somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই নগরে...

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এই শহরের আগা-পাছা কিচ্ছু চিনি না আমি।

বাইনচোদের মতন একটা শহর। যেদিকে যাই সেদিকেই দেখি একই রকম মোড়, একই ফুটওভার ব্রীজ। সব রাস্তাগুলা একই। সব মানুষগুলাও একই। একজনের পাছার সাথে লাইগা লাইগা দৌড়াইতেছে আরেকজন মানুষ। একটা গাড়ির পাছায় আইসা ধাক্কা দিচ্ছে আরেকটা গাড়ি!

কি সুন্দর সুন্দর নাম! তরঙ্গ, বিহঙ্গ, প্রজাপতি, স্বাধীন। আরো বহুত। খেয়াল করলে দেখা যায়, সবগুলো গাড়ির সামনের দিক টেক পড়ে গেছে। পেছনের দিকও। ড্রাইভারগুলো সুযোগ পেলে একটা আরেকটার সাথে এমন বাড়ি দেয়, মনে হয় যেনো ইয়ে করতে চাইতেছে শালারা।

আমার চেনার মধ্যে চেনা, পান্থপথ সিগন্যাল থেকে ধানমন্ডি ৩২ এর মোড় পর্যন্ত। এইখানে আছে খুব বিখ্যাত স্কয়ার হস্পিটাল। রাস্তার দুইপাশে হসপিটালের লগে সমান্তরাল হইয়া আছে হাসপাতালের একটা নিজস্ব অবৈধ ফুটোওভার ব্রীজ। এই ফুটওভার ব্রীজ দিয়ে মরা রুগী, জ্যান্ত রুগী আর রুগীর আত্নীয়-স্বজন আসা যাওয়া করে। সাধারণের জন্য এই ব্রীজ নিষিদ্ধ। শালা নিষিদ্ধের উপর নিষিদ্ধ। হারামজাদার দেশে ব্যাপক মজা!

মুল স্কয়ার হস্পিটালের পাশ ঘেঁষে ধানমন্ডি ৩২ এর মোড়ের দিকে আধা মিনিট, বড়জোর পঁয়তাল্লিশ সেকেন্ড হাঁটলে হাতের ডানপাশে ‘ওলিও ড্রিম হেভেন’ হোটেল। এই হোটেলের ম্যানেজার তৌকির ভাই। হোটেলের লিফটে এগারো তলা উঠার পর হেঁটে বারো তলায় গেলে ছাদ। সুন্দর একটা ছাদ বাগান। বিভিন্ন রকমের ফুল। ফলের মধ্যে শুধু একটা পেয়ারা গাছ। বেচারা এতোগুলা ফুল গাছের ভিত্রে লজ্জাবতী গাছের মতন মনমরা হইয়া পাছা চুলকায়। একদিকে দুইটা আধামরা টাইপ পেয়ারা ঝুলে আছে। আর ছাদের সিঁড়িঘর থেকে বাম দিকে তাকালে ম্যানেজারের রুম। ওই রুমে তৌকির ভাই থাকেন।

আমরা যারা কারণে-অকারণে মাঝেমধ্যে হাইকোর্ট দেখতে আসি তাদের গন্তব্য ওলিও ড্রিম হেভেনের এই বারো তলার ম্যানেজারের রুম। রাত এগারোটা-সাড়ে এগারোটার দিকে আমরা চট্টগ্রাম শহর থেকে গাড়িতে উঠি আর সকালে এসে এই হোটেলের অপজিটে নামি। তারপর ধরেন, যে কয়দিন আছি সব ঝামেলা এই বড় ভাইয়ের উপর। এর মধ্যে আমরা যার যার কাজ সারি, কারো গার্লফ্রেন্ড-তালফ্রেন্ড থাকলে গিয়ে দেখা সাক্ষাৎ করে। আর প্রতিদিন তৌকির ভাই এখানে ওখানে নিয়ে খাওয়ান। রাতের বেলা বড় বড় পাদের মাধ্যমে ওইগুলা নির্গত হয়।

