somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তাই-ফি
যন্ত্রণা, ব্যর্থতা, প্রত্যাখ্যান, ক্ষতি এবং অসম্মানের মধ্য দিয়ে সেই মানুষটি হন, যে বারবার উঠে দাঁড়ায়। পুনর্গঠন করতে থাকেন, মেরামত করতে থাকেন তার সাথে বেড়ে উঠতে থাকেন। নিজের জীবনকে এমন শক্তিতে গড়ে তুলুন, যে কোনো কিছুই আপনাকে ভাঙতে পারবে না।

২০০৬-২৭ এর বাজেট কেন প্রশংসা পাচ্ছে?

১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাবা জিয়াউর রহমান নিজে সরাসরি দিয়েছিলেন তিনটি বাজেট। তখন বাজেটের আকার ছিল ৩০০০ কোটি টাকার মধ্যে। মা খালেদা জিয়ার দুই আমলে ১০ টি বাজেট পায় বাংলাদেশ। তার সরকারের শেষ বাজেটটি ছিল প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। সেই পথ ধরে এবার অভিষেক হলো ছেলে তারেক রহমানের। মা-বাবাকে তো বটেই তারেক রহমানের সরকার সবাইকে ছাড়িয়ে দিল দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের আকারের মতোই স্বপ্নটাও এবার আকাশ ছোঁয়া। আমাদের সম্পদ কম কিন্তু নজর রাখা হয়েছে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে। বলা হচ্ছে এই বাজেটের মাধ্যমে উন্নত দেশগুলোর মত কল্যাণ রাষ্ট্র হবার মহাসড়কে উঠে গেল বাংলাদেশ। বাজেটের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে আনা হয়েছে নানা পরিকল্পনা। চলুন জেনে নেই আপনার আমার জন্য কি আছে এই বাজেটে।

শুরুতেই বলি আমাদের সমাজের সেইসব মানুষদের কথা যাদের দিকে রাষ্ট্রকে সবার আগে তাকাতে হয়। এবার বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকার যেন বরাদ্দের জোয়ার এনেছে। গত বছরের ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার ঘর টোপকে এবার বরাদ্দ করা হচ্ছে বিশাল ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু শুধু টাকা বাড়ালেই তো হয় না। সঠিক মানুষের হাত পর্যন্ত পৌঁছানো চাই। আর সেখানেই আসছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া।

এবার চালু হচ্ছে ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি। এটি এমন এক অনলাইন তথ্য ভান্ডার যা নিশ্চিত করবে যেন কোন মধ্যসত্যভোগী বা ভুয়া মানুষ গরীবের হক কেড়ে নিতে না পারে। এর জন্য সুবিধাভোগীদের এনআইডি কিংবা জন্ম নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংসার চালাতে গিয়ে হিমসিমখা নারীদের জন্য এবার বড় সুখবর এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রথমবারের মতো চালু হওয়া ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশে ৪১ লাখ নারী প্রধান পরিবার প্রতি মাসে পাবেন আড়াই হাজার টাকা
করে। আগামী পাঁচ বছরে সুবিধার আওতায় আসবে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবার। রয়েছে নতুন কিছু অসাধারণ উদ্যোগ। কৃষক কার্ডে ৪২ লাখ ৫০০ কৃষক বছরে পাবেন আড়াই হাজার টাকা করে।

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং আহতদের জন্য থাকছে বিশেষ মাসিক ভাতার ব্যবস্থা। এছাড়া দেশের আড়াই লাখের বেশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও খাদেমদের জন্য মাসিক সম্মান ও দুই ঈদে বা পূজায় উৎসব ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সাথে কর্মহীন হয়ে পড়া ১৫,০০০ শ্রমিক সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত ৫০০০ টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন। শুধু নতুন প্রকল্পই নয়, পুরনো ভাতাতেও এসেছে খুশির হাওয়া। বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতা ৫০ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭০০ টাকা। সঙ্গে বাড়ছে সুবিধাভোগীর সংখ্যাও।

