যারা আগের পর্বগুলো মিস্ করেছেন, তারা এই লিংকে ক্লিক করে পড়ে নিতে পারেন।
পর্ব-১ এইখানে ক্লিক করুন
পর্ব-২ এইখানে ক্লিক করুন
পর্ব-৩ এইখানে ক্লিক করুন
পূর্ব প্রকাশিত’র পর-
প্রমাণ-৫
কোরআন ও সূন্নাহ’র বিভিন্ন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ে প্রায় সকল সাধারণ শিক্ষিত মুসলমানগণ যে উত্তর দেয়, সকল মাদ্রাসা শিক্ষিত ব্যাক্তি তার বিপরীত উত্তর দেয়। যেমন-
হাদিস কোরআনকে রহিত করতে পারে কি?
প্রায় সকল সাধারণ শিক্ষিত মুসলমানগণ অভিন্ন উত্তর দিবেন যে, হাদিস কখনও কোরআনকে রহিত করতে পারেনা। কিন্তু অধিকাংশ মাদ্রাসা শিক্ষিত আলেমগণ উত্তর দিবেন- হাদিস কোরআনকে রহিত করতে পারে। কারণ এটি তাদের সিলেবাসে আছে।
কোরআনের অনেক আয়াতে তেলাওয়াত চালু আছে কিন্তু হুকুম চালু নাই। তথ্যটি কি সত্য?
প্রায় সকল সাধারণ শিক্ষিত মুসলমানগণ এক বাক্যে উত্তর দিবেন যে, এটি কখনও সত্য হতে পারেনা। কিন্তু অধিকাংশ মাদ্রাসা শিক্ষিত আলেমগণ উত্তর দিবেন- এটি সত্য। কারণ এটি তাদের সিলেবাসে আছে।
এ দু’টি ঘটনার জন্য ২টি কারণ থাকতে পারে। যথাঃ
কোরআন ও সূন্নাহ্র অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় সাধারণ জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিপরীত।
মাদ্রাসার সিলেবাসে ষড়যন্ত্র করে ভুল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আমার বিশ্বাস সকল বিবেকবান মানুষই বলবেন, মাদ্রাসার সিলেবাসে ষড়যন্ত্র করে ভুল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাস্তবতা হচ্ছে- একটি তথ্য আরেকটি তথ্যকে রহিত করার প্রসঙ্গ তখনই আসে যখন তথ্যদ্বয় পরস্পর বিপরীতমূখী হয়।
সূরা হাক্কাহ’র ৪৪-৪৭ নং আয়াতে পবিত্র কোরআন কি স্বাক্ষ্য দেয়-
“রসুলুল্লাহ্ (সঃ) কোরআনের কোন বিপরীত কথা বললে আল্লাহতা’লা তাঁর ঘাড় টেনে ছিঁড়ে ফেলতেন (কোন কোন তাফসীরে এসেছেঃ তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম এবং কেঁটে দিতাম জীবন ধমনী )।”
আবার সূরা বাকারাহ্’র ১৮৫ নং আয়াতে মহান আল্লাহতা’লা ঘোষনা করেন-
“কোরআন সত্য ও অসত্যের মধ্যে পার্থক্যকারী।”
অর্থাৎ কোরআন সত্য আর বাকী সব অসত্য বা মিথ্যা। তাই কোরআনের বিপরীত কোন কথা রসুলুল্লাহ্ (সঃ) এর কথা হতে পারেনা। কাজেই কোরআন-হাদিসকে রহিত করার প্রশ্নই আসেনা। রহিত করতে হবে যা কোরআন-হাদিস বিরোধী ঐগুলো। হাদিসের কোন কথা কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক হলে, ঐ হাদিস যে গোয়েন্দা আলেমদের তৈরী করা জাল হাদিস হবে, তা বলার আর প্রয়াস রাখেনা।
প্রমাণ-৬
“কোরআন রিসার্চ ফাউন্ডেশন” এ পর্যন্ত (জুন, ২০০৯ইং) ২৯টি পুস্তিকার মাধ্যমে ৩০টি বিষয়ে তাদের গবেষনা প্রকাশ করেছে। ঐ ৩০টি বিষয়ের সব কয়টি হচ্ছে- ইসলামের মৌলিক বিষয়। ঐ বিষয়গুলোর প্রত্যেকটিতে কোরআন, হাদিস এবং বাস্তবতার অনেক স্পষ্ট ও সহজবোধগম্য তথ্য রয়েছে। কিন্তু ফিকাহ্ শাস্ত্রের বদান্যতায়, ঐসকল প্রতিটি বিষয়ের সম্পূর্ণ বা আংশিক বিপরীত কথা সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ব্যাপকভাবে চালু আছে। এর কারণ কোনটি হতে পারে?
১। ইসলামী বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান বুদ্ধি খুবই কম ছিল।
২। ষড়যন্ত্র করে ইসলামের মূল জ্ঞানে ভুল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রকৃত মুসলিমসকল অবশ্যই এ ঘটনার কারণ; দ্বিতীয়টি বলে স্বীকার করবেন।
ইসলামী জ্ঞানে ভুল ঢুকানো এবং তা স্থায়ী করণে গোয়েন্দারা বিভিন্ন স্তরে যে বিশ্ময়কর কাজগুলো করেছে তা নিম্নরূপঃ
ইসলামী জ্ঞানের উৎসের তালিকায় ভুল ঢুকিয়ে দেওয়া।
কোরআনের জ্ঞান থেকে দূরে সরানোর ব্যবস্থা করা।
সূন্নাহ্’র জ্ঞান থেকে দূরে সরানোর ব্যবস্থা করা।
কোরআনের চেয়ে হাদিসকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করা।
অভিনব পদ্ধতিতে ভুল তথ্য তৈরী করা।
ভুল তথ্যগুলো ফিকাহ্ শাস্ত্র ও মাদ্রাসার সিলেবাসে ঢুকিয়ে ব্যাপক প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার ব্যবস্থা করা।
কোরআন, হাদিস বাদ দিয়ে ফিকাহ্ শাস্ত্র থেকে ইসলামী জ্ঞান অর্জনকে উৎসাহিত করা।
ফিকাহ্ শাস্ত্রের সংস্কার বন্ধ করে দিয়ে ভুল তথ্যগুলো সংস্কারের পথ বন্ধ করে দেওয়া।
ভুল তথ্যগুলো মুসলিমদের বিনা দ্বিধায় মেনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা।
-------------------------------------------------------------------
ইনশা’ল্লাহ্ ষড়যন্ত্রের খুঁটিনাটি ও আরো তথ্য-প্রমাণ নিয়ে খুব শীঘ্রই লিখছি ৫ম পর্ব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


