somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খুলনা খালিসপুর হতে প্রচারিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে তিন ওয়াক্ত করার নাপাক ঘোষণার প্রতিবাদ। পর্ব ১

২৬ শে জুন, ২০১২ রাত ১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আল্লামা সোবহান
সমপ্রতি রছুলে পাক (ছ) এর হাদিস অমা্যকারী একটি সংস্থা ওয়াল্ধ আল কোরআন রিসার্চ সেন্টার প্লট-১১ রোড-২৭৪ খালিশপুর খুলনা হতে ৮ পৃষ্ঠা একটি প্রচার প্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। এ প্রচার পত্রে আল কুরআনে যা নেই তা মানা যাবেনা, হাদীস প্রন্থগুলি ধর্ম গ্রন্থ নহে, সেহেতু হাদীস দ্বারা প্রদত্ত কোন বিধানকে দ্বীনের দলিল হিসেবে/বিধান হিসাবে স্বীকার করা যেতে পারেনা, ইত্যাদি শরিয়ত বিরোধী উক্তি করা হয়েছে। এ প্রচারপত্রটি মুসলমান নর নরীর ধর্মীয় অনুভুতির উপর আঘাত দিয়ে ধর্মীয় হতাশা সৃষ্টি করছে। প্রায় ১৪শো বছর ধরে রছুলুল্লাহর নেতৃত্বে মক্কা মদীনা হতে যে নামাজ ইছলামের ২য় স্তম্ভ ৫ ওয়াক্ত নামাজের শুরু, বিশ্বের সর্বত্র্যই মুসলিম অধুষিত দেশে ও অঞ্চলে লক্ষ কোটি মসজিদে ও পরিবারে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত চালূ রয়েছে। সেই ৫ পাঁচ ওয়াক্ত যেমন ফজর, যোহর, আছর, মাগরিব ও এশা। আর এ পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতে হতে আছর ও মাগরিব পড়া যাবেনা বলার পিছনে কোন অপশক্তি মদদ দিচ্ছে তা জিজ্ঞাসাই বটে। তাই এ শরিয়ত বিরুদ্ধ উক্তির জ্ন্য তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি এ ধরণের উক্তিকারীরা হিজবু শাইতন হওয়ার তাদেরকে যে কোন মূল্যে প্রতিহত করা প্রতিহত করা প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর জন্য ধর্মীয় দায়িত্ব। সকল বিজ্ঞ মুসলিম নর নারীরই তো জানা আছে যে কিতাব ও ছুন্নাতে রছুল এ দুটি বিষয় দুটি আঁকড়িয়ে ধরে থাকবে তোমরা পথ ভ্ষ্ট হবেনা। তা হল কিতাব ও রছুলের নিয়মনীতি। মেসকাত (১৭৭) মোয়াত্তা
বন্ধুগণ
এ হাদীছের দ্বারা বুঝা যায় যে, রছুলুল্লাহ (ছ) আমাদের জন্য পবিত্র কুরআন ও তার নিয়মনীতি ছুন্নাহ রেখে গেছেন। তাই কেবল কুরআন মান্য করা হলে আর সুন্নাহর দলীল হাদীছ না মানলে তো বিপথগামী হতেই হবে।
