somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আনু মোল্লাহ
আন্‌ওয়ার এম হুসাইন। বাংলাদেশী লেখক। দৈনিক আমাদের সময়, দৈনিক বাংলা ও কিশোর বাংলায় গল্প লিখি। প্রকাশিত গল্পের বইঃ প্রত্যুষের গল্প (পেন্সিল)nউপন্যাসঃ এমনি এসে ভেসে যাই (তাম্রলিপি)।

অণুগল্পঃ বকুলের একলা বিকেল

০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাসার কাছাকাছি এসে বকুল মোবাইল টা অন করল। সে বেরিয়েছে বিকেল তিনটায়। সন্ধ্যার আগেই বাসায় ফেরার কথা। সন্ধ্যার পর এক সেকেন্ড দেরিও বাবা সহ্য করে না। বাবা এই সময় বাসায় থাকে না। মা থাকে। মাও সহ্য করে না। এখন বাবা চলে আসছে। আজ তুলকালাম কান্ড হবে। হোক। সে ইচ্ছে করেই দেরি করেছে। এমনকি রিয়া নিজেই তাকে তাড়া দিয়েছিল। তারপরও সে আটটা পর্যন্ত বসেছিল। আজ কয়েকদিন বাসাটাকে অসহ্য লাগছে। একবার মা এসে ঘ্যান ঘ্যান করছে। মার কথা শেষ হতে না হতেই ভাইয়া আসবে। উপদেশ, উপদেশ, উপদেশ। ছেলেটা খুব ভাল। ভাল টাকা পয়সা আছে। আমাদের মত গরীব মানুষের এর চেয়ে বেশি কি চাওয়ার আছে। সে তো বেশি কিছু চায়নি। এবং কখনো চায় না, চাইবেও না। গাড়ি, বাড়ি, শপিংয়ের স্বপ্ন সে দেখেনি কোন দিন। দুই ঈদে যে জামা জুতো পায় তাতেই তো সে সন্তুষ্ট ছিল। বেড়াতে যাওয়ার মধ্যে এক গ্রামের বাড়ি যাওয়া। একবার কলেজ থেকে সবাই কক্সবাজার গিয়েছিল। সে বলেছিল সমুদ্র তার ভয় করে। মিথ্যে কথা। কত দিন সে সমুদ্র দেখার স্বপ্ন দেখেছিন। পিকনিকের চাঁদা পাবে কোথায়। চাঁদার পরিমান তার বাবার বেতনের টাকার অর্ধেক। বাবা কে বললে দেয়ার সাধ্য নেই। কাজের মধ্যে যেটা হতো তার বাবা মন খারাপ করে বারান্দায় বসে থাকতো। তারপর অপরাধী মুখে বলতো মারে এবার তো খুব খারাপ অবস্থা। পরের বার যখন পিকনিক হবে আমি ব্যবস্থা করে রাখব। সে জানে কোনদিনই তাদের ব্যবস্থা হবে। অল্পতেই সে সব বুঝে। বুঝে বুঝে সে বড় হয়েছে। এই নিয়ে তার দুঃখও নেই। যা নেই, কিংবা যা হবে না তা নিয়ে দুঃখ না করার এই অভ্যাস তার কিভাবে হল, সে নিজে ও জানে না। কিন্তু এখন সত্যি সত্যি দুঃখের শেষ নাই। দুঃখ রাগ ঘৃণা একসাথে আসছে। কিন্তু কার প্রতি? কার উপর রাগ দেখাবে, কাকে এই ঘৃণা সেটা বুঝে উঠতে পারছে না। সবে মাত্র ইন্টারমেডিয়েট পাশ করে এই কঠিন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না সে। এখনো না। তার বাসায় ফিরতেই ইচ্ছে করছিল না। রিয়াদের বাসা থাকতে পারলে ভাল হত। সে শুধু একা একা কেন কষ্ট করবে? সবাই কষ্ট করুক। সবাই টেনশন করুক। ভাইয়া পড়তে পারবে সে পারবে না। রেজাল্টের পর বান্ধবিরা সবাই কে কোথায় ভর্তি হবে এই নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে, কোচিং করছে। ফরম উঠাচ্ছে। তার বেলায় ঢু ঢু। বাবার মালিক তাকে বুঝিয়েছে মেয়েমানুষের বেশি পড়ালেখা করা উচিত না। বিশেষ করে সে যদি ড্রাইভারের মেয়ে হয়। ড্রাইভারের মেয়ে বি,এ; এম,এ; পাশ করলে ছেলে পাওয়া মুশকিল হবে। ড্রাইভারের এম,এ পাশ করা মেয়েকে কে বিয়ে করবে? সুতরাং বিয়ে দিয়ে দাও। এবং সেই উদযোগী হয়ে ছেলে নিয়ে আসছে।

বাসায় ঢুকতেই কেমন জানি অস্বস্তিকর থমথমে অবস্থা। মরা বাড়ীর মত অবস্থা। সবাই কান্নাকাটি করে ক্লান্ত। এখন আর কাঁদতে পারছে না। এক জীবনে একদিন দেরী করে আসায় কি সবাই ধরে নিয়েছে সে মরে গেছে! এত ভাবনার সময় তার নাই। আস্তে আস্তে শোবার চলে যায় বকুল। একটু পরেই বাবা আসে। করুন মুখে দাঁড়িয়ে থাকে। আস্তে আস্তে বলে, “ আজকে কেন এত দেরি করলিরে মা।” বাবা কে বুঝতে পারে না বকুল। কি হয়েছে বাবার। ঢাকা শহরে দেরি হওয়া কোন ব্যাপার না। তার জন্য বকাঝকা হতে পারে। তার জন্য বকুল প্রস্তুতই ছিল। কিন্তু বাবার কেন এই আহাজারি!

আজ বিকেলে ছেলের মা ছেলেকে নিয়ে মেয়ে দেখতে এসেছিল। যে মেয়ে মোবাইল বন্ধ করে এত রাত পর্যন্ত বাইরে থাকে তাকে ছেলের বউ করতে রাজি না ছেলের মা।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট টেলিফোন কম্পানি হলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



গত ব্লগে টেলিফোন নিয়ে বলেছিলাম। মোবাইল থেকে টেলিফোনে কল দেওয়া বা রিসিভ করা যেতো না। শুধু টিএনটি একটিভ করা সিমে টেলিফোনে কল করা যেতো। বা টেলিফোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×