ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোর বিলাসবহুল বাংলোগুলোতে একসময় এই প্রহরে চলত ক্ষমতার উদযাপন। শ্যাম্পেইনের গ্লাসের টোস্ট আর কোটি কোটি টাকার টেন্ডারের গোপন চুক্তি । আজ রাতটা অন্যরকম। আজই বাংলোগুলোর চার দেয়ালে এক গোমোট শ্বাসরুদ্ধকর আতঙ্ক বিরাজ করছে। দুর্নীতির পাহাড় চুড়ায় বসে যারা এতদিন ধরাকে সরাজ্ঞান করতেন যারা নিজেদেরকে রাজনীতির রঙ্গমঞ্চের অঘোষিত ঈশ্বর ভাবতে শুরু করেছিলেন, আজ তাদের চোখের ঘুম পুরোপুরি হারাম হয়ে গেছে। একটি ফোন কল, একটি নির্দেশ। আর তাতেই পায়ের তলার মাটি খসে পড়ছে একসময়ের প্রবল প্রতাপশালী নেতাদের।
অস্ত্রের মহরা, ক্যাডার বাহিনীর আশফালন কিংবা উপর মহলে টাকার বস্তা নিয়ে দেন দরবার কোন কিছুই আর তাদের জন্য রক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করছে না। গদি টিকিয়ে রাখার চিরচেনার রাজনৈতিক কুটচাল আজ সম্পূর্ণ অকেজ। ক্ষমতার শীর্ষ কেন্দ্র থেকে এমন এক নির্মম এবং আপসহীন শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে যার অদৃশ্য গিলোটিনের নিচে এখন মাথা পেতে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বাঘা বাঘা মন্ত্রী থেকে শুরু করে ক্ষমতাধর ৭০ জন সংসদ সদস্য। দুর্নীতির শেকর উপে ফেলতে এবং প্রশাসনের রন্দ্রে রন্দ্রে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে ভয়ঙ্কর ছক কষেছেন তার প্রথম ধাক্কাতেই রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে এক প্রলয়নকারী ভূমিকম্প ঘটে গেছে। এই ভূমিকম্পের মাত্রা রিক্সটার স্কেলে মাপা যায় না। কিন্তু এর তীব্রতায় কেঁপে উঠেছে পুরো সচিবালয় থেকে শুরু করে সারাদেশের মাফিয়া নেটওয়ার্ক।
গত সোমবার সকালে ক্ষমতার যে আকস্মিক রদবদল ঘটেছে তাকে সাধারণ কোন রাজনৈতিক রুটিন ওয়ার্ক ভাবার অবকাশ নেই। এটি মূলত একটি সুনিপুণ ও নির্মম রাজনৈতিক অপারেশনের প্রথম দৃশ্য। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ আসন থেকে দীপেন দেওয়ানের বিদায় সংবাদটি সাধারণ মানুষের কাছে শারীরিক অসুস্থতার মোড়কে পরিবেশন করা হলেও পর্দার পেছনের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং রুর। পাহাড় বরাবরই রাষ্ট্রের সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং বারুদমাখা একটি ভূখন্ড। বিশেষ করে প্রতিবেশী মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং সীমান্ত ঘেসে আরাকান আর্মির বেপরোয়া সামরিক তৎপরতার কারণে পুরো পার্বত্য অঞ্চলে যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে তা মোকাবেলা করার জন্য একজন দক্ষ ও কঠোর প্রশাসকের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো প্রধানমন্ত্রীর ডেস্কে এসে যে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছিল তা ছিল ভয়াবহ। এই চরম সংকটময় মুহূর্তে পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে দীপেন দেওয়ান পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। তার প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। চোরাচালান, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর আশপালন এবং স্থানীয় প্রশাসনের স্থবীরতা। সব মিলিয়ে পাহাড় পরিণত হচ্ছিল এক জ্বলন্ত আগ্নিয়গিরিতে। রাষ্ট্রযন্ত্রের নিরাপত্তা যেখানে চরম হুমকির মুখে সেখানে কোন ব্যক্তির পথমর্যাদা বা অতীত রাজনৈতিক পরিচয়ের তোয়াক্কা করেনি সরকার। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অসুস্থতার এক চমৎকার কূটনৈতিক চাদর পড়িয়ে দিপেন দেওয়ানকে অত্যন্ত সুকৌশলে ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পদত্যাগপত্র জমা পড়ার সাথে সাথেই তা গ্রহণ করার নেপথ্য বার্তাটি অত্যন্ত পরিষ্কার। রাষ্ট্রের অখন্ডতা এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়ার কোন মানসিকতা শীর্ষ নেতৃত্বের নেই। হয় পারফর্ম করো নয়তো সরে দাঁড়াও।
