আমরা প্রতিদিন কত না কত ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, আইন এর সাথে পরিচিত হচ্ছি। যা বলে লিখে শেষ করা হয়ে উঠে না। আজকে আমরা আলোচনা করব, এমন একটি বিষয় নিয়ে যা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বলা যেতে পারে, প্রিয় সকল পাঠক বৃন্দ আমি যদিও ব্লগে নতুন তবু আমার প্রচেষ্টা থাকবে আপনাদের সাথে ভিবিন্ন বিষয়ের মজার মজার খবর, তথ্য শেয়ার করা। সাথে রাজনৈতিক জনগুরত্ত্বপূর্ণ ইস্যু গুলো অবশ্যই থাকবে, তবে আমার মূল লক্ষ আপনাদের সঙ্গী হয়ে আপনাদের সাথে থাকা।
আসুন আজকের আলোচনার বিষয়ে গল্প করি, একটি সংবাদ পত্র সুত্রে জানতে পেরেছি, নিজের বউ কে নাকি অবলীলায় পিটানো যায় তবে কিছুটা শর্ত সাপেক্ষে। আমরা জানি যে, আইন নাগরিক জীবন, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সমাজের ভিত্তি নির্মাণের হাতিয়ার। ৩৫০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল লিখেছিলেন,আইনের শাসন যে কোন ব্যক্তিশাসনের চেয়ে ভাল। আসলে কী তাই ?
আইনের চোখে সবাই সমান হলেও দেশ ভেদে আইনের ভিন্নতা দেখা যায়। দেশ-বিদেশে এমন কিছু আইন আছে যেগুলো অদ্ভুত বলে বলা যেতে পারে, আসুন একটু একটু করে দেখি, সেইসব আইন গুলো,
যেমন ধরা যাক হংকংয়ের কথা। সেখানে স্ত্রী পরকীয়া করলে স্বামী তাকে খুন করতে পারবে। তবে শর্ত একটাই, খুন করতে হবে খালি হাতে। আবার জাপানে কোনে মেয়েকে প্রণয়ের প্রস্তাব দিলে আইন অনুসারে মেয়েটি না বলতে পারবে না। তাদের প্রতিবেশী আরেক দেশ, থাইল্যান্ডে দিকে দেখলে, থাইল্যান্ডে ৩০ বছরের বেশি বয়সি অবিবাহিত নারী দেশের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। দেখুন কী অবস্থা তাদের।
এইবার আসুন কিছুটা অন্য দিকে, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় নতুন দেশ সামোয়াতে নিজের বৌয়ের জন্মদিন ভুলে যাওয়াটাই বে-আইনি।
পশুপালন পাশ্চাত্য-প্রাচ্যে খুব চলে। গৃহপালিত পশুরু নামকরণও হয়। এর তালিকায় শুকরও রয়েছে। কিন্তু ফ্রান্সে শুকরের নাম নেপোলিয়ান রাখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় মেয়ের বাসরঘরে তার মায়ের (বেঁচে থাকলে) উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
খোদ আমেরিকার কিছু অদ্ভুত আইনের ব্যবহার দেখি, কেমন হয় তাদের আইন, আমেরিকার অঙ্গরাজ্যগুলো চলে নিজস্ব আইন, রীতিপদ্ধতিতে। এক রাজ্যের আইন অন্য রাজ্যে মানার প্রয়োজন নেই। আর নিজস্ব আইন থাকায় কেন্দ্রের আইনও তোয়াক্কা করে না লোকে।
কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের রয়েছে নিজস্ব এক অদ্ভুত আইন। তা হচ্ছে যৌক্তিক কোনো কারণ না দেখিয়ে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করা যাবে না। রাজ্যের আইন এ কাজকে চুরির সামিল বলেই মনে করে। এবং এজন্য যে সাজা তা প্রতারণা বা ছিনতাইয়ের সাজার সমান।
ইন্ডিয়ানায় রোববারে গাড়ি বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয়।
আরাকানসায় মাসে দুইবার বউ পেটালেই দণ্ড। তবে একবার বৌ পেটালে আইনে আটকাবে না।
আর নেভাদায় বৌ পেটানো ধরা পড়লে আইন অনুসারে তাকে আধ ঘন্টা বেঁধে রাখা হবে। তার বুকে ‘বউ পিটিয়ে’ লেখা পোস্টার লাগিয়ে দেওয়া হবে।
আরিজোনায় সাবান চুরি করে ধরা পড়লে তার শাস্তি ওই সাবান দিয়েই নিজেকে ধুতে থাকবে যতক্ষণ না সাবান পুরো শেষ হয়।
শীতে তুষার জমে যায় রাস্তা-ঘাটে, আঙ্গিনায়। আর সেই তুষারে নেমে জমাট তুষার তুলে গোল্লা বানিয়ে ছুড়ে মারা একটি নির্দোষ খেলা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের কথা ভিন্ন। এখানে আইন করে বলা হয়েছে, শীতকালে কোনো শিশু জমে থাকা তুষার দিয়ে বল বানিয়ে গাছের দিকে নিক্ষেপ করতে পারবে না।
আর দেশটির দক্ষিণ প্রশান্তমহাসাগরীয় এলাকার ভুখন্ড গুয়ামের আইন হচ্ছে কোনো কুমারি মেয়ে বিয়ে করতে পারবে না। এখানে কিছু পেশাদার পুরুষ আছে যারা অর্থের বিনিময়ে মেয়েদের কুমারিত্ব মোচন করে। পরে তাদের দেওয়া সনদ দেখিয়ে মেয়েদের বিয়ে হয়।
এইসব আদভিউট আইন দেখে হাসতে হাসতে বেহুস হয়ে পড়েছি, যদিও বলার অপেক্ষা রাখে না, যার যার দেশের আইন তার কাছে বড়। আমার হাসি দিয়ে কিছু যাবে ও না, আসবে ও না। তবুও বললাম। শুভকামনা।
তথ্যসূত্র: এইখবরের লিঙ্ক ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



