somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবে পাব এই দিন?

১৩ ই জুলাই, ২০১২ সকাল ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের যে সকল প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ তারা তার ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেছে এই ধরনের ঘটনা আমি কখনো দেখিনি। কারন বাংলাদেশের মানুষের রক্তের সাথে মিশে আছে দুর্নীতি। আর দুর্নীতির কারনে তারা তাদের উপর দেশের কল্যাণে অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্র্থ হয়। কিভাবে দুর্নীতি মিশে আছে যদি বাস্তবে লক্ষ্য করি তাহলে দেখবো কোন পাবলিক লাইন যেমনঃ ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার, স্টেডিয়ামের গেট, বাস ও ট্রেনের টিকিট কাউন্টার গুলো সহ বিভিন্ন স্থানে সার্ভিস পাওয়ার জন্য লোকজন লাইনে দাড়িয়ে থাকে। তখন কোন ব্যক্তি লাইনের পেছনে থাকলেও পরে এসে লাইনে যোগ দিতে আসলে সে চিন্তা করে যেকোন উপায়ে লাইনে সামনে দাঁড়ানো লোকদের আগে কিভাবে সার্ভিস নেয়া যেতে পারে। কিন্তু যারা এইসকল চিন্তা করে তারা বুঝতে পারে না যে লোক গুলো সামনে দাঁড়িয়ে আছে তাদের পরে এসে তাদের আগে সার্ভিস নেওয়া একধরনের দুর্নীতি , যা আমাদের সকলের ভিতর লুকায়িত আছে। এমনি ভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দেশের বড় বড় সেক্টরে বিভিন্ন ভাবে মানুষ দুর্নীতির সাথে যুক্ত, তারা বুঝেও বুঝে না এটা একধরনের দুর্নীতি যা দেশের জন্য ক্ষতিকর ও দেশবিরোধী কাজ। দুর্নীতি যে একটি দেশের উন্নয়নের প্রতিবন্ধক তা অনেক সুবিধা ভোগি ব্যক্তিরা বোঝে না। এমনকি তাদের মনে দেশের প্রতি দয়ামায়া নেই বললেই চলে। আবার অনেক সময় তারা দেশবিরোধী কথাও বলেন। এ কথা না বললেই নয় যিনি সংবিধান রচয়িতা তার মুখ থেকেও অনেক সময় দেশবিরোধী কথা শুনা যায়। বাংলাদেশে এমন সময় এসেছিল যারা দুর্নীতির সাথে যুক্ত ছিল তাদের সকলকে আটক করা হচ্ছিল ঠিক ঐ সময় দেশের সংবিধান রচয়িতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন প্রেস ক্লাবে বলেছিলেন “দেশ গোল্লাই যাক আমি ড. কামাল হোসেন ঠিক থাকলেই হল”। একজন সংবিধান রচয়িতার মুখ থেকে এধরনের কথা শোভা পায়না। তাই আমার মাথায় ধরে না যারা দেশের শীর্ষ পর্যায়ে আছে তাদের ভিতর কোনটি বিদ্যমান- অযোগ্যতা, না দুর্নীতি, না ব্যর্থতা নাকি সকল অসৎকাজের প্রবণতা। যদি এই সকল প্রবণতা তাদের ভিতর থাকে তাহলে তাদের মাধ্যমে দেশ কি পাবে? তাই দেশকে কিছু দিতে হলে আমাদের সকলকে এই সকল অযোগ্যতা, দুর্নীতি, ব্যর্থতা ও সকল অসৎকাজের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বেরিয়ে আসতে হলে তাকে অবশ্যই পরিপূর্ণ মুসলমান হতে হবে কারণ পরিপূর্ণ মুসলমান ছাড়া ভাল মন্দ বুঝার ক্ষমতা থাকেনা । ধরি একজন পরিপূর্ণ মুসলিম সে যদি আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলে তবে সে ভাল বিবেকের কারনে বুঝতে পারে কোনটি ভাল কাজ আর কোনটি খারাপ কাজ। আর যদি সে শয়তানের আক্রমনে খারাপ কাজে লিপ্ত হয়ে যায় তাহলে শয়তান তাকে এমন ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং ব্রেন ওয়াস করে সে আর বুঝতে পারে না কোনটি ভাল আর কোনটি খারাপ কাজ। অনেক সময় পরিবেশগত কারণেও মানুষ ঐ পরিবেশের রীতিনীতি গ্রহণ করে থাকে যা পরিত্যাগ করা উক্ত পরিবেশে গড়ে উঠা মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। তেমনি ভাবে বাংলাদেশের পরিবেশ এমন যেখানে মানুষ বেড়ে উঠে দুর্নীতি, অত্যাচার, জলুম ও নির্যাতন এর মত পরিবেশে, ফলে পরবর্তিতে সে যখন কোন ভাল