1880 সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলো । গার্ফিল্ডের পক্ষে প্রচারনা চালালেন মার্ক টোয়েন এবং এই জন্য সাবেক ইউনিয়ন পক্ষের সর্বাধিনায়ক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট (1869-1877), জেনারেল ইউলিসিস গ্র্যান্ট এলেন হার্টফোর্ড শহরে । গ্র্যান্টের জন্য সংবর্ধনা সভায় বক্তৃতা দিলেন টোয়েন । গ্র্যান্টের সাথে বন্ধুত্ব জমে উঠল টোয়েনের ।
এর আগের বছর শিকাগোতে গ্র্যান্টের জন্মদিনেও বক্তৃতা দিয়েছিলেন মার্ক টোয়েন । অনেক বছর আগে যুদ্ধের সময় মিসৌরির বনে যদি দু'জনের দেখা হত তাহলে মার্ক টোয়েন লেখালেখির জন্য বেঁচে থাকতেন কিনা সন্দেহ আছে! যুদ্ধের সময় দুজন দুই পক্ষের ছিলেন আর টোয়েন দক্ষিনের লোক, যুদ্ধে তাঁদের পরিবার পরাজিত কনফেডারেট পক্ষকে সমর্থন করেছেন । সুতরাং এই বন্ধুত্ব খানিকটা বিস্ময়কর ।
সে যাই হোক 'দ্য প্রিন্স অ্যান্ড দ্যা পপার' বের হতে হতে 1881 এর শেষ হয়ে এল । ছাপল বস্টনের অসগুড । লিভি কাহিনীটাকে পছন্দ করেছিলেন খুব এবং দাবী করলেন এটার অঙ্গ -সজ্জায় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে । সুন্দর রঙীন ছবিসহ, ঝকঝকে কাগজে বাঁধাই হয়ে বেরোল বইটা । মার্ক টোয়েনের কোনো বই এত সুন্দরভাবে ছাপা হয় নি । বইয়ের কাহিনীটাও তিনি এতদিন ধরে যা লিখে এসেছেন তার বাইরের পটভুমিতে লেখা । তিনি বইটাকে, সুজি আর সারা ক্লিমেন্সকে উৎসর্গ করেছেন ।
বইটা যাকে বলে একদম নিঁখুত রোমান্টিক ধাঁচের নিটোল উপন্যাস । প্রথমে যাঁরা পড়েছিলেন তাঁরা ভেবেছেন ভিতরে নিশ্চয় কোনো স্বভাবসুলভ তামাশা করেছেন মার্ক টোয়েন । অনেকেই জিগ্যেসই করে ফেলেছিলেন 'হোয়্যারস দ্য জোক?' কিন্তু না, ঠাট্টা করার জন্য এ বই লেখেননি টোয়েন যদিও প্রচলিত সমাজ সম্বন্ধে ব্যাঙ্গ সুস্পষ্ট । টম স্য়্যারের মতই আরেকটা 'পারফেক্ট' বই ।
এ সময় খ্যাতি ও ধনসম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে অনুকুল অবস্থায় ছিলেন মার্ক টোয়েন । সুখী পরিবার, কোনো ঋণ নেই, চমৎকার একটা বাড়ি আর খামারের মালিক আর অন্তত ছয়টা বেস্ট সেলার বইয়ের লেখক । হ্যানিবালের সেই ভবঘুরে বাল সৌভাগ্যের মধ্য গগনবে অবস্থান করছেন তখন । মিসেস ক্লিমেন্সের নিজেও মস্ত সম্পদের মালিক ছিলেন । তাঁর বাবা, কয়লা ব্যাবসায়ী জারভিস ল্যাংডন যে এলমিরার সবচেয়ে ধনী লোকদের একজন ছিলেন তা তো আগেই বলেছি ।
হার্টফোর্ডের বাড়িটা সারাদিন গমগম করত মানুষজনে । এতো বেশি লোক আসত যে মার্ক টোয়েন এবকবার বলেছিলেন একটা ঘোড়ায় টানা ট্রাম কিনলে ভাল হয়, তাহলে ঘোড়ার গাড়ির পিছনে কম খরচ হবে! । অধিকাংশ দক্ষিনীদের মতই তিনি দরাজদিল-অতিথি পরায়ন মানুষ ছিলেন । এবং দুর্ভাগ্য-জনক ভাবে মার্ক টোয়েন ভুলে গেলেন একজন মানুষ মোটামুটি যতটা উন্নতি করতে পারে ততটা তিনি করেছেন, এবং আর বেশী টাকার পিছনে দৌড়ানো এখন বিপজ্জনক ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ৯:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



