somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাইয়িদ রফিকুল হক
আমি মানুষ। আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষ বলে আমার ভুলত্রুটি হতেই পারে। বইপড়তে আমার ভালো লাগে। সাহিত্য ভালোবাসি। লেখালেখি আমার খুব শখের বিষয়। বাংলাদেশরাষ্ট্র ও গণমানুষের জন্য আমি লেখনিশক্তিধারণ করেছি।

পবিত্র রমজান-মাসেও বাংলাদেশের শয়তান বন্দী হয় নাই

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৫:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পবিত্র রমজান-মাসেও বাংলাদেশের শয়তান বন্দী হয় নাই
সাইয়িদ রফিকুল হক

আমাদের দেশের একশ্রেণীর নামধারী-মুসলমান ইসলামগ্রহণ করেছে সম্পূর্ণ হুজুগে। আর এদের মহান আল্লাহ ও তাঁর পবিত্র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি বিশ্বাস খুবই সামান্য। আবার এদেরই কারও-কারও ঈমান নাই বললেই চলে—তবুও এরা নামধারী-মুসলমান। এরা ধর্ম না বুঝেই সমাজজীবনে ধর্মবিষয়ক নানারকম অবিশ্বাস্য কথাবার্তার জন্ম দিয়ে থাকে। আর এজাতীয় কথার মধ্যে একটি হলো: রমজান-মাসে শয়তান সম্পূর্ণ বন্দী থাকে! মানলাম, শয়তান বন্দী থাকে! কিন্তু দুনিয়াজুড়ে শয়তানী কি বন্ধ থাকে? জনমনে এই বিশ্বাসে এখন চিড় ধরেছে—গত ০১/০৭/২০১৬ তারিখে গুলশানের ‘হলি আর্টিজান বেকারিতে’ বন্দুকধারী-জঙ্গীদের নৃশংস হামলার পর থেকে।

গুলশানের ‘হলি আর্টিজান বেকারিতে’ কোনো ইহুদী-খ্রিস্টান-হিন্দু-বৌদ্ধ কিংবা অন্য-কোনো ধর্মাবলম্বীর লোকজন নৃশংস হামলা চালিয়ে এভাবে নির্বিচারে মানুষহত্যা করেনি। এরা বাংলাদেশেরই মানুষ! আর এরা ধর্মীয় পরিচয়ে মুসলমান! হ্যাঁ, এরা নামধারী-মুসলমান। তাই, এদের দাপট বেশি। এরা নিজেদের স্বার্থে পবিত্র কুরআনের ও কুরআনের জিহাদবিষয়ক আয়াতগুলোর ভুলব্যাখ্যা বা অপব্যাখ্যা করছে। এরা এদের সন্ত্রাসীজঙ্গী-কর্মকাণ্ডের পক্ষে কুরআনের জিহাদীআয়াতগুলোকে অপব্যাখ্যা করে দেশের একশ্রেণীর উর্বর-মস্তিষ্কের নামধারী-মুসলমানের মগজধোলাই করছে। আর ওই নামধারী-মুসলমান নামক নরপশুগুলো অদৃশ্য জঙ্গীগডফাদারদের মগজধোলাই খেয়ে হাতে তুলে নিচ্ছে: স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, গ্রেনেড, ভয়াবহ বোমাসহ আরও বিবিধ মারণাস্ত্র।

এরা ইসলাম কায়েম করতে চায়। কে এদের ইসলাম কায়েম করতে বলেছে? এর কোনো সঠিক ব্যাখ্যা এরা দিতে পারবে না। কিন্তু এদের কাছে কুরআন-হাদিস থেকে শুরু করে এখন সবকিছুরই অপব্যাখ্যা রয়েছে। এরা ইসলামধর্মকে এখন নিজেদের স্বার্থে, লোভে ও লাভের কাজে ব্যবহার করছে। আর নিজেদের মনগড়া-ব্যাখ্যার সাহায্যে জঙ্গীবাদকে জায়েজ ও হালাল মনে করে নির্বিচারে মানুষহত্যা করছে।

গুলশানের ‘হলি আর্টিজান বেকারিতে’ যে-নারকীয় ঘটনা সংঘটিত হয়েছে—তাকে ভয়াবহ শয়তানীঅপকর্ম না বললে ভুল হবে। বাংলাদেশের জঙ্গীনামধারী মানুষহত্যাকারী-সন্ত্রাসীরা পবিত্র রমজান-মাসে ইফতারের সামান্য পরে আহাররত মানুষকে জিম্মী করে নিজেদের অনৈতিক ও অযৌক্তিক দাবি আদায়ের চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়ে তারা উন্মত্তপশু-হায়েনার মতো নৃশংস হয়ে আহাররত মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে। আর এতে কমপক্ষে দেশী-বিদেশীসহ তিরিশজনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছে! আর এখানে, বিদেশী ষোলোজন মানুষ এই মুসলমান-নামধারী-নরপশুদের হাতে নিহত হওয়ায় আমাদের ইসলামধর্ম ও প্রিয়-স্বদেশ বাংলাদেশ-সম্পর্কে বিদেশীদের মনে নেতিবাচক ধারণার জন্ম দিয়েছে।

মনে রাখবেন: এটা কিন্তু পবিত্র রমজান-মাস! তবুও তাদের প্রকাশ্য শয়তানী বিন্দুপরিমাণ কমেনি। বরং আরও বেড়ে গেছে। এই রমজানের শুরুতে তারা দেশের বিভিন্নস্থানে হিন্দু পুরোহিত, মন্দিরের সেবায়েত ও গীর্জার পাদ্রীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আর মাত্র কয়েকদিন আগেও তারা আরেকজন পুরোহিতকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে! কিন্তু কীসের আশায়? আর কীসের নেশায় এসব করছে তারা? আসলে, এর পিছনে তাদের কোনো ন্যায়সঙ্গত যুক্তি বা দর্শন বা কোনো সঠিক ধর্মদর্শন নাই। তারা নিজেদের শয়তানীউদ্দেশ্যকে চরিতার্থ করার জন্য দেশব্যাপী চোরাগুপ্তা হামলাসহ প্রকাশ্যে গুলি করে মানুষহত্যা করেছে? এগুলো কী? আর এগুলোকে কী বলা যায়? নিশ্চয়ই শয়তানী? সবকিছু দেখেশুনে তাই এখন বিবেক বলছে: এই পবিত্র রমজান-মাসেও আসলে বাংলাদেশের শয়তান বন্দী হয় নাই। এদের শয়তানী চলছে আর চলবে। আর এই শয়তানদের মোকাবেলা করেই আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।


সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০৪/০৭/২০১৬
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৫:১৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৩

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট’ একটি বহুল ব্যবহৃত পরিচয়। সামাজিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিচয়ের কদর দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×