পাহাড়ের এই প্রশাসনিক সার্জারির রেশ কাটতে না কাটতেই নজর পড়েছে সমতলের অন্যতম মেগা এবং প্রভাবশালী মন্ত্রণালয় গুলোর দিকে। সড়ক ও সেতুর মত বিশাল সাম্রাজ্যের এক ছোট্ট অধিপতি শেখ রবিউল আলমের বর্তমান পরিণতি দেখে ক্ষমতার দম্ভে ফুলে ওঠা অন্য নেতাদের মেরুদন্ড দিয়ে এখন শীতল স্রোত বয়ে যাচ্ছে। যে সরকার দেশ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট ভাঙ্গার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, সেই সরকারেরই একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী যখন চাঁদাবাজি এবং সিন্ডিকেটের সাথে সমঝতার মতো বেপরোয়া মন্তব্য করেন তখন তা সরাসরি রাষ্ট্রের ক্লিন ইমেজে কুঠার আঘাত করে। রবিউল আলমের একটি অহংকারী এবং দায়িত্ব জ্ঞানহীন মন্তব্য পুরো প্রশাসনের জন্য চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন তার বিশাল রাজনৈতিক বলয় এবং টাকার পাহাড় তাকে বাঁচিয়ে দেবে। তিনি ভেবেছিলেন তিনি এই সাম্রাজ্যের অঘোষিত সম্রাট। কিন্তু যারা দেশের রাজনীতির ভেতরের খবর রাখেন তারা জানেন যে শীর্ষ নেতৃত্ব এই ধৃষ্টতা বিন্দুমাত্র সহ্য করেনি মুহূর্তের মধ্যে তার বিশাল সাম্রাজ্যের ডানা নির্মমভাবে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। ক্ষমতার যে বলয়কে তিনি নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি ভেবেছিলেন সেখান থেকে তাকে রীতিমতো টেনে নামিয়ে জবাবদিহি তার কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে একজন হেভিওয়েট মন্ত্রীর এই প্রকাশ্য পতন মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের জন্য এক ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তা তারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন মুখের লাগামহীন বাক্যবান এবং কাজের ময়দানে শূন্যতা এই দুই এর পরিণতি এখন সরাসরি রাজনৈতিক মৃত্যু। এখন আর কোন মাপ নেই।
মন্ত্রিসভার এই নির্মম শুদ্ধি অভিযানের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি হয়ে সামনে এসেছে একসময় রাজপথ কাঁপানো তরুণ নেতা ভিপি নূরের পরিণতি। যে তরুণকে একদিন লাখো মানুষ পরিবর্তনের প্রতীক ভেবেছিল। ক্ষমতার চেয়ারে বসার পর তার সেই আদর্শের মুখোষ ঘষে পড়তে খুব বেশি সময় লাগেনি। পূর্বে শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সময় চরম অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে তিনি একবার ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়েছিলেন। সাধারণ মানুষ ভেবেছিল সেই অপমানজনক পতন থেকে তিনি হয়তো শিক্ষা নেবেন। কিন্তু প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বসার পর তার কুকীর্তির মাত্রা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি যে প্রবাসীরা তাদের রক্তঘামে অর্জিত রেমিটেন্সের উপর দাঁড়িয়ে নূর গড়ে তুলেছেন এক ভয়ঙ্কর দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট। পদে পদে হয়রানী, ফাইল আজকে রাখা, ম্যানপাওয়ার সিন্ডিকেট থেকে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি এবং সীমাহীন দুর্নীতির কারণে রেমিটেন্স যোদ্ধাদের জীবন আজ দুর্বিষহ। ক্ষুব্ধ এবং প্রতাারিত প্রবাসীরা বাধ্য হয়ে বিদেশের মাটিতে তার বিরুদ্ধে সরাসরি বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। নূরের এই পাহাড় সম ব্যর্থতা এবং দুর্নীতির সম্পূর্ণ গোপন ডকুমেন্ট এখন প্রধানমন্ত্রীর ডেস্কে। সরকার খুব ভালো করেই জানে ডলার সংকটের এই চরম মুহূর্তে প্রবাসীদের সাথে প্রতারণা করার অর্থ হলো দেশের অর্থনীতিকে সরাসরি আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা। তাই কোন মায়াকান্না বা অতীত আন্দোলনের দোহাই দিয়ে নূরার পার পাচ্ছেন না। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে তার চূড়ান্ত বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে তাকে এই পথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। রাজপথের স্লোগান আর রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতা যে এক জিনিস নয় নূরের এই পতন দেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। আদর্শের বর্ম গায়ে জড়িয়ে যারা দুর্নীতির পুকুরে ডুব দেন গিলোচিনের ব্লেড তাদের জন্য সবচেয়ে ধারালো হয়।
