ডঃ কামাল হোসেনের বঙ্গবন্ধু প্রেম এবং ইউরোপের ছদ্মবেশী ভিক্ষুকের গল্প
ডঃ কামাল হোসেন নিঃসন্দেহে একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব, কিন্তু দুঃখজনক ভাবে যথেষ্ট সুযোগ ও যোগ্যতা থাকার পরও তিনি একজন সর্বজন সমাদৃত গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্টিত করতে পারেননি। তাঁকে নিয়ে এই লেখাটি লেখার শুরুতেই আমি তাঁর সম্পর্কে জানা ইতিবাচক বিষয়গুলো লিখতে চাই।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইলেক্ট্রথেরাপি বিভাগের প্রতিষ্টাতা ডাঃ আহমদ হোসেনের সন্তান কামাল হোসেন মাত্র ষোল বছর বয়সে সেন্ট জর্জ কলেজ থেকে স্কলারশিপ লাভ করেন। বিখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পাস্ করা এই মানুষটি তাঁর রাজনৈতিক চিন্তা চেতনার শুরু করেন সেই অক্সফোর্ড অধ্যয়ন কালেই। আমেরিকা ফ্রান্স ও ইসরায়েলের যৌথভাবে পরিচালিত সুয়েজ যুদ্ধের বিরুদ্ধে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরলতম ধর্মঘটের তিনি ছিলেন নেতৃত্বে। ডক্টরেট এট ইন্টারন্যাশনাল লো' সম্পূর্ণ করেন নাফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন ও আস্থাশীল ডঃ কামাল হোসেন জীবনে দুইবার কারাবরণ করেন এবং ভাগ্যক্রমে তেরো বৎসর ব্যবধানে সেই কারাবরণের দুই সময়েই একই সময়ে প্রায় সমান ইস্যুতে তাঁর সাথে কারাগারে ছিলেন ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর ১৯৮৩ সালে বঙ্গবন্ধু তনয়া আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ডঃ কামাল হোসেন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান বা ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম প্রধানদের একজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিশ্বের অনেক নামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি শিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন সময়ে তিনি দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। ব্রিটিশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত সদস্য হিসেবে সেখানে রয়েছে তাঁর প্রচুর খ্যাতি। তিনিই পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতি সংঘের সদস্যপদ লাভ করে। জ্বালানি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সালিশ নিষ্পত্তিকারকদের অন্যতম ডঃ কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধু সরকারের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দ্বায়িত্বও পালন করেন।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের হয়ে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা ডঃ কামাল হোসেন ঠিক কি কারণে ১৯৯০ সালে আওয়ামীলীগ ত্যাগ করে গণফোরাম তৈরী করতে গেলেন সেটা আজ আর আলোচনায় না আসাই শ্রেয়। মোস্তাকরা আওয়ামীলীগ তথা বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল, আর ডঃ কামাল হোসেনরা নীরব থেকে সেই ষড়যন্ত্রে দিয়েছেন হাওয়া। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দীর্ঘদিন ডঃ কামাল হোসেন আওয়ামীলীগের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানদের অন্যতম ছিলেন কিন্তু ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফেরার আগে পর্যন্ত তিনি বা তাঁরা দলটাকে কোন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি হয়তো আজ আর তা স্মরণ করতে চাইবেন না। আজ ডঃ হোসেন সাহেব বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা বলতে বলতে তাঁর বক্তব্যের সিংহভাগ সময় ব্যয় করে দিচ্ছেন কিন্তু এই দেশের মানুষকে তিনি তাঁর আচরন ও কার্যক্রম দিয়ে অনেক আগেই বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন যে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে দলের দ্বায়িত্ব না নিলে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার এদেশে কখনোই হতো না। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতপরবর্তী সময়ে ডঃ কামাল হোসেনের মতো আন্তর্জাতিক ভাবে খ্যাত মানুষের আশ্চর্য রকম নীরব হয়ে যাওয়া এবং পরবর্তিতে সম্মানিত কাউন্সিলরদের সরাসরি সমর্থনের ভিত্তিতে জননেত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হবার ডঃ কামালের দল ছেড়ে বেরিয়ে আরেকটি দল গঠনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগকে দুর্বল করে দেবার চেষ্টায় এদেশের দেশপ্রেমিক জনতা বিমূঢ় হয়ে ভাবতে বাধ্য হয়েছে বঙ্গবন্ধু হত্যায় ডঃ হোসেন সাহেবের সরাসরি ভূমিকা না থাকলেও তিনি অখুশি হননি।
বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তিনি বরং নিজেকে বিকল্প বঙ্গবন্ধু করার চেষ্টা করছিলেন। দীর্ঘদিন নিজের একটি দল পরিচালনা করে দলের একজন ব্যক্তিকেও নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাতে ব্যর্থ ডঃ কামাল হোসেন এখন অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা গণতন্ত্র বা জনমানুষের রাজনীতির অপর নাম বঙ্গবন্ধু মুজিব। বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করা মানে বাংলাদেশকে অস্বীকার করা। তবে জনাব কামাল হোসেনের এই রিয়েলাইজেশনটাও কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসে নয়।