আমি যেহেতু এখানকার কিছু চিনি না, সেহেতু তৌকির ভাইয়ের সাথেই এখানে ওখানে যাই। ওইদিন গেলাম ধানমন্ডি ৩২ এ বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে। আশ্চর্য! বঙ্গবন্ধুর বাড়ি যে এখানে এতো কাছে জানতাম না। ওইদিন তৌকির ভাই বললো, “চল বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ঘুরে আসি। ভাইপোদের দেখানো দরকার।”
উনার ভাই-ভাবি আসছেন ছেলেদের ঢাকা শহর ঘুরে দেখাইতে। আমি বললাম, “হু। চলেন। আমিও যাইনি কোনোদিন।”
“কি বলস? বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে যাসনি?”
“হ ভাই। এখন কি আমার নামে ৫৭ ধারায় মামলা হবে নাকি?”
কবি তারেক সালমান যেহেতু ৫৭ ধারায় মামলা খায়া আটকায়া যাইতে লাগছিলেন, আমারও তেমন ভয় হয়, কিংবা ভয় ছাড়াই আমরা এমনে হাসাহাসি করি। ৫৭ ধারার মামলা বড় ঝামেলার মামলা মনে হয়। তারপর হোটেল থেকে নেমে আমরা ৩২ এর দিকে হাঁটা ধরি।

আমি ভাবি তৌকির ভাই রিকশা নিবেন। যেহেতু ঢাকা শহরে কোথাও থেকে কোথাও যেতে হলে রিকশা কিংবা সিএনজি নিতে হয় এবং ভাড়ার পরিমান রিকশায় হলে শ-দেড়েক অথবা সিএনজিতে হলে দুই-আড়াইশ এর নিচে হয় না সেহেতু আমি ভাবি আমরা এখন রিকশা কিংবা সিএনজি নিবো। তারপর সেই রিকশা বা সিএনজিতে করে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে যাবো।

কিন্তু তৌকির ভাই রিকশা কিংবা সিএনজি কোনোটাই না নিয়ে সোজা হাঁটতে থাকেন। আমার ভেতরে নতুন চিন্তা আসে। আমরা মনে হয় মোড় থেকে সিএনজি বা রিকশা নিবো। তারপর তৌকির ভাইয়ের পিছু পিছু আমরা মোড়ে যাই। মোড় পার হয়ে ওইপাশে যাই। তারপর আবার হাঁটতে থাকি। দুয়েক মিনিট হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ আমি আবিস্কার করি আমরা বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে চলে আসছি । আমি মনে মনে একটু হতাশ হই। বঙ্গবন্ধুর বাড়ি এত কাছে হলে কেমনে হইব? রিকশায় চড়লাম না, সিএনজিতে উঠলাম না!

আবার ভাবলাম উনার বাসা এতো কাছে না হইয়া দূরে কেমনে হইব? উনি নিজেও তো আছিলেন মাইনষের কাছে কাছের মানুষ। দরজা জানালা নাকি কোনোদিনও বন্ধ করতেন না। কে আসতেছে, কে যাইতেছে তার খোঁজ কারো কাছে নাই। একদিন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর প্রধান জেনারেল কাউ কানে কানে বললেন, “মি. প্রেসিডেন্ট, একটু সাবধানে থাকবেন। আপনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হইতেছে।”
বঙ্গবন্ধু কাউয়ের পিঠ চাপড়ে দিয়া বললেন, “আমি আমার মানুষকে চিনি জেনারেল। টেনশন করো না।”

সেই অতি পরিচিত মানুষের হাতে জাতির পিতা নিহত হলেন সপরিবারে। আমার ভেতরে কেমন যেন দুর্বোধ্য একটা কষ্ট হয়। কি অভাগা একটা জাতির মানুষ আমরা! বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ঢুকার জন্য টিকিট কাটতে গেলে আমাদের মোবাইল-টোবাইল সব রেখে দেওয়া হয়। সবাইকে এক লাইনে দাঁড় করিয়ে ছবিও তোলা হয় একটা। বের হওয়ার সময় এই ছবি দেখে চেক করা হবে আমরা এক সাথে যে কয়জন ঢুকছিলাম, সে কয়জন একসাথে বের হইতেছি কিনা। মৃত্যুর আগে যে মানুষটার কাছে আমরা ছিলাম একান্ত আপনজন, সেই মানুষটার স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি দেখতে গিয়ে কতো হ্যাপা। আমরা যেনো পরদেশি মানুষ!