পুরো নদীর এই পতনের জামাজলের মধ্যেই রাষ্ট্রযন্ত্রে প্রবেশ করতে যাচ্ছে নতুন রক্ত। অযোগ্যতা এবং দুর্নীতির শূন্যস্থান
পূরণ করতে সরকার অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে নতুন মুখ সামনে আনছেন। চট্টগ্রামের আট আসনের এরশাদুল্লাহ এবং পটুয়াখালীর চার আসনের বিএম মোশারফ হোসেনের নাম এখন ক্ষমতার করিডরে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। প্রশাসনের স্থবিরতা কাটাতে এবং মাঠ পর্যায়ের দলের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতে তাদের হাতে বড় দায়িত্ব তুলে দেয়া হচ্ছে। একই সাথে টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রিসভায় প্রবেশ করতে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহিদুর রহমান। এই নতুন এবং ক্লিন ইমেজের নেতাদের আগমনের খবরে পুরনো এবং ক্ষমতার কুক্ষিগত করে রাখা মন্ত্রীদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তারা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে পারফরম্যান্সের খাতায় শূন্য পেলে কাউকে ঘাড় ধরে বের করে দিতে শীর্ষ নেতৃত্বের হাত এক সেকেন্ডের জন্য কাঁপবে না। নতুনদের এই আগমন কেবল রদবদল নয় এটি একটি বার্তা কেউ অপরিহার্য নয়। একের পর এক বাঘা বাঘা নেতার এমন পতনের নিপথ্যে কাজ করছে সম্পূর্ণ নতুন এক প্রশাসনিক রাজার। পূর্বে সরকারগুলোর মত অন্ধভাবে দেশ চালানোর দিন শেষ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে তার দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আদলে এমন একটি ভয়ঙ্কর পারফরমেন্স মনিটরিং মেকানিজম চালু করেছেন। যার জাল ভেদ করে বের হওয়ার সাধ্য কারো নেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে গড়ে তোলা হয়েছে একটি স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স সেল। অর্থপদেষ্টা এবং মুখ্য সচিবের মত প্রশাসনের সবচেয়ে তীক্ষ্ণ এবং বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এই সেল সরাসরি মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। কে কোথায় কার সাথে গোপন মিটিং করছেন। কোন মন্ত্রীর টেবিলে কয়টি ফাইল আটকে আছে। কার ব্যাংক একাউন্টে হঠাৎ করে টাকার পাহাড় জমছে, কার স্ত্রী আর সন্তান বিদেশে কত টাকা পাচার করছে, তার প্রতিটি তথ্য প্রতিদিন সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে পৌঁছাচ্ছে। এই নিশ্চিদ্র নজরদারীর জালে ইতিমধ্যে সরকারের তিনজন প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী আটকা পড়েছেন। তাদের সরাসরি ডেকে এমন করা ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে যে পুরো সচিবালয়ে এখন পিনপতন নীরবতা। প্রতিটি সিদ্ধান্ত প্রতিটি স্বাক্ষর এখন আতশকাচের নিচে। ফাঁকিবাজি বা দুর্নীতির বিন্দুমাত্র প্রমাণ মিললেই সরাসরি বরখাস্ত। এটি এখন একমাত্র নিয়ম।
তবে এই প্রলয়নকারী ঝড়ের সবচেয়ে বড় আঘাতটি মন্ত্রিসভা পার হয়ে আছড়ে পড়েছে দলের মাঠ পর্যায়ের শীর্ষ নেতা এবং সংসদ সদস্যের উপর। