আম্মু,
আমার সালাম নিও, আশা করি ভালো আছ। পরম করুনাময়ের দরবারে প্রতি ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এই প্রার্থনা করি।আমাদের জন্য ভেবোনা আমরা খুব ভালো আছি। আমাদেও ঘরে আরেকটি মা আছে ভাই আছে বোন আছে চারিদিকে কত মানুষ। মন চাইলে তাদের সাথে কথা বলতে পারি খেলাধুলা করতে পারি। তুমি একা একা কিভাবে থাক। কবরে তোমার কাছে অন্ধকার লাগেনা? তুমি কিভাবে একা একা কবরে শুয়ে আছ। শুনেছি মানুষ মরে গেলে আকাশের তারা হয়ে যায়। মাঝে মাঝে রাতের আকাশের তারাগুলোর দিকে নির্বাক চোখে তাকিয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকি। ভাবি তুমি ঐ তারাদের মধ্যে আছ। অনেক খোঁজ খুঁজির পর একটি তারকাকে তোমার আত্মা ধরে নিই। পরের দিন আর ঐ তারকাকে আর খুঁজে পাইনা। আবার একেকদিন মনে হয় আগের দিন যে তারকাটাকে তোমার আত্মা বলে ধরে নিয়ে ছিলাম সেটা আসলে অন্য কারো আত্মা। যদি তুমি হতে তাহলে ঐ তারার পানে চেয়ে আমি শান্তি খুজে পাইনা কেন? । বিশ্বাস কর তুমি যখন বেঁছে ছিলে তখন তোমাকে দেখলে আমার দু’চোখ পৃথিবীর সবচেয়ে সিগ্ধ মুখ খানা দেখছে বলে মনে করত। কেমন যেন শান্তিতে সারা মন ভরে উঠত। স্কুল থেকে যখন ফিরতাম ঠিক দুপুর গড়াল বলে। লোকজন খেয়ে দেয়ে রেস্ট নিচ্ছে। পথ ঘাট ফাঁকা । ছোট বেলায় ভুত বিশ্বাস করতাম জানো? ভাবতাম যদি আমাকে যদি ভুত ধরে নিয়ে যায় অথবা খেয়ে ফেলে। । অজানা ভয়ে গা ছমছম করে উঠত। দুর থেকে যখন দেখতাম বাড়ির দক্ষিন পাশে কোন একটি গাছের সাথে হেলান দিয়ে তুমি আমার পথের পানে চেয়ে আছ তখন আমার সব ভয় কেটে যেত। আনন্দে মনটা ভরে যেত। আস্তে আস্তে হাঁটতাম আর দেখতাম তুমি কী করছ। তখন খুব বেশি কিছু বুঝতে পারতামনা। এখন কিছুটা অনুমান করতে পারছি তুমি হয়তো ভাবতে তোমার ছেলে একদিন অনেক বড় হবে। লাল টুকটুকে একটা বৌ দেখে তোমার ছেলের বিয়ে দেবে। ঠিক বলিনি মা তুমি এসব ভাবতেনা? কাছে এসে তোমাকে তোমাকে জড়িয়ে ধরে বলতাম তুমি কেন এখানে দাঁড়িয়ে থাক মা? তুমি বলতে বাহ-রে তোকে স্কুলে পাঠিয়ে আমি বুঝি নিশ্চিন্ত থাকি।তুই স্কুল থেকে ফেরার আগে বুঝি আমার খাবার মুখে আসে। আমার চোখে তখন কেন যেন পানি চলে আসতো। তুমি আঁচল দিয়ে আমার চোখের পানি মুছে দিতে। মাঝে মাঝে তোমার কষ্ট দেখে আমার যেন আরো বেশি কষ্ট লাগতো । যেই তুমি আমাকে এত বেশি ভালোবাসতে সেই তোমাকে এত তাড়াতাড়ি হারাতে হবে ভাবতে ও পরিনি। তুমি কেন আমাদের ছেড়ে চলে গেলে। তোমার বুঝি যেতে ইচ্ছে করেনি। তোমাকে জোর করে নিয়ে গেছে বুঝি। তুমি এতদিন আমার একটু ও খোঁজ নাওনি। তোমার বুঝি এখন আর আমাকে মনে পড়েনা। আমি বুঝি কোন অন্যায় করেছি যার কারণে তুমি আমার উপর রাগ করে আছ। কী অন্যায় করেছি বলবেতো। আমার চিঠির জবাব না দিলে কিন্তু আমি আর কোন চিঠি লিখবো না। বল লিখবে। আমার জন্য দোয়া করবে। আল্লাহ তোমাকে ভালো রাখুক।
তোমার স্নেহের
রাসেল

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


