কিছু বিষয় রয়েছে যা নিয়ে তর্ক করা যেতে পারে তবে তা হতে পারে যেকোনো ভাবে যৌক্তিক পর্যায়ের। আবার কিছু বিষয় রয়েছে লেবাসের কল্যাণে তর্ক চলে না, কিন্তু দেখে বা শুনে বড়ই লজ্জিত হতে হয়। সমকালীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী রাজনৈতিক দল হচ্ছে জামায়াত ইসলাম বাংলাদেশ। আমরা অনেকেই জানি, এই দলটির জন্ম সম্মন্ধে, আমরা অনেকেই জানি এই দলটির নীতির বিষয়ে, পারত পক্ষে বলতে চাচ্ছিলাম না কিন্তু এদের ধর্মীয় অনুশাসনের বেড়াজালে ভন্ডামি গুলো দেখে না বলে পারছি না, আমার আজকের পোস্টের বিষয় বস্তু হচ্ছে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত কিছু ধর্মীয় ভন্ডামির নমুনা প্রদর্শন।
প্রিয় পাঠক, প্লিজ শুনে মোটেই বিচলিত হবেন না যে এই কথা গুলো ভিত্তিহীন পর্যায়ের। মূল তথ্যের লিঙ্ক ।
জামাতের ছাত্র সংগঠন শিবিরের কথা মালার প্রশ্ন সম্মলিত কিছু জওয়াব ও সওয়াল এইখানে তুলে ধরা হলো, দেখুন কিভাবে শিবির ধর্মীয় নাম বিক্রি করে আধুনিক ভন্ডামির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের কে তাদের পক্ষে টানছে,
তাদের ওই নোটে তরুণ প্রজন্মের মগজ ধোলাইয়ের জন্য একটা প্রশ্ন ছিল এইরকম,
জামায়াতে ইসলামী কি নারী নেতৃত্ব মেনে নেয়নি? তাহলে কেন চার দলে যোগ দিল?
যে প্রশ্নের তাদের দেওয়া উত্তর ছিল এইরকম,
১. ইসলামসম্মত তথা বিজ্ঞানসম্মত কারণে সার্বিক পরিসরে নারী নেতৃত্ব কাম্য নয়। সঙ্গত কারণেই জামায়াতে ইসলামীসহ কোন ইসলামী দলই সার্বিক পরিসরে নারী নেতৃত্ব পছন্দ করে না।
২. জামায়াতে ইসলামী নারীকে দেশের প্রধান করেনি। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক নারীকে নেত্রী নির্বাচিত করলে এ দায় জামায়াত নেবে কেন?
৩. ইসলামে পুরুষের উপর নারীদের নেতৃত্ব পছন্দনীয় নয়। আর বাংলাদেশ এখনও ইসলামী রাষ্ট্র হয়নি। এ কারণেই এখানে নারী নেতৃত্ব বিদ্যমান থাকা সম্ভব হয়েছে।
৪. পার্লামেন্টারী সিস্টেমে হয় পজিশন না হয় অপজিশন এ থাকতে হয়। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই নারীর প্রাধান্য থাকায় জামায়াত এখানে উভয় সংকটে পড়েছে। কারণ বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় দলেরই বর্তমান প্রধান হচ্ছে নারী।
৫. জামায়াতে ইসলামী চার দলে যোগ না দিলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা ছিল। তখনও নারী নেতৃত্বই বজায় থাকত। কাজেই চার দল গঠন করলেও নারী নেতৃত্ব, না করলেও নারী নেতৃত্ব। দুটোই তো মন্দ। জামায়াত সেজন্যই দুটো মন্দের মধ্যে যেটিকে অপেক্ষাকৃত কম মন্দ মনে করেছে সেটিকেই গ্রহণ করেছে (বাধ্য হয়েই)। কম মন্দটিকে গ্রহণ না করলে বেশি মন্দটিই বিজয়ী হত , গ্রহণ করতে হতো।
৬. জামায়াত বিএনপিতে যোগ দেয়নি। বিএনপিও জামায়াতে যোগ দেয়নি। জামায়াত বিএনপির প্রধানকে নিজ দলের প্রধান স্বীকার করে না। বিএনপিও জামায়াতের আমীরকে নিজ দলের আমীর মনে করে না। কাজেই একথা বলা যায় না যে জামায়াত খালেদা জিয়াকে নেত্রী হিসেবে মেনে নিয়েছে।
৭. একসাথে চলা মানেই নেতৃত্ব মেনে নেওয়া নয়।
