দৈনিক ুকণ্ঠ
ু ভড়াই
“ আমাদের কথামতো না চললে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লাগিয়ে দেব, জিব্রাল্টার প্রণালীর সেতু আর প্লেবয় ম্যানশনের সংস্কারকাজ বন্ধ করে দেব” বুয়েট শিক্ষক নেতাদের এমন হুমকিতে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। হুমকিদাতা জামায়াতী শিক্ষককে রক্ষা ও অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত করতে গভীর রাতে ক্যাম্পাসের একটি গোপন কুঠুরীতে জরুরী বৈঠক করেছে বুয়েট শিক্ষক সমিতির জামায়াত ও হিযবুত তাহ্রীরপন্থীরা। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন ফিদেল কাস্ত্রো, হুগো শাভেজ, আহমাদিনেজাদ , কিম জং ইলের মত সন্ত্রাসবাদী নেতারা। প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির পর এবার জাতিসংঘে সবার সামনে বারাক ওবামাকেও দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছে শিক্ষক সমিতির নেতারা। আর এ হুমকি দেয়ার ঘটনায় কঠোর এ্যাকশনে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে মার্কিন সরকার। এফবিআই এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, এটা এখন পরিষ্কার যে শিক্ষক সমিতির আন্দোলনের পেছনে চরমপন্থী সংগঠন কু ক্লাক্স ক্ল্যানের হাত রয়েছে। মূলত বুয়েটের আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই এই বহুবছর ধরে মৃত সংগঠনটি পুনর্জন্মলাভের চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে ভুল তথ্য দিয়েই এতদিন খেপিয়ে রাখা হয়েছিল। আন্দোলন করলে জিসম-২ সিনেমার ফ্রি ডিভিডি পাওয়া যাবে এমন আশায় শিক্ষার্থীরা এতদিন এই আন্দোলনে যোগদান করে আসছিল। এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ১৫০০ দিনেও বুয়েটের মৌলবাদী শিক্ষক নেতা গ্রেফতার না হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হিলারি ক্লিন্টন। ইন্টারপোল ধারণা করছে সবার চোখকে ফাকি দিয়ে ঐ শিক্ষক এখন তোরাবোরা পাহাড়ের গুহায় অবস্থান করছে। তাকে ধরার জন্য ন্যাটো বাহিনীর স্পেশাল টাস্কফোর্স এখন আফগানিস্তানে অবস্থান করছে। তাকে ধরতে পারলেই সরাসরি গুয়ান্তানামো বে এর কারাগারে পাঠানো হবে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী জি-৮ এর সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির লাগাতার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ বলেছেন, বুয়েটে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে যখন সরকার বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশের রাস্ট্রপ্রধানদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ব্যস্ত তখন শিক্ষামন্ত্রীর সম্মানে চলমান আন্দোলন ২ দিন বন্ধ রাখা নিঃসন্দেহে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ ঘটানোর আলামত। শিক্ষক সমিতির এহেন কাজকে ভয়ংকর অভিহিত করে তিনি বলেছেন, আমাকে সম্মান করেন ভালো কথা , তাই বলে আন্দোলন বন্ধ করবেন ক্যান। আসলে মার্কিন চাপের মুখে পরে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন আর আমার নামে সেটা চালিয়ে দিয়েছেন। আসলে আন্দোলন স্থগিত করার নামে আপনারা চূড়ান্ত ষড়যন্ত্র করার নীলনকশা আঁকছেন। আপনাদের প্ররোচনায় পরে আজকে মার্ক জাকারবার্গ তার সমস্ত ফেসবুকবাসীকে “বিব্রত” লোগো সংবলিত প্রোফাইল পিকচার দিতে বাধ্য করেছে। বুয়েটের সাবেক এ্যালামনাই, সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সমাধানের পথে এগোনোর ৪০ মিনিটের মধ্যে সভা ডেকে শিক্ষক সমিতি নেতারা গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুয়েটের মতো একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষকদের বিশ্বযুদ্ধের হুমকি পৃথিবীবাসী প্রত্যাশা করেন না। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই বুয়েট সমস্যার সমাধান হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বারাক ওবামা, হিলারি ক্লিন্টন, জে এডগার, ডিয়েগো ম্যারাডনা , আবু নাসের খান, ইভা রহমান , রুবাবা দৌলা মতিন , লোটাস কামাল প্রমুখ। এছাড়াও সম্মেলনকক্ষের জানালায় আইজুদ্দিন নামের এক শাখামৃগকে ঝুলে থাকতে দেখা যায়। শিক্ষকরা গণপদত্যাগ করলে বুয়েট কিভাবে চলবে সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে প্রখ্যাত প্রকৌশলী আঞ্জেলিনা জুলি , টম ক্রুজ, মেগান ফক্স, ব্রাড পিট এবং সানি লেওনিকে বিভিন্ন অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ভিসি। নিজের দেহরক্ষী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন মারিও বালতেল্লীকে। ছাত্রদের ক্যাম্পাসমুখী করারা নিমিত্তে উত্তর দক্ষিণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাছাইকৃত ছাত্রীদের জন্য বুয়েটে একটি শাখা চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুয়েট