ঠিক যে কারনে তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আসাকে মেনে নিতে পারেননি ঐ একই কারণে তিনি এখন আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় চলমান থাকতে দিতে চান না। আর সেই কারনটা হচ্ছে ডঃ কামাল হোসেন সাহেবদের মিত্ৰজনদের যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জড়িত ছিল তাদেরকে রক্ষা করা এবং এখন সেই হত্যাকারীদের উত্তরসূরি বলে চিহ্নিত তারেক রহমান বলয় ও দেশ বিরোধী যুদ্ধাপরাধী জামায়াত চক্রকে সরকারের ন্যায় বিচারের হাত থেকে রক্ষা করে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় প্রতিষ্টিত করা।
ডঃ কামাল হোসেন বিজ্ঞ আইনজীবী, বিশ্ববিখ্যাত আন্তর্জাতিক সালিশ নিষ্পত্তিকারকদের একজন তিনি, বাংলাদেশের মানুষের বর্তমান মানসিকতা পড়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর বন্দনা গেয়ে মানুষকে মুগ্ধ করে বঙ্গবন্ধুর অসম্মানকারী, একুশে আগস্টে বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে হত্যার পরিকল্পনাকারী তারেক রহমানকে এদেশের রাজনীতিতে এনে পুনঃপ্রতিস্টা করতে চাইছেন। তিনি ১৫আগস্টের জাতীয় শোক দিবসে কেক কেটে উৎসব করে নকল জন্মদিন পালনকারী খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলাকে নস্যাৎ করে তাঁকে আবার প্রধানমন্ত্রী করে জঙ্গিবাদের অবাধ বিচরণ ভূমি করতে চাইছেন এই বাংলাদেশকে তাও বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে মানুষকে ধোঁকা দেবার মাধ্যমে।
ডঃ সাহেবের এই নাটক দেখে আমার খুব করে একটা গল্প মনে পড়ছে। আমি তখন যুক্তরাজ্যে থাকতাম, একদিন সন্ধ্যার কিছু আগে লন্ডনের হোয়াইট চাপল মসজিদের বিপরীত পাশের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম।হঠাৎ একটি ভীড়ের মধ্যে মানুষের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে এগিয়ে গিয়ে থ হয়ে গেলাম। সাদা চামড়ার ৩৮/৪০ বৎসরের একটি মানুষকে ঘিরে এই উত্তেজনা। তার অপরাধ সে মুসলিম না হয়ে নিজেকে মুসলিম পরিচয় দিয়ে ভিক্ষা করছে। আসলে দক্ষিণ ইউরোপের কিছু মানুষ আর আফ্রিকান আরব দেশগুলোর মানুষের গড়ন প্রায় একই রকম, তাই ঐ লোকটি ইউরোপিয়ান অমুসলিম হয়েও আরব মুসলিম সেজে ভিক্ষা করার চেষ্টা করছিল। বাঙালি সহ অন্যান্য দেশের মুসলমানদের জেরায় সে ধরা পড়ে যায়, সে মুসলিম নয় মুসলিম সেজে ভিক্ষা করছে। আমাদের কামাল সাহেবের অবস্থা হয়েছে সেরকম। তিনি বঙ্গবন্ধু প্রেমিক সাজার চেষ্টা করছেন ঠিকই কিন্তু সাধারণ মানুষের পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনায় ধরাও পড়ে যাচ্ছেন বারবার।
ডঃ কামাল হোসেন একজন আইনজীবী ,বাংলাদেশের বাস্তবিক অবস্থার ভিত্তিতে আমাদের খুব ভাল করে জানা আছে ভাড়া করা আইনজীবীরা কিভাবে টাকার বিনিময়ে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য করে দেন। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত ভাবে পছন্দের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জনাব সুলতান মোহাম্মদ মনসুর কিভাবে তাঁর মেধা ও বিবেককে বিক্রি করে দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে অসম্মানকারী, দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামির মুক্তির দাবিতে অনুষ্টিত সভায় উপস্থিত হতে গেলেন? শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলাকারী আজম জে চৌধুরী সুলতান মনসুরের ঘনিষ্ট বন্ধু , তাঁরই প্ররোচনায় আজম জে চৌধুরী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুই কুটি টাকা চাঁদা দাবির মামলা করেছে, সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের হাজারো ভক্ত সমর্থকের মতো আমিও সেটা বিশ্বাস করতে চাইনি কিন্তু পেট্রল বোমায় পুড়িয়ে শত মানুষ হত্যাকারী বি এন পি, বঙ্গবন্ধুকে যাচ্ছেতাই বলে অপমানকারী তারেক রহমান এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি অকৃতজ্ঞ ও জাতীয় শোক দিবসে কেক কেটে উৎসব পালনকারী খালেদা জিয়াকে পুনঃবার প্রতিষ্ঠিত করার সুলতান মনসুরের চেষ্টা আমাদেরকে দ্বিধান্বিত করে দেয়। আমরা ভাবতে বাধ্য হই স্বার্থের কাছে কেবল আইনজীবীরাই নতজানু হয়না, সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের মতো নেতারাও অনায়াসে নুয়ে যান।
ডঃ কামাল হোসেন নিশ্চিত ভাবেই আমার একজন প্রিয় মানুষ কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধীচক্রের সাথে তাঁর এই মাখামাখি ভাবতে বাধ্য করে খন্দকার মোস্তাক কিন্তু একজন আওয়ামীলীগেরই নেতা ছিলেন
জয়বাংলা ,জয় বঙ্গবন্ধু।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৯ ভোর ৫:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