৮. শক্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশীয় সিস্টেমের বাইরে চলা কঠিন, কখনও কখনও অসম্ভবও বটে।
৯. বিএনপিতে যোগ্য যোগ্য পুরুষ থাকার পরও তারা যদি কোন নারীকে দলীয় প্রধান নির্বাচন করে তবে সে দায়-দায়িত্ব বিএনপির; জামায়াতের নয়।
১০. জনগণ জামায়াতকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে রায় দেওয়ার পরও যদি জামায়াত কোন মহিলাকে রাষ্ট্রপ্রধান বা আমীর বানাতো কেবল তখনই বলা যেত যে- জামায়াত নারী নেতৃত্বের পক্ষে।
দারুন লাগলো বিষয়টি, এইখানে জামাত-শিবির প্রকাশ্যে বলছে ইসলামে নারী নেত্রীত্ত্ব হারাম আবার এই জামাত-শিবির এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে নারী নেত্রীত্ত্ব কে হালাল পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ভাবার বিষয় হচ্ছে, আল্লাহর সৃষ্টি ইসলাম ধর্মের নাম নিয়ে যে দল শয়তান দ্বারা পরিচালিত হয় তাদের কাছে এইসব বিশ্লেষণের বাহিরে আর কোন ধরনের বিশ্লেষণ আশা করা যেতে পারে ? আমার খুব জানার ইচ্ছে ছিল পবিত্র ইসলাম ধর্মে কোন গ্রন্থে বা কোন আয়াতে ভোগের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল ? আর ক্ষমতার বিষয়ে বলতে গেলে তো বলা যায়, ক্ষমতার জন্য যদি এতই লালায়িত হতে হয় তাহলে আর ধর্মের নাম বিক্রি কইরা লাভ কী ? এতে করে কী ধর্ম কলঙ্কিত হচ্ছে না ? নারী নেত্রীত্ত্ব মানি না, নারী নেত্রীত্ত্ব হারাম ছিল একদা, এখন কী করে হালাল হয়ে গেছে ?
দেখুন আরেকটি বিষয়,স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে, উল্লেখিত তথ্যে তাদের প্রশ্ন ছিল
আপনাদেরকে রাজাকার বা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি বলা হয় কেন?
মগজ ধোলাই প্রকল্পে শিবিরের ভাষ্য হচ্ছে ছিল এই রকম,
আমাদের সবাই ১৯৭১ সালের অনেক পরে জন্মগ্রহণ করেছি। তাহলে আমাদেরকে যারা রাজাকার বলে তাদের মাথা কি ঠিক আছে? আসলে যারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করে, মুক্তিযুদ্ধই যাদের একমাত্র রাজনৈতিক হাতিয়ার তারাই মূলত আমাদেরকে রাজাকার বা স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি বলে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করে থাকে ।
(এখান থেকে নিচের প্রশ্নগুলো মুলত করা হয় জামায়াতে ইসলামীকে । তবুও সচেতন ছাত্র হিসেবে এসব বিষয়ে সবার নিজস্ব স্পষ্ট চিন্তাভাবনা থাকা উচিৎ । )
অভিযোগটা মুলত জামায়াতে ইসলামীর প্রতি করা হয় অন্ধভাবে । এ ব্যাপারে জামায়াতের বক্তব্য হলো-
১. জামায়াতে ইসলামীর নেতারা পাকিস্তান আমলেও সরকারী অন্যায় ও অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে, জেলও খেটেছে।
২. জামায়াত নেতৃবৃন্দ মনে করেছিলেন, শুধু অস্থানীয় শোষকদের তাড়ালেই হবে না। অস্থানীয় শোষকদের স্থান যদি স্থানীয় শোষকেরা দখল করে তাহলে স্বাধীনতার সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।
৩. একটি ইসলামী দল হিসেবে দীর্ঘদিনের ইসলাম বৈরী ভারতের নেতৃত্বে যুদ্ধে অংশ নেওয়া আদর্শগত কারণেই সম্ভব হয়নি।