হাতের বাম পাশ ঘেঁষে উঠতে গেলেই বেগম মুজিবের রান্নাঘর। তারপরে ঘুরানো-পেঁচানো সিঁড়ি। সেই সিড়ি দিয়ে আমরা উপরে উঠি। সুন্দর করে সাজানো বঙ্গবন্ধুর বিছানা। দরজায় কাঁচ দেওয়া। সবাই উঁকিঝুঁকি দিয়ে বিছানা দেখছে। আমি দরজার কিনারে ছিদ্র হয়ে যাওয়া বুলেটের যন্ত্রণা দেখি। আহা! এই বুলেটের কোনো না কোনো একটা উনার শরীরকে এফোঁড়-ওফোঁড় করছিলো। উনাকে যেই সিঁড়িতে হত্যা করা হলো, সেই সিড়িটা দেখি। শেখ রেহেনার রুম দেখি। উনাদের পরিধেয় কাপড়-চোপড় দেখি। তারপর বঙ্গবন্ধুর উত্তর পাশের বারান্দায় গিয়া দাঁড়াই। আমার কাছে অদ্ভুত লাগে। এই বারান্দায় দাঁড়িয়ে উনি ভাষণ দিতেন। মানুষের সাথে কথাবার্তা বলতেন। পাশের টেবিলে একটা ভিজিটর্স বুক। যার ইচ্ছা সে কিছু একটা লিখতেছে। হয়তো ভালোবাসার কথা কিংবা বেদনার কথা। আমার কিছু লিখতে টিকতে ইচ্ছে করলো না। মনে হলো কি লাভ! মানুষটা যদি আজো বেঁচে থাকতেন! আমার খারাপ লাগে। বুক ভার ভার লাগে। বের হয়ে যাইতে ইচ্ছে করে।

আমরা দলবদ্ধভাবে বের হইয়া আসি। তারপর ধানমন্ডি লেক ধরে আমরা হাঁটতে থাকি রবীন্দ্রসরোবরের দিকে। এখানে ছড়ায়া-ছিটায়া বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড বসে থাকে। তারা বাদাম খায় কিংবা খায় না। ঝগড়াঝাঁটি করে। ধরেন ঝগড়াঝাঁটিও করলো না, এমনেই হাতে হাত রেখে বসে থাকে। তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা হাঁটতে থাকি। তৌকির ভাই তার ভাইপোকে দেখায়, “ওইটা মঞ্চ। ওইখানে বসে মাঝে মাঝে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা গান গায়।” আমার মাথার ভিতরে হুড়হুড় করে বন্যা ঢুকে পড়ে। বন্যা গাইতে থাকে--ভালোবেসে সখী, নিভৃতে যতনে, আমার নামটি লিখো তোমার মনের মন্দিরে। বন্যার সাথে সাথে আমিও গাইতে থাকি।