পর্যায়ে যায় তখন সে ঐ পরিবেশ থেকে যা শিখেছে সেই ভাবেই চলতে চায়। এমনকি কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের কারনেও মানুষ পরিবর্তন হয়। যদি কোন কর্মক্ষেত্রে বেশির ভাগ লোকই খারাপ পথের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাদের পাশে থাকা ভাল লোক গুলো ভাল থাকতে পারে না। ফলে একসময় ঐ ভাল মানুষ গুলো খারাপ পথে ধাবিত হয়। যা পরবর্তিতে ছাড়তে চাইলেও তাদের কারনে ছাড়তে পারে না । যেমন সরকারী প্রতিষ্ঠানের কথা বলি যেখানে ফাইলের কাজকর্ম হয়। সেখানে বেশির ভাগই মানুষ দুর্নীতির ভিতর নিমজ্জিত। ফলে ঐ সেক্টরে দুর্নীতির বাইরে লোক খুঁজে পাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য। এটার কারন আমি যেটা মনে করি সেটা হল ঐ সেক্টরে তেমন নজরদারী করা হয় না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় কোন মানুষ যদি বিশ্বাস করে আল্লাহ তার সকল কাজকর্ম দেখছেন এবং পরকালে তার ভাল কাজের বিনিময়ে জান্নাত ও খারাপ কাজের বিনিময়ে জাহান্নাম দিবেন। তাহলে ঐ ব্যক্তির দ্বারা খারাপ কাজ হবে না। কারন সে বিশ্বাস করে উক্ত কাজের প্রতিদান সে পাবে । তাহলে ঐ সমস্ত জায়গায় যেখানে দুর্নীতি হয় সেখানে যদি পর্যবেক্ষণ করার সৎ লোক থাকত যারা সারা বছরের শেষে তাদের ভাল কাজ কর্মের উপর প্রতিফল দিবে হতে পারে প্রমোশন, ইনসেনটিভ সহ উপহার সামগ্রী ও খারাপ কাজের জন্য ডিমোশন, বেতনকর্তন সহ শাস্তির ব্যবস্থা। তাহলে কিছুটা হলেও খারাপ পথ থেকে ফেরত আনা সম্ভব হত। সর্বপরি আমি দোষ দিব পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের। কারণ তারা সঠিক ভাবে পরিকল্পনা করতে পারে না এবং প্রশাসন চালাতে পারে না। সুন্দর পরিকল্পনা ও সঠিক পরিচালনাই পারে সঠিক পরিবর্তন আনতে। তাই আমি আমরা সকলে পরিবর্তনের কথা বলি। এমন কি এই কথা শ্লোগান হিসেবে আমরা ব্যবহার করি কিন্তু পরিবর্তন কারা হবে, যারা পরিবর্তনের কথা বলি তাদেরকেই পরিবর্তন হতে হবে। যেমনি ভাবে মহানবী (সাঃ) বলেছেন তুমি যে কাজ করনা অন্যকে উক্ত কাজের উপদেশ দিওনা এবং তোমরা ভালকাজ কর ও অন্যকে তার জন্য উপদেশ দাও। মূলত ব্যক্তি পর্যায়ে থেকে জাতীয় পর্যায় এমনকি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও মানদন্ডের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। যার গুনাগুন আমরা সহজেই বিচার করতে পারবো। আর সেই মানদন্ড গড়ে তুলতে পারে একমাত্র আল ইসলাম। যার মূলমন্ত্রই হল একধরনের সত্যবাণী। তাই আমরা যদি সত্যবাণীকে মূলমন্ত্র হিসেবে ধারণ করতে পারি তাহলে আমাদের অন্তরে জবাবদিহিতার মানসিকতা সৃষ্টি হবে। আর তা কাজ করবে ব্যক্তি পর্যায় হতে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত যা দুর্নীতি প্রতিরোধের মহা প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করবে। তাই যারা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে যেমন রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সহ অন্যান্য বড় কর্মকর্তা যদি নিজেকে পরিবর্তন করে তাহলে তারা পারে একটি সুন্দর পরিবেশ উপহার দিতে এবং দুর্নীতি মুক্ত দেশ গড়তে। তখন মন্ত্রীরা তাদের কাজ নিজে না পারলেও অন্যের সহযোগিতা নিবে তাও না পারলে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করবেন এবং উক্ত কাজ যারা পারবেন তাদেরকে দায়িত্ব দিবেন। এই পরিবেশ যদি বাংলাদেশের মানুষ উপভোগ করতে পারে তাহলে বাংলাদেশ একদিন উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারবে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×