ গ্রহণ করে । বিশেষ করে যুদ্ধ সময়ে অনেক নারী নিগৃহিত হয় এবং জন্ম নেয় অনাকাঙ্খিত শিশু। সেই শিশুদের অনেক মানুষ আদরে লালিতপালিত করে নিজের সন্তানের মতন।
ধর্ম যাজকরা একদিকে যেমন নিজেদের সংযত রাখার সুন্দর চেহারা দেখাতেন মানুষকে অন্য দিকে তারাই অনাথ এতিম মেয়েদের ভোগ করতেন নিজেদের লালসা কৃতকার্য করতে। অসংখ্য গর্ভপাতের সাথে জন্ম নেয়া শিশুদের মেরে ফেলার চিহ্ন রোমান ক্যাথলিক গীর্জায় পাওয়া গেলে তা নিয়ে অনেক তুলকালাম হলো মানুষের মধ্যে এই গত বছর। কিন্তু এমন ঘটনা প্রতিটি দেশে নানা ধর্মস্থানে, যুদ্ধক্ষেত্রে, শিক্ষা ক্ষেত্রে, কর্ম ক্ষেত্রে, বাড়িতে পথে অফিসে, বেশ্যা পল্লিতে নানা ভাবে ঘটছে। অনেক অবৈধ শিশুর জন্ম হয় যাদের এই পৃথিবীতে চলাচল কষ্টকর। তারা পরিচয় বিহীন মানুষ। অনিচ্ছায় অজানায় জন্ম নেয়া শিশুদের কাছে জীবন একটা প্রহসন। যার জন্য তার নিজেরা কোন ভাবে দায়ী নয়। তবু মানুষের বেঁধে দেয়া নিয়ম তাদেরকে নিকৃষ্ট হেয় মানুষ রূপে পরিচিতি দেয়। বিয়ে এবং ধর্মের নিয়ম প্রচলিত হওয়ার আগে মানুষের জন্মের হিসাব কিভাবে করত মানুষ?
যদিও পিতৃ পরিচয়হীন বহু মানুষ এই পৃথিবীতে বেঁচে আছে জীবন যাপন করছে। আজীবনই ছিল এবং থাকবে শুধু কিছু নিয়ম দিয়ে করে তোলা হয় অজানায় জন্ম নেয় শিশুর জীবন দুঃসহ। যে জীবন পাওয়ার জন্য শিশুদের নিজেদের করার কিছু ছিল না।
এছাড়া নারী শিশু জন্ম নিলেও নানা নিয়মে তাদের মেরে ফেলা হতো এখনও হয় অনেক জায়গায় । নারীর গর্ভে জন্ম অথচ নারী শিশু জন্ম নিলে পাপ হবে। অশুভ এমন কত রকমের প্রচার সমাজে।
আগে মেয়ে শিশু জন্ম হলে মুখে নুন দিয়ে মেরে ফেলার প্রচলন ছিল। এখন মেয়ে শিশু হবে জানলে গর্ভ অবস্থায় তাকে নষ্ট করে ফেলা হয়। যাতে একটি মেয়ের জন্ম দিয়ে দূর্ভোগ না আসে সংসারে যদিও অনেক নারীর শারীরিক ক্ষতি হয় এমন করতে গিয়ে। মৃত্যুও হয় তাতেও কিছু আসে যায় না, নারীর আর কি দাম আছে। একজন মারা গেলে আরেকজন পাওয়া যাবে বিয়ে করার জন্য। নারী এই পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ লভ্য বস্তু।
এবং লিঙ্গ নির্ধারন করে শিশুটির পরবর্তি জীবন কেমন হবে ভাগ্য। যে লিঙ্গ পাওয়ার জন্য শিশুটির নিজের কোন হাত নাই। হতে পারে পুরুষ, মেয়ে বা তৃতীয় লিঙ্গ। বা কোন রকমের প্রতিবন্ধী বা সুন্দর, অসুন্দর হয়ে জন্ম নেয়ার দায় কিছুতেই শিশুটির নিজের নয়। অথচ আমরা মানুষ একই প্রক্রিয়ায় জন্ম নেয়া শিশুকে নানা ভাগে ভাগ করে ফেলি সেভাবে নির্ধরন করি তার পরবর্তি সময়, পরিচয়। যার জন্য একটা শিশুকে পেরুতে হয় অনেক বাঁধার জীবন।
এক সময় চীনে একটি শিশু জন্মদানের কঠিন নিয়ম করা হয়। সে সময় যদি এক পরিবারে দুটো মেয়ে শিশু জন্ম নিত একটি শিশুকে বাইরে জনবহুল রাস্তায় রেখে আসত পরিবারের লোকজন। যেন কোন সংস্থা বা নিঃসন্তান মানুষ কুড়িয়ে পায়। রাষ্ট্রের নিয়মের কারনে পরিবারে লালিত পালিত হতে পারেনি অনেক শিশু। অনেক চাইনিজ শিশু বড় হয়েছে পশ্চিমা পরিবারে। তারা শিশুকে এডপট করে নিয়েছিল।
জন্ম নেয়ায় মানুষের কন্ট্রোলে না থাকলেও মানুষ, কন্ট্রোল করে মানুষের জন্ম নেয়া জীবন বেঁধে দেয়া রীতি নিয়মের ফাঁদে ফেলে। এই জন্ম নেয়া মানুষ নিজের জীবনের বোঝা বয়ে বেড়ায় নিজেই। সেই অবস্থানে কেউ হয় আদরিত কেউ হয় অবহেলিত। শুধু তার জন্ম নেয়ার অবস্থানের কারনে। কারো মুখে সোনার চামুচ কারো মুখে নুন। কেউ অভাবি সারাজীবন, পরিচয়হীন। চাকরি, শিক্ষা, প্রেম, বিয়ে সংসার জীবনেও পেরুতে হয় অনেক রকম অত্যাচার নিয়মের বেড়াজালের জন্য। অনাকাঙ্খিত এক জীবন পেয়ে মানুষ কতভাবে কত রকমের ঘটনার সম্মুখিন হয় সারা জীবন ধরে সে জীবনের পথে চলতে।

মৃত্যুর কথা আসবে আরেক পর্বে


ছবি ইন্টারনেট।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ রাত ১:৪৮
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×