রবীন্দ্রসরোবরে ঘুরাঘুরি শেষ হলে আমরা রিকশায় করে ধানমন্ডি ১০ এ যাই। ওখানে একটা রেস্টুরেন্ট আছে লায়লাটি নামে। লায়লাটিতে গিয়ে আমরা নান দিয়া গরুর ব্রেইন খাই। ‘সিজলিং বিফ ব্রেইন’ নামের কোনো খাবার খাইতে প্রথম প্রথম আমার অসস্থি হয়। মনে হয় মাইনষের মগজ খাইতেছি। কিংবা আসলে তেমন কোনো অসস্থি হয় না। হয়তো নামের কারণে এই রকম অসস্থি অসস্থি লাগে। গরুর মগজ ভুনা বললে, খাইতে যে রকম আরাম আরাম লাগে, ব্রেইন বললে ওই রকম ফিলিংস আসে না। বরং অপরিচিত অপরিচিত ঠেকে। পৃথিবীর সব অপরিচিত জিনিসেই আমাদের একটা অশ্রদ্ধা আছে । একবার আমার এক ফ্রেন্ডকে কি খাইছে জিজ্ঞেস করায় বলছিলো, সে করলা দিয়া শিং মাছ খাইছে। আমি কিছুক্ষণ হতভম্ব হইয়া তার দিকে তাকায়া ছিলাম। শিং মাছ দিয়া করলা খাইছে মানে? শিং মাছের মতন এত মজার একটা জিনিসের সাথে করলা মিশায়া নষ্ট করে ফেললো! পরে জানলাম, গোপালগঞ্জের ওইদিকে দেশি শিং দিয়া করলা বিশাল এক মজার আইটেম। অথচ, আমাদের চট্টগ্রামের দিকে কেউ কখনো ভুলেও শিং দিয়া করলা রান্না করবে না। শিং মাছ রান্না করা হবে টমেটো দিয়া রসা রসা করে। আর করলা রান্না হবে পেরুল বিচি কিংবা ডাল আর চিংড়ি দিয়া। নতুবা আলু দিয়া ভাজি। আরেকবার আমারে সে জিজ্ঞাস করছিলো খাওয়ার ব্যাপারে। বললাম, তিতা করলা দিয়া খাইছি। করলারে তিতা করলা বলায় সে কি ঝাড়ি! বলে, তিতা করলা আবার কি? করলা বলা যায় না? অথচ, আমাদের ওদিকে করলারে সবাই বলে তিতা করলা।

লায়লাটি থেকে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বাইর হইয়া তৌকির ভাইয়ে্র ভাই-ভাবী চলে যান হোটেলের দিকে। আমি আর টৌকির ভাই একটা রিকশা ঠিক করে রওয়ানা দিই টিএসসির দিকে। ওখানে জামাল ভাই আর জামাল ভাবী আছেন। তাদের সাথে দেখা করবো। এই টিএসসি জায়গাটা অদ্ভুত। এখানে এত ভিন্ন ভিন্ন রকম মানুষ, আর এত ভিন্ন তাদের আড্ডা! গ্রুপ গ্রুপ হয়ে আদডাবাজি চলে।কোনো কোনো গ্রুপ কথা বলতেছে সিনেমা নিয়া, কোনো গ্রুপ কথা বলতেছে কবিতা নিয়া। কেউ কেউ কথা বলতেছে গল্প নিয়া। আবার কেউ গিটার নিয়া কিংবা গিটার ছাড়া গান-বাজনা করতেছে। আবার কোনো কোনো গ্রুপ কিছুই করতেছে না। হুদাই আড্ডাবাজি করতেছে। একদিন এক আড্ডায় ছিলাম। আড্ডার কার বিচিতে যেন ফোঁড়া উঠছে। ওইদিন সারাদিনই চললো বিচি নিয়া আড্ডা। আডডাবাজি করতে করতে কিছুক্ষণ পর আমার মনে হলো, জগতের একমাত্র মূল্যবান জিনিস সম্ভবত বিচি। যেন বিচির চাইতে গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় আর পৃথিবিতে নাই। বিচি নিয়া সে কি সিরিয়াস আড্ডা! মূলত টিএসসি ব্যাপারটাই এই রকম। এইখানে জগতের অতি গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়কেও প্রায় সময় হালকা করে দেখা হয়। আবার বিচির মতন অগুরুত্বপূর্ণ জিনিস নিয়াও সিরিয়াস টাইপ আলাপ-আলোচনা চলে।

