আম্মু,
লিপির শুরুতে তোমার অকমর্ণ ছেলের সালাম গ্রহণ কর। অনেক দিন ধরে তোমার চিঠির আশায় ছিলাম পাইনি। কেন তুমি আমার চিঠির উত্তর দাওনি। তুমি কি আমার উপর রাগ করে আছ? কী অন্যায় করেছি আমি না বললে বুঝব কী করে । নাকি তোমার লেখার একটু ও সুযোগ হয়না। আচ্ছা ঠিক আছে সুযোগ না পেলে লিখতে হবেনা। মা তুমি কি আমার কথা একবার ও স্বরণ করনা? জানো তোমাকে আমি একধম ভুলতে পারিনা। ভুলবো কী করে বল বাড়ির প্রতিটি পর্বে তোমার ছোঁয়া স্পষ্ট। তোমার হাতে লাগানো নারকেল গাছগুলো সব নারকেলে ভর্তি হয়ে আছে। কেমন সুন্দর লাগছে মা একবার যদি দেখতে!
কোন গল্পের বই পড়তে গেলে মনে হয় যেন তুমি নামাজের বিছানায় শুয়ে শুয়ে বলে যাচ্ছ আর আমি অবাক নয়নে তোমার দিকে চেয়ে কল্পনার রাজ্যে ভেসে যাচ্ছি। তুমি বুঝি জানতে যে তুমি তাড়াতাড়ি আমাদেরকে ছেড়ে চলে যাবে। তাই বুঝি এমন ব্যবস্থা করে গেছ যাতে তোমাকে ভুলতে না পারি। তুমি তো মাঝে মাঝে বলতে আমি মরে যাবো। তোর বাবা আরেকটি বিয়ে করবে ও টাকে তুই মা বলবি আমি কি তোর মা নাকি? আমি বলতাম ওটাতো মা হবেনা ওটা হবে সৎ মা। তোমার চোখে পানি এসে যেত তুমি বলতে এইটুকু ছেলে বলে কি !
তোমার কথাটাই সত্য হলো বাবা আরেকটা মা এনেছে। ওনাকে আমরা মা ই ডাকি। আমাদেরকে ভালোই আদর করে। কিন্তু কি জান তোমার ডাক শুনে যেই শান্তিটুকু পেতাম এই মায়ের আদরে ও তা খুজে পাইনা। মাঝে মাঝে কেন জানি তোমার মুখের রাসেল ডাক শুনতে খুব ইচ্ছে করে। তোমাকে একটু দেখার ইচ্ছে জাগে। যখন ক্লাশ শেষে বাড়ি ফিরে আসি অথবা কোন স্থান থেকে বেড়িয়ে আসি তখন তোমাকে একবার আম্মু বলে ডাকতে খুব ইচ্ছে করে। বিধির কাছে একটা জিনিস শুধু চাই তোমার চরন তলে পাই যেন ঠাঁই।
তোমার স্নেহের
রাসেল

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


