somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মনুষ্যত্ব কি হারিয়ে যাচ্ছে ??

১৭ ই মার্চ, ২০১৪ রাত ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত সপ্তাহ ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা বলতে যাচ্ছি। যে ঘটনাটি আমাকে বাধ্য করলো পূর্বের কিছু ঘটনা মনে করতে। ঘটনাটি আমাকে যতটা নাড়া দিয়েছে হয়ত সবাইকে দিবে না। কেউ কেউ হয়ত নিত্য দিনের কাহিনী মনে করবেন, কেউ হয়ত বুঝেও এড়িয়ে যাবেন , আর কিছু মানুষের হয়ত আমার মতই মনুষ্যত্বে আঘাত লাগবে।

বুধবার রাত ২টা ১৫ মিনিটে এর দিকে বাইরে ধুমধাম শব্দ শুনে আমি খুব বিরক্ত হলাম। আমি তখনও জেগে ছিলাম, ঘুমানোর চেষ্টা করছিলাম। আমাদের বাড়ির পাশে নির্মাণ কাজ চলছে তাই মাঝে মাঝে রাতের বেলা ট্রাকে করে মালামাল আসে। আমি তেমনটি ভেবে ঘুমানোর চেষ্টা আবার করলাম। তারও ১৫ মিনিট পরে চিৎকার এর শব্দ শুনে ভয় পেয়ে উঠে গেলাম। উঠে জানালা খুললাম । শুনলাম অনেক মানুষ এর চেঁচামেচি আর একজন মানুষের আত্মচিৎকার।( আমার ঘরটা বাড়ির পেছনের দিকে)
দৌড়ে সামনের বারান্দায় গেলাম । গিয়ে দেখি আব্বু আম্মু ও উঠে বারান্দায়। নির্মাণাধীন বাড়ির নিচে একজন ছেলেকে অনেক মানুষ মিলে পেটাচ্ছে। আব্বু বললো মনে হয় চোর। রাত ২টা ৩০ মিনিটেও অনেক লোক ভিড় করে ছেলেটাকে পিটাতে দেখছে। কেউ কেউ চিৎকার করে বলছে আরও পিটাও। নিওন বাতির আলোয় আমি যে মর্মান্তিক দৃশ্য দেখলাম তা যেন আর কোনদিন না দেখি।
যে ছেলেটাকে পেটাচ্ছে তার বয়স বেশি হলে ১৬/১৭ হবে। তাকে একটা ৩০/৩৫ বয়সের লোক রড দিয়ে পেটাচ্ছে। লোকটা নিজের শরীরের সকল শক্তি দিয়ে পেটাচ্ছে। ছেলেটা বার বার চিৎকার করে বলছে মাফ করে দেন। শরীরটা লাফাচ্ছে, কাঁদছে, মাফ চাচ্ছে। কেউ প্রশ্ন করছে না কেন চুরি করলি বা কি চুরি করেছে। লোকটা মারতে মারতে মনে হয় ক্লান্ত হল তখন আর একটা ছেলে এলো পেটাতে । এর বয়স ২৪/২৫ হবে। বাঁশ দিয়ে পেটাতে শুরু করলো। আমি বারান্দা থেকে চিৎকার করে উঠলাম। ছেলেটার আত্মচিৎকার সহ্য হচ্ছিলো না আর। আব্বু ও চিৎকার করে বলো আরে মেরে ফেলবে নাকি। নিচে থেকে এক মুরুব্বি আব্বুকে বললো, মারতে দেন , না মারলে শিক্ষা হবে না।
আম্মু বললো তুমি ঘরে যাও, এগুলো দেখলে খারাপ লাগবে। আমি তাও দাড়িয়ে ছিলাম।
এবার ছেলেটাকে মারতে মাড়তে শুয়িয়ে ফেললো। ছেলেটার মাথা থেকে রক্ত পরা শুরু করলো , ছেলেটা কাঁদছে চিৎকার করে। তবুও ছেলেটার পেটে বাঁশ দিয়ে পেটাচ্ছে। আমি আবার চিৎকার করে উঠলাম আব্বু ছেলেটাকে মেরে ফেললো, আব্বু ছেলেটাকে বাঁচাও।
আশে পাশের বাড়ির সবাই ততক্ষণে উঠে গাছে কিন্তু কেউ কিছু বলছে না।
রক্তাক্ত অবস্থায়ও ছেলেটা মাফ চাইছে।
আব্বু আবার চিৎকার করে উঠলো আরে মেরে ফেলো না, পুলিশ এ দিও।
এবার পাশের বাসা থেকেও কিছু মানুষ বলো আব্বুর সাথে।
ছেলেটাকে পিটানো বন্ধ হল।
ততক্ষণে ছেলেটার হাড্ডি ভেঙ্গেছে কয়টা তা জানি না তবে ছেলেটাকে যে কেউ হাসপাতালে নিয়ে যায়নি তা জানি।

ভয়ংকর সত্য জানা গেলো যে ছেলেটা চোর ছিলো না। কিছু চুরি ও যায়নি সে রাতে।
ছেলেটি শিল্পকারখানায় চাকরি করে। রাতে কারখানা থেকে ফিরছিল , হঠাৎ পেছন থেকে হইহই শব্দে ভয় পেয়ে দৌড় দিয়েছিলো তাতেই ছেলেটিকে চোর ভেবে ধরেছিল।

এখন প্রশ্ন হল, যারা ছেলেটাকে পেটাল এরা কারা? তাদের কি চোরকে শাস্তি দেওয়ার অধিকার রয়েছে? আইন কোথায়? পুলিশ কোথায়? সমাজ এর বিচার কোথায়?

হয়ত পুলিশ এর উপর আস্থা নেই। কিন্তু সমাজ কোথায়?
চুরির শাস্তি কতটুকু?

খুব ছোটবেলায় আমি পুরান ঢাকায় দেখতাম চোর এর শাস্তি নাড়ু করে দেওয়া মায়েদের। আর ছেলেদের নাড়ু করে, বেধে রাস্তা দিয়ে ঘোড়ানো। আর তার আগে কিছু মার অনিবার্য উভয়ের ক্ষেতে।

খুব বেশি মনে পরে এক মেয়ের কথা। আমার বয়স তখন ৭/৮ । বাড়ির নীচতলায় এক মেয়েকে বেধে নিয়ে এসেছে। দুপুর বেলা। মেয়েটা শাড়ি পরা , সাথে একটা ২/৩ বছরের বাচ্চা। মেয়েটাও অল্প বয়সী। বার বার বলছে আমি চুরি করিনি। ওখানে অনেক মহিলা থাকতেও মেয়েটাকে কতগুলো লোক চর মারছিল মিথ্যা বলছে বলে। মেয়েটার বাচ্চাটা দূরে এক মহিলার কোলে ছিলো। মেয়েটা চুল অনেক বড় ছিলো। শেষ পর্যন্ত মেয়েটাকে নাড়ু করে দেওয়া হল। সেই ঘন চুল এখনও চোখে ভাসে।

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১৪ রাত ১১:২৮
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×