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ৭০ জন সংসদ সদস্যের একটি ব্ল্যাকলিস্ট বা কালো তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকাটি মূলত সেইসব জনপ্রতিনিধিদের যারা ভোটের পর নিজেদের এলাকাকে ডাস্টবিন ভেবে ঢাকায় বসে বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন। যারা মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের কাজে বেআইনিভাবে হস্তক্ষেপ করছেন। টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং নিজেদের চামচাদের দিয়ে বিশাল চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। তারা ভেবেছিলেন পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী আমলের মতো এবারও তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবেন। কিন্তু তাদের সেই ভুল ভাঙতে খুব বেশি সময় লাগেনি। এই ৭০ জন এমপির প্রতিটি ফোন আলাপ, বেনামি ব্যাংক হিসাব, হন্ডি লেনদেন এবং সম্পদের পাহাড়ের উপর এমন তীক্ষ্ণ নজরদারি বসানো হয়েছে যে তাদের প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসের খবর এখন শীর্ষ নেতৃত্বদের নখদর্পণে। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও এই রাডার থেকে বাদ যাননি। এই কালো তালিকার খবর জানাজানি হওয়ার পর অনেক দুর্নীতিগ্রস্ত এমপির মাঝেই এখন ত্রাহী ত্রাহী অবস্থা। তারা বুঝতে পারছেন তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কফিনের শেষ পেরেক ঠোকা হয়ে গেছে। ঢাকায় বসে তদবির করা বা বড় নেতাদের পা ধরা এখন আর কোন কাজ করছে না। কারণ ক্ষমতার সর্বোচ্চ চূড়ায় এখন কোন আপোষের সুযোগ রাখা হয়নি।
সরকারের এই নির্দয় এবং কঠোর অবস্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো দেশের বর্তমান রক্তক্ষয়ী অর্থনৈতিক বাস্তবতা। ডলারের রিজার্ভের ভয়াবহ পতন, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপণ্যের আগুনে পুড়তে থাকা সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে হলে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতর থেকে দুর্নীতির এই ক্যান্সার সমূলে উৎপাটন করা ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত নির্মমভাবে এই সত্যটি মেনে নিয়েছেন। দেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে নিজের দলের ভেতরের আবর্জনা সবার আগে পরিষ্কার করতে হবে। পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের বিদায় মেগামন্ত্রী রবিউলের ক্ষমতা খর্ব করা কিংবা ভিপি নূরের আসন্ন পতন এগুলো কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এগুলো মূলত সেই বিশাল মাস্টারপ্লানের এক একটি নিখুত দাবার চাল।
যারা ভেবেছিলেন ক্ষমতার মসনদে বসে সারাজীবন সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে খাবেন আজ তাদের চোখে মুখে শুধুই বাচার আকুতি। কিন্তু প্রশাসনকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করতে এবং চির টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করতে সরকার যে পথে হাঁটা শুরু করেছে তাতে আগামী দিনগুলোতে রাজনীতির মাঠে আরো বড় বড় মহারুথির পতন আবসম্ভাবী।
রাত ঘনিয়ে আসছে। ঢাকা রাজপথ ক্রমশ নিস্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সেই গোপন ইন্টেলিজেন্স সেলের মনিটর গুলো এখনো জলজল করছে। মনিটরের পর্দায় ভেসে উঠছে একের পর এক ডাটা, অডিও ট্রান্সক্রিপ্ট। আর ব্যাংক স্টেটমেন্ট ক্রাফগুলো ওঠানামা করছে। স্পেশাল সেলের একজন কর্মকর্তা একটি লাল মার্কার দিয়ে একটি নামের উপর গোল দাগ দিলেন। এই নামটি আগামীকাল সকালের সবচেয়ে বড় হেডলাইন হতে যাচ্ছে। ক্ষমতা কেন্দ্রের এই নির্মম শুদ্ধি অভিযান দেশের ইতিহাসে এমন এক নতুন অধ্যায় লিখতে যাচ্ছে যেখানে পারফরমেন্স ছাড়া কোন নেতার টিকে থাকার বিন্দুমাত্র সুযোগ আর অবশিষ্ট থাকবে না। রাজনৈতিক ঈশ্বরদের পতন শুরু হয়েছে। আর সে পতনের শব্দে কেঁপে উঠেছে পুরো দেশ। কাল সকালে হয়তো কোন এক মন্ত্রীর বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াবে কালো কাচের কয়েকটি গাড়ি। হয়তো কোন এক এমপির পাসপোর্ট বা জ্যাপ্ত হবে এয়ারপোর্টে। অদৃশ্য গিলোটিনের ব্লেডটা পরিষ্কার করা হচ্ছে নতুন কারো জন্য। কে হবে সেই পরবর্তী শিকার? কার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটবে কাল সকালে?
আশরাফুল মাহমুদ তাইফ
ঢাকা, বাংলাদেশ।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



