
যদি আপনার জন্ম আশি বা নব্বইয়ের দশকে হয়ে থাকে, তবে আপনি এমন এক পৃথিবীর সন্তান, যার অনেকটাই আজ ইতিহাস। আপনি হয়তো এখনও মনে করতে পারেন, বন্ধুত্ব মানে ছিল কারও বাড়ির সামনে গিয়ে ডাক দেওয়া, কোনো নোটিফিকেশনের অপেক্ষায় থাকা নয়। শনিবার সকালের আনন্দ ছিল টেলিভিশনের সামনে বসে প্রিয় কার্টুন দেখা, অন্তহীন স্ক্রলিংয়ে হারিয়ে যাওয়া নয়। সুখ খুঁজে পাওয়া যেত একটি মিক্সটেপে, বিকেলের দীর্ঘ সাইকেল ভ্রমণে, কিংবা সন্ধ্যায় জ্বলে ওঠা রাস্তার বাতির সেই পরিচিত সংকেতে, যা বলে দিত বাড়ি ফেরার সময় হয়েছে।
কিন্তু আপনার প্রজন্মের সবচেয়ে অনন্য পরিচয় অন্য কোথাও। আপনারাই সেই সেতুবন্ধন, যারা প্রযুক্তিহীন পৃথিবীর স্বাদও জানে, আবার প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবীর উত্থানও নিজের চোখে দেখেছে। আপনারা পে-ফোনের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছেন, ডায়াল-আপ ইন্টারনেটের শব্দ শুনে সংযোগের আনন্দ পেয়েছেন, তারপর ধীরে ধীরে দেখেছেন পৃথিবী কীভাবে আরও দ্রুত, আরও ব্যস্ত এবং আরও কোলাহলপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
হয়তো সে কারণেই আশি ও নব্বইয়ের দশকের মানুষদের হৃদয়ে এক ধরনের নীরব বিষণ্নতা বাস করে। সরল সময়ের জন্য এক অদ্ভুত টান, এমন এক যুগের জন্য আকুলতা, যখন আনন্দ খুঁজে পাওয়ার জন্য খুব বেশি কিছু লাগত না। কারণ তারা জানে, জীবন একসময় অনেক ধীর ছিল, অথচ হয়তো আরও গভীর ছিল।
যদি এই কথাগুলো আপনার ভেতরে কোথাও গিয়ে নাড়া দেয়, তবে তার কারণ আপনি কেবল একটি সময়ের মানুষ নন। আপনি আপনার ভেতরে দুটি পৃথিবীকে বহন করে চলেছেন। একটি পৃথিবী, যেখানে মানুষ একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলত; আরেকটি পৃথিবী, যেখানে মানুষ পর্দার দিকে তাকিয়ে সংযোগ খোঁজে। আর এই দুই জগতের স্মৃতি ও বাস্তবতার মাঝখানেই আপনার প্রজন্মের গল্প লেখা আছে।
আশরাফুল মাহমুদ তাইফ
ঢাকা, বাংলাদেশ ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