প্রথমবার টিএসসিতে আইসা সবচাইতে বেশি অবাক হইছিলাম মেয়েদের সিগারেট খাওয়া দেইখা। লিপিস্টিক ঠোঁটের মেয়েরা কি সুন্দর মুখ গোল গোল কইরা সিগারেট খায়া বেড়ায়! আর সেইসব সিগারেট খাওয়া মুখগুলা বন্ধুদের মুখের উপর ধোঁয়া ছাড়ে। সেইসব ধোঁয়া উড়তে উড়তে সারা শহর ছড়ায়া যায়। এইসব ধোঁয়ায় নেশ নেশা লাগতে থাকে। পুরা শহর নেশাগ্রথ হইয়া পড়ে। লোকজন রাস্তাঘাটে জ্যাম লাগায়া দেয়। নেশার ছুটে এই গাড়ি ওই গাড়িরে গিয়া পিছন থেকে ধাক্কা দেয়। একজন আরেকজনরে বইলা উঠে, অই খাংকির পোলা। আরেকজনও জবাব দিয়া বসে, তুই খানকির পোলা, তর মায়রে চুদি!। এই রকম গালাগালি চলতে থাকে। বাসের ভিতরে লোকজনের মাথামুথা গরম হইয়া যায়। তারা ভাড়া নিয়া বাসের হেল্পারের সাথে ক্যাঁচাল লাগায়া দেয়। বেশির ভাগ সময় বাসের হেল্পার মামু মাইর খায়া বসে। মাঝেমাঝে যাত্রী-তাত্রী কম থাকলে হেল্পাররা উলটা দরজা বন্ধ কইরা প্যাসেঞ্জাররে বসায়া দেয়। এই রকম মাথা গরম কোনো এক ড্রাইভার আরেকজনের সাথে পাল্লা দিতে দিতে এমইএস ফ্লাইওভার থেকে নামতে গিয়া ক্যাঁচ কইরা রমিজ উদ্দিন স্কুলের এক পোলা আর এক মাইয়ারে চাপা দিয়া দেয়। পোলা আর মাইয়া চাপা খাওয়ার সময় ক্যাঁচ কইরা উঠছিল কিনা কেউ ঠিক মতন বলতে পারে না। তবে এক সাংবাদিক লেখে, ক্যাঁচ কইরা চাপা দেয়। মাননীয় নৌ পরিবহন মন্ত্রী কি যেন এক জাতীয় বিষয় নিয়া বক্তৃতা দেওয়ার সময় হঠাৎ করে তার ক্যাঁচ শব্দটা মনে পড়ে, এবং তিনি শব্দ কইরা হেসে উঠেন। এই নির্দোষ হাসি নিয়া সারা শহর পাগল হইয়া উঠতে থাকে!

টিএসসির সেইসব ছেলেমেয়েরা, যারা সিগারেট খায় এবং একজন আরেকজনের গায়ে ধোঁয়া ছাড়ে, তারা বলা নাই কওয়া নাই, হঠাৎ কইরা খেপে উঠে। তারা সবাই হাত ধরাধরি কইরা দাঁড়ায়া যায়। তাদের কেউ কেউ কান্না করতে থাকে। বাকিরা গর্জন দিয়া শ্লোগান ধেয়…
‘আমার ভাই মরলো কেন?
প্রশাসন জবাব চাই।”
এইসব গর্জনের ভিতর আমাদের রিকশা আর টিএসসি ঢুকতে পারে না। রিকশাওয়ালা বলে, “মামা নামেন। চলেন, সোলোগান দিই…” রিকশাওয়ালা কিসের শ্লোগান দিবে আমি ঠিক মতন বুঝে উঠতে পারি না। আমি আর তৌকির ভাই রিকশা থেকে নামি। রিকশা থেকে নেমে কি করবো দিশ পাই না। জামাল ভাইকে খোঁজার চিন্তা আমাদের মাথা থেকে আউট হইয়া যায়। আমরা ফুটপাতের একপাশে দাঁড়ায়া পোলাপাইনদের স্লোগান শুনতে থাকি। হঠাৎ খেয়াল করি, আমাদের রিকশাওয়ালাও স্লোগান ধরে…
“আমার ছেলে মরলো কেন?
প্রশাসন জবা চাই
জবাব চাই, জবাব চাই
আমার ছেলে মরলো কেন?””

আমি একবার রিকশাওয়ালার মুখের দিকে তাকাই, আরেকবার স্লোগানধারী পোলাপাইনদের মুখের দিকে তাকাই। এই শহরের মতিগতি আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারি না!


৪ অক্টোবর, ’১৯। কার্তিকের বিকাল।
মিরপুর, ঢাকা।



সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৮:৩৬
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×