প্রেম জিনিসটা যে কি তা ক্লাস সিক্স থেকেই বুঝে উঠতে শুরু করলাম।
প্রেম করতে দুজন লাগে। আমি আর একজন। সেই একজনটাই যখন পেলাম না তখন মনের সিন্দুকে প্রেমকে তালা দিয়ে রাখলাম তিন বছরের জন্য। কারণ তিন বছর পর আমি ক্লাস নাইনে উঠবো আর নাইনে উঠলেই আমাদের স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী ছেলেমেয়েদের এক রুমে বসিয়ে ক্লাস নেয়া হবে। তখন হয়তো বা প্রেম করার জন্য ক্লাসের একজনকে খুজে পাওয়া যাবে।
কিন্তু না। যখন ক্লাস নাইনে উঠলাম তখন বুঝতে পারলাম আমার আশা আটলান্টিক মহাসাগরের অথৈ পানিতে ডুব দিয়েছে। কেননা এমন কাউকে খুজে পেলাম না যার সঙ্গে আমার প্রেম করা চলে।
কি আর করা! আটলান্টিক সাগরে ডুবে যাওয়া আশা তুলে এনে মনের মধ্যে রেখে আবারও অপেক্ষায় রইলাম একটা প্রেয়সীর। অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে দেখলাম আরো দুটি বছর চলে গেল।
সামনেই এসএসসি পরীক্ষা। কাছা বেধে পড়ালেখার পর যখন পরীক্ষা দিতে হলে এলাম তখন মনে হলো কে যেন শানাই বাজাচ্ছে।
আমাদের স্কুলই এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র। আরো স্কুলের কেন্দ্রও আমাদের স্কুল। অর্থাৎ কয়েক স্কুলের ছাত্রছাত্রী আসে আমাদের স্কুলে পরীক্ষা দিচ্ছে দিতে। সেবারও এসেছিল। তার মধ্যে একটি সুন্দরী মেয়ে আমার সিটের সামনের সিটেই বসেছিল।
এতো দিন পর একটা পেয়েছি। কিন্তু প্রেম করার আগে তো মেয়েটার সঙ্গে কথা বলতে হবে। মেয়েটা সম্পর্কে সব কিছু জানতে হবে। তারপর তো প্রেম!
আমার হাত-পা কাপে। এই মেয়েটার সঙ্গে কথা বলতে গেলে যদি বেফাস কিছু বলে ফেলি তাহলে লজ্জায় পড়তে হবে। এই ভয়ে মেয়েটার থেকে দূরে দূরে থাকলাম।
একে একে পরীক্ষাগুলো দিতে থাকলাম। মেয়েটা আমার সামনের সিটে আর আমি তার পেছনে। মাঝে মধ্যে মেয়েটার সঙ্গে যে চোখাচোখি হয় না যে তা নয়। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। কারণ শেষ পরীক্ষা যখন দিলাম তখন দেখি সে আমার আগে পরীক্ষা দিয়ে হল থেকে বেরিয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর আমিও পরীক্ষা শেষ করে বেরিয়ে গেলাম এবং বাড়ির উদ্দেশে হাটা ধরলাম। স্কুলের গেইট অতিক্রম করার সময় দেখি মেয়েটা পাশেই দাড়িয়ে আছে। পাশ কাটিয়ে যখন চলে যাচ্ছিলাম তখন একটা মেয়েলি কণ্ঠে আমার আমার নামটা শুনলাম।
কৌতূহলী হয়ে কণ্ঠটার উৎসস'ল খুজলাম। খোজা শেষে দেখলাম তাকেই যে আমার সঙ্গেই পরীক্ষা দিয়েছে। এতো সুন্দর এবং প্রায় অচেনা মেয়ের মুখে আমার নাম শুনে কিছুটা আশ্চর্য হয়ে তার কাছে এগিয়ে গিয়ে বললাম, আমাকে কিছু বলছেন?
হ্যা, আপনার সঙ্গে কিছু কথা ছিল। চলুন, ওই পাশটায় একটু যাই।
আমি কথা না বাড়িয়ে বাধ্য ছেলের মতো তার পিছু নিলাম।
মেয়েটা আমাকে যে পাশটায় নিয়ে গেল সেখানটা একটু নির্জন।
আমি চিন্তা করছিলাম, আমাকে কেন সে এখানে নিয়ে এলো!
আমার চিন্তার অবসান ঘটিয়ে মেয়েটা বললো, আচ্ছা, আপনি এতো বোকা কেন? জানেন, আমি আপনাকে ভালবেসে ফেলেছি।
আমি অপ্রস'ত হয়ে বললাম, আমিও।
সঙ্গে সঙ্গে আমার গালে এসে পড়লো একটা চড়। এটাই বোধহয় অপেক্ষার চড়।
বিস্ময় কাটতেই দেখি, মেয়েটা হন হন করে হেটে চলে যাচ্ছে।
কি হলো, কিছুই বুঝলাম না।
শুধু বুঝলাম, মেয়েটি বড়ই আজব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