প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের ভাতা ৯০০ থেকে বাড়িয়ে ১০০০ টাকা এবং তাদের মেধাবৃত্তির পরিমাণও বাড়ানো হচ্ছে। সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো ক্যান্সার, কিডনি বা লিভার, সিরোসিসের মত মারাত্মক রোগে আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা ৫০০ টাকা থেকে এক লাফে দ্বিগুণ করে এক লাখ টাকা করা হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষার এ বিশাল বলয়ের পাশাপাশি দেশের সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের জন্য এবারও এক অবিশ্বাস্য আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে এই বাজেট। নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর জন্য বাজেটে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে সব মিলিয়ে গ্রেড ভেদে কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে যাচ্ছে।

এবার চোখ ফেরানো যাক তরুণদের দিকে। যারা ল্যাপটপের সামনে বসে রাত জেগে ফ্রিল্যান্সিং করেন কিংবা নতুন কোন স্টার্টআপ খোলার স্বপ্ন দেখছেন তাদের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খোসরু মাহমুদ চৌধুরী এনেছেন এক দারুণ উপহার তরুণ উদ্যোক্তা স্টার্টআপ ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটারদের জন্য সরকার গঠন করছে ৪০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল সুখবর এখানেই শেষ নয় YouTube ফেসবুক বা টিকটক থেকে ফ্রিল্যান্সার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটারদের কষ্টার্জিত আয়কে সম্পূর্ণ কর মুমুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে পাশাপাশি স্টার্টআপ গুলোর জন্য স্থানীয় ভ্যাট অব্যাহতি এবং টার্নওভার কর শূ্ন‍্য শতাংশ করার মত বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে যা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বজায় থাকবে। এর ফলে দেশের হাজারো তরুণ এখন ঘরে বসে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস পাবেন। বাংলাদেশ মানে শুধু তৈরি পোশাক বা রেমিটেন্স নয় আমাদের আছে হাজার বছরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর মাটির টান। এবারের বাজেট আমাদের সেই চিরচেনা রূপকে এক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের রূপ দেওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

বাজেটে প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতি। এর জন্য আলাদাভাবে রাখা হচ্ছে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল। এর লক্ষ্য হলো আমাদের গ্রামীণ কামার, কুমার, তাঁতি, কারো শিল্প থেকে শুরু করে শহরের নাট্যকর্মী, সংগীত শিল্পী ও চিত্রশিল্পীদের ডিজিটাল অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসা। জামদানি, নকি কাঁথা, মৃতশিল্প কিংবা বাঁশবেতের পণ্যকে প্রযুক্তির সহায়তায় পৌঁছে দেওয়া হবে বিশ্ববাজারে। জেলা পর্যায়ে তৈরি হবে ক্রিয়েটিভ হাব ও ইনোভেশন জোন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের দেওয়া হবে সৃজনশীলতার বিশেষ প্রশিক্ষণ। দর্শক ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট কেবল সংখ্যার কোন খতিয়ান নয়। এটি আসলে দেশের প্রতিটি জনগণকে স্পর্শ করার এক মহাপরিকল্পনা। একদিকে গ্রামীণ প্রান্তিক মানুষের মুখে ভাত আর সরকারি সাহায্য নিশ্চিত করা। মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীদের স্বস্তি দেওয়া। অন্যদিকে তরুণ সমাজকে
আধুনিক ও সৃজনশীল প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা। সব মিলে এক ভারসাম্যপূর্ণ স্বপ্ন।


আশরাফুল মাহমুদ তাইফ
ঢাকা, বাংলাদেশ ।

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:২২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ সুবহানার বীরত্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:১০




সুবহানা খুব ছোট্ট হলেও, দারুণ মিষ্টি দেখতে,
চটপটে, বেজায় সাহসী , কেউ পারে না রুখতে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন দুপুরবেলা
অনাথ দুটি শিশু বসে করছিল কি এক খেলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×