৪. তিনদিকে ভারতবেষ্টিত বাংলাদেশ তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে মুক্ত হলে প্রকারান্তরে ভারতের খপ্পরেই পড়তে হবে- এ আশংকা করেছিলেন জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। আজকের ভারতের আচরণই প্রমাণ করে সে আশংকা অমূলক ছিল না। জামায়াত নেতৃবৃন্দের মতে, ভারতের খপ্পরে পড়ার ঝুঁকি না নিয়ে স্বায়ত্তশাসন দাবি করাটাই ছিল বুদ্ধিমানের কাজ।
৫. জামায়াত দলগতভাবে ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেনি কিন্তু জামায়াতের বহু লোক ব্যক্তিগতভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। এখনও বহু মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তান জামায়াত ও শিবিরের সাথে জড়িত আছেন।
৬. বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে কোন দেশের পক্ষ থেকে হামলা হলে তা ভারত থেকেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কাজেই যারা ভারতবিরোধী তারাই মূলত স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। আর যারা ভারতের ভক্ত তারা ভারতের আক্রমণের প্রতিবাদ করতে চাবে না বিধায় তারাই স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি।
আমার বক্তব্য হচ্ছে ঠিক আছে আমাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে তাই এইগুলো বলছি। কিন্তু যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দেশ বিরোধী কাজ করেছে, নিরীহ বাঙালিদের পাকিস্তানীদের হাতে তুলে দিয়েছে তাদের পক্ষ নিয়ে লড়াই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া এটা কোন ধরনের দেশপ্রেম এর নমুনা হতে পারে ? জামাতের ভন্ডামির ভাষায় হতে পারে ইসলামী ধর্ম মতে অমুসলিমরা কখনো মুসলিমদের বন্ধ বা সুভাকাংখি হতে পারবে না, কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া ভারতে গিয়ে যখন শিব সেনাদের প্রসাদ খেয়ে আসলেন, তারপরেও কী করে এখনো জামাত বিএনপি নামক দলটির সাথে বন্ধন অটুট রেখেছে ? এটাকে কোন ধরনের ভন্ডামির সাথে তুলনা করা যেতে পারে ?
দেখুন আরেকটি বিষয়, তালেবান জঙ্গি নিয়ে জামাত-শিবিরের মতাদর্শ কী বলে, তালেবানদের আপনারা কি দৃষ্টিতে দেখেন? তারা কি আপনাদের আদর্শ? উত্তর তাদের ভাষায়, ছিল এই রকম আমরা তালেবান হতে যাব কোন দুক্ষে ? তবে হা বর্তমানে তালেবানরা প্রচন্ডভাবে মার্কিন বিরোধী। আমরাও মার্কিনীদের অপকর্মের বিরোধী। বুঝুন ঠেলা, জামাত-শিবির তালেবান না, কিন্তু তালেবান দের সাথে আদর্শগত মিল রয়েছে। তার মানে কী দাড়াচ্ছে ?
বোমা হামলার বিষয়ে একটি গাজাখুরি প্রলাপ শুনুন, বোমা হামলার সাথে শিবিরের কোন সম্পর্ক আছে কি? তাদের নিজেদের উত্তরে দেওয়া রয়েছে যা আমরা এখনো শুনিনি, জেএমবির জনশক্তিদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যে এও জানা যায় যে তাদের পরবর্তী টার্গেট ছিল তাদের ভাষায়- 'ওলামায়ে ছু'।জামায়াতের সাঈদী সাহেবও নাকি তাদের টার্গেটে ছিল।
আরও অনেক বিস্তারিত কথা রয়েছে যা শুনে মনে হয়েছে আল্লাহ যেন তাদের শুধু হেদায়েত দান করেন, এইসব ঘৃণিত অপকর্ম থেকে বিরত থাকার জন্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