বন্ধুগণ খুলনা খালিশপুর হতে প্রচারিত ওয়ার্ল্ড আল কুরআন রিসার্চ সেন্টার নামের প্রতিস্থান হতে স্পষ্ট করে যে প্রচার পত্র বিতরণ করা হচ্ছে তাতে তারা ঘোষণা দিয়েছে যে, পবিত্র কুরআনই মানতে হবে, হাদীস মানা যাবেনা। এ প্রচার প্ত্রের ৬ প্ষ্ঠায় আরও বলা হয়েছে যে, হাদিস গ্রন্থ গুলো যেমনঃ বুখারি শরীফ, মোসলেম শরীফ, তিরমিজি শরীফ, আবু দাউদ শরীফ ইত্যাদি কোনটায় মানা যাবেনা। তাদের দাবি, হাদীস ধর্ম গ্রন্থ নয়, হাদিস দ্বারা প্রদত্ত কোন বিধানকে দ্বীনের দলিল হিসাবে/বিধান হিসাবে স্বীকার করা যেতে পারেনা। এই প্রচার উপস্থাপক ও সংকলক তৈয়াবুর রহমান, প্রকাশক অধ্যাপক আফজালুল হক বি এ অনার্স এম, এ, ও কাজী আব্দুর রাজ্জাক এ তিন মহা বিশারদই যৌথভাবে হাদীসের বিরুদ্ধে ঘোষণা দিয়েছেন এবং ঘোষণা দিয়েছেন- আল কুরআনে কেবল তিন ওয়াক্ত নামাজ যেমন ফজর, যোহর ও ইশার নামাজের ওয়াক্ত কোরআনে আছে, আছর ও মাগরিবের দু ওয়াক্ত নেই। তাই নামাজ কেবল তিন ওয়াক্তই পড়তে হবে এবং আছর ও মাগরিব পড়া যাবেনা। (নাউজু বিল্লাহ)
এতবড় ধৃষ্টাতাপূর্ণ কথা বলার পরও তারা আরও বলেছেন যে, ছালাত প্রতি ওয়াক্তে মাত্র ২ রাকাত ফরজ পড়তে হবে। দেখুন সূরা ৪; ১০২ এবং দিবারাত্রে ৩ ওয়াক্ত সর্বমোট ৬ রাকাত ফরজ সালাত পড়তে হবে।
তাদের এ নির্দেশনায় যোহরের ৪ রাকাত ফরজ নামাজই বাদ দিতে বলেছে। কিন্তু আমাদের এ কথা জানতে হবে যে ছুরা আছরার ৬৯নং আয়াতে যে আকিমিছ ছালাতা হতে ইলা গাছাকিল লাইল আয়াতে যোহরের পর আছর ও মগরিবের নামাজের প্রমান হাদীসে ছাবেত আছে তা বিশ্বের সকল তফছিল কারক ও আইন শাস্ত্রবিদগণ গ্রহণ করেছেন এতদ সত্তেও এ প্রচার পত্রে অস্বীকার করা হয়েছে। কুরআন ও ছুন্নাহর সমন্বয়েই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও নামাজ কায়েমের পদ্ধতি নিয়ম কানুন রয়েছে। যদি হাদীস নাই-ই মানা হয় তাহলে ঐ তিন ওয়াক্ত ফরজ নামাজের ৬ রাকাতই বা কি করে পড়তে হবে। তার কোন বিধান বা নিয়ম কানুন দেখানো হয়নি। এ ব্যাপারে অন্তত খুলনার আলেম গনের উচিৎ তাদের নামাজ পড়ার পদ্ধতি কেমন তা জনগনের সামনে দেখানোর জন্য সভার আয়োজন করা। তারা সমগ্র মুসলমানদের ধর্মীয় অনুস্থানের উপর যে কুঠারাঘাত করেছে পাঁচ ওয়াক্তের স্থলে তিন ওয়াক্ত এবং ১৭ রাকাতের ফরজ স্থলে ৬ রাকাত পড়া দাবিতে কিভাবে মোনাফেকদের আবিরভার ঘটেছিল তারা রছুলুল্লাহর হাদীস অমান্য করে শুধু কুরআন মানার দাবি করে। এ কথার দলিল হিসেবে মেশকাত গ্রন্থ থেকে একটি হাদিস পেশ করছি। যেমনঃ
হযরত আবু রাফে (রাঃ) বলেন, প্রেরিত পুরুষ (ছ) বলেছেন, আমি তোমাদের কাউকে যেন এমন না দেখি সে তার গদিতে বালিশ ঠেস দিয়ে বসে থাকবে আর যখনই তার কাছে একটি আদেশ পৌঁছবে যাতে আমি কোন বিষয়ে আদেশ করেছি অথবা নিষেধ করেছি, তখন সে বলবে আমি এসব কিছু জানিনে আল্লাহর কিতাবে যা পাব তারই অনুসরণ করব। -আবু দাউদ।
চলবে ------------------
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×