পরিস্থিতি সমাধানে সরকার ‘আপ্রাণ’ চেষ্টা করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, শিক্ষকরা আন্দোলন কর্মসূচী দুই দিনের বিরতি দিয়ে হুমকি অটুট রেখে তাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছেন। আন্দোলনরত শিক্ষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, তাঁরা আমাকে বোকা ভাবতে পারেন, যদিও তাদের ভাবনা ঠিক; কিন্তু আমেরিকা তো আর বোকা নয়। গণপদত্যাগ করার চেয়ে আর চরম কি হতে পারে? শিক্ষক সমিতির দু’দিনের আন্দোলন কর্মসূচী স্থগিতের ঘোষণাকে ‘বিশ্রাম’ অ্যাখ্যা দিয়ে ইভা রহমান বলেন, আমারও ১৫২ বছরের গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু আমি ত কোনদিন বিশ্রাম চাইনা। এদিকে বৈঠককালে শিক্ষক সমিতির জামায়াতপন্থী নেতা ও ডিন ড. জাকারিয়া এবং নেত্রী ও বিভাগীয় প্রধান জেবুন্নাসরিনের ওবামাকে প্রকাশ্য হুমকি দেয়ার ঘটনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির ঘটনার পর এ ধরনের ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। গ্রীস এবং মিশরে এই আচরণের প্রতিবাদে মানুষজন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। রয়টার্সের পাওয়া খবরে জানা গেছে, বৈঠকের প্রারম্ভেই উত্তেজিত বক্তব্য শুরু করেন ড. মুহাম্মদ জাকারিয়া। শিক্ষক সমিতির আল্টিমেটাম অনুযায়ী অনতিবিলম্বে ভিসি ও প্রো-ভিসিকে অপসারণের দাবি করে শিক্ষামন্ত্রীর দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে তিনি বলেন, ‘ অ্যাঁই কদবেল ! দাবি কিভাবে আদায় করতে হয় আমরা ভালোমত জানি। সরকার তাদের অপসারণ না করলে আমরা জিব্রালটার প্রণালীতে নির্মিত সেতু ও প্যারিস হিল্টন হোটেলের সংস্কারকাজ বন্ধ করে দেব। কবর থেকে হিটলার আর মুসোলিনিকে তুলে আনব। গোটা ইউরোপ অচল হয়ে পড়বে। মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। নতুন বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে। তাতে সরকার বাধ্য হবে দাবি মানতে। সবার উপস্থিতিতে এ ধরনের বক্তব্যে স্তম্ভিত হয়ে যান সকলেই। ভ্যাঁ করে কেঁদে দেন ইভা রহমান। আবু নাসের খান আকস্মিক চিৎকারে মূর্ছা যান। আর্তচিৎকারে শোকের মাতম তুলেন হিলারি। হুমকি শুনে বারাক ওবামা প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলেন। পরে শিক্ষামন্ত্রী নিজের প্যান্ট খুলে তাকে পরতে দেন। প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এসময়ে তিনি । সূত্র জানায়, হুমকি শুনে রীতিমত উত্তেজনায় কাঁপছিলেন তিনি। রাগের চোটে ফুলে ওঠা গলার রগ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিলো। তার গায়ের রঙ আস্তে আস্তে সবুজ বর্ণ ধারণ করছিল। মনে হচ্ছিল সাক্ষাৎ হাল্ক তার উপরে এসে ভর করেছে। তিনি ওই শিক্ষকের কাছে জানতে চান, আপনি কি আমাদের ভয় দেখাচ্ছেন? বিশ্বের সম্মানিত ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ করে এনে আমরা বসেছি সমস্যা নিরসনের উপায় খুঁজতে। আমি তো কোন রাজনীতিবিদকে ডাকিনি। আমি শিক্ষকদের ডেকেছি। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার আইন আছে, নিয়ম আছে। ইচ্ছা করলেই কেউ কিছু করতে পারে না। আপনি বিশ্ব অচল করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন? আমাদের প্রচেষ্টা ভন্ডুল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন? আপনারা শিক্ষকতা রেখে আর কত কী করেন? এখানে ঠিকাদারি নিয়ে আসছেন কেন? আমরা আপনাদের কাছ থেকে শিক্ষকসুলভ আচরণ আশা করি। শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর চুপসে কাচুমাচু হয়ে যান হুমকিদাতা শিক্ষক। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই উত্তেজিত হয়ে সরকারকে হুমকি দেন সমিতির এক নেত্রী। জানা গেছে, জামায়াতপন্থী এই নেত্রীর বাবা ছিলেন বিশ্বব্যাংকের চেয়ারম্যান। এদিকে এরই মধ্যে আন্দোলন থেকে সরে গেছেন অনেক শিক্ষক। এসব শিক্ষকের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। একাধিক শিক্ষক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরে সম্মত হননি বলে জানা গেছে। সোমবার শিক্ষক সমিতির বৈঠকের পর অনেক শিক্ষকের কাছ থেকে জোর করে ভয় দেখিয়ে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। নইলে তাদেরকে সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে তুলে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে। এরপরেও যারা সই করতে রাজী হননি তাদের সামনে মালেকায়ে হামীরাকে আনা হয়। হামীরা তার পোষা মাকড়সাকে বের করে আকরাম ! আকরাম ! বলে চেঁচিয়ে উঠেন এবং সাথে সাথে সবাই কাগজে সই করে দেন।
courtesy : ওয়াহিদ আকাশ
[এই প্রতিবেদনের সকল চরিত্র কাল্পনিক । বাস্তবে কেউ মিল খুজতে চাইলে নিজ দায়িত্বে খুঁজে নিবেন